একদিনেই সড়কে প্রাণ গেল ২০ জনের

  যুগান্তর ডেস্ক    ২৬ জুলাই ২০১৮, ২১:২৫ | অনলাইন সংস্করণ

সড়ক দুর্ঘটনা

দেশের পাঁচ জেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ২০ জন। এসব ঘটনায় আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন।

বৃহস্পতিবার সিলেটের ওসমানীনগরে ট্রাক-মাইক্রোবাস মুখোমুখি সংঘর্ষে ৬ জন, বরগুনার আমতলীতে বাস ও মাহেন্দ্রর মুখোমুখি সংঘর্ষে ৮ জন ও নারায়ণগঞ্জের বন্দরে অটোরিকশা উল্টে ১ জন নিহত হয়েছেন।

এছাড়া বুধবার রাতে কিশোরগঞ্জে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগে কলেজছাত্রসহ মোটরসাইকেলের ৪ আরোহী ও নওগাঁর নিয়ামতপুরে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১ জন নিহত হয়েছেন।

যুগান্তর ব্যুরো ও প্রতিনিধিদের পাঠানো প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানা গেছে।

ওসমানীনগর (সিলেট) প্রতিনিধি

সিলেটের ওসমানীনগরে ট্রাক-মাইক্রোবাসের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষে ৬ নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ৩ জন। বৃহস্পতিবার বিকাল সোয়া ৪টার দিকে উপজেলার সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের গোয়ালাবাজার ইউপির ইলাশপুর (বটেরতল) নামক স্থানে এ দুর্ঘটনাটি ঘটে।

নিহতদের মধ্যে নিহত আমির আলী (৪০) নামে একজনের পরিচয় জানা গেছে। তিনি মৌলবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার পশ্চিম লইয়ারকুল (সাতগাঁও) এলাকার জমির আলীর ছেলে। তিনি দুর্ঘটনাকবলিত মাইক্রোবাসচালক বলে জানা গেছে। অন্যান্য হতাহতদের পরিচয় জানা যায়নি।

পুলিশ ও ফায়ার ব্রিগেড সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার বিকাল সোয়া ৪টার দিকে সিলেট থেকে শ্রীমঙ্গলের উদ্দেশে ছেড়ে আসা মাইক্রোবাসটি সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের ইলাশপুর (বটেরতল) নামক স্থানে পৌঁছলে বিপরীত দিকে থেকে আসা দ্রুতগামী ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই এক শিশু ও নারীসহ ৪ জন মারা যায়।

গুরুতর আহত অবস্থায় ৫ জনকে ফায়ার ব্রিগেডের সদস্যরা উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে একজন এবং হাসপাতালে নেয়ার পর অন্য আরেকজন মারা যায়।

ঘটনার পরপর সিলেট-ঢাকা মহসড়কে প্রায় এক ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে।

ওসমানীনগর থানার ওসি আলী মাহমুদ সড়ক দুর্ঘটনায় ৬ জন নিহত হওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, নিহত একজন ছাড়া হতাহত আর কারো পরিচয় এখনও জানা যায়নি।

আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি

পটুয়াখালী-কুয়াকাটা মহাসড়কের আমতলী উপজেলায় মানিকঝুড়ি নামক স্থানে যাত্রীবাহী বাস ও মাহেন্দ্রার মুখোমুখি সংঘর্ষে শিশু ও স্কুল শিক্ষিকাসহ ৮ জন নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় ২ জন আহত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় এ ঘটনার পর পুলিশ লাশ উদ্ধার করে। আহত ২ জনকে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া ঘাতক বাসটি পুলিশ আটক করেছে।

এদিকে স্বজনদের দাবির প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসক লাশের ময়নাতদন্ত ছাড়াই পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার সকাল সোয়া ১০টার দিকে আমতলী মাহেন্দ্র স্ট্যান্ড থেকে তালতলীর উদ্দেশে ১০ জন যাত্রী নিয়ে চালক হানিফ মিয়া মাহেন্দ্রা নিয়ে তালতলীতে যাচ্ছিল। মাহেন্দ্রাটি পটুয়াখালী-কুয়াকাটা মহাসড়কের আমতলীর মানিকঝুড়ি নামক স্থানে পৌঁছালে কুয়াকাটা থেকে বরিশালের উদ্দেশে ছেড়ে আসা যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।

সংঘর্ষে মাহেন্দ্রা গাড়িটি দুমড়েমুচড়ে যায় এবং সব যাত্রী আটকা পড়ে থেতলে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই মাহেন্দ্রার যাত্রী চাঁন মিয়া হাওলাদার (৫৫), শানু হাওলাদার (৫২), স্কুলশিক্ষিকা সালমা আক্তার পপি (৩০), ২ মাসের শিশু ওলিউল্লাহ, রুস্তম আলী হাওলাদার (৪৫) ও আবুল ফকির (৬৫) নিহত হয়। পরে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে আহত মাহেন্দ্রা চালক হানিফ মিয়া (৪২), ও ফাহিমা বেগম (২৮) মারা যান। আহত জসিম উদ্দিনকে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। জাহিদুলকে আমতলী হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়।

পুলিশ ও দমকল বাহিনীর লোকজন নিহতদের লাশ উদ্ধার করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে হাজার হাজার মানুষ হাসপাতালে ভিড় করে। এ সময় স্বজনদের কান্নায় হাসপাতাল এলাকার পরিবেশ ভারি হয়ে উঠেছে।

খবর পেয়ে বরগুনা জেলা প্রশাসক (ভারপ্রাপ্ত) মো. আনোয়ারুল নাসের, উপজেলা চেয়ারম্যান জিএম দেলওয়ার হোসেন ও ইউএনও মো. সরোয়ার হোসেন হাসপাতালে ছুটে আসেন। স্বজনদের দাবির প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসক লাশের ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ স্বজনদের হাতে হস্তান্তর করেছেন।

জেলা প্রশাসক নিহত প্রত্যেক পরিবারকে দাফন কাজে ১০ হাজার টাকা অনুদান প্রদান করেছেন এবং আহতদের চিকিৎসা সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন।

নিহত চান মিয়া হাওলাদার ও শানু হাওলাদারের বাড়ি তালতলী উপজেলার ছোটবগী এলাকায় এবং চালক হানিফ ও রুস্তম হাওলাদারের বাড়ি শারিকখালী ইউনিয়নের চাউলাপাড়া গ্রামে, আবুল ফকিরের বাড়ি অংকুজানপাড়া গ্রামে ও ফাহিমা ও তার শিশুপুত্র অলিউল্লাহর বাড়ি শিকারীপাড়া গ্রামে এবং স্কুলশিক্ষিকা সালমা আকতার পপির বাড়ি আমতলী পৌর শহরের বাসুগী এলাকায়।

প্রত্যক্ষদর্শী নিজাম হাওলাদার জানান, বৃষ্টির মধ্যে বেপরোয়া গতিতে গাড়ি দুটি চালাচ্ছিল। ভাঙা রাস্তা ওভারটেক করতে গিয়ে গাড়ি দুটির মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এ সময় মাহেন্দ্রাটি যাত্রীসহ দুমড়েমুচড়ে যায়।

নিহত তারিকাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা সামলা আকতার পপির মামা মো. বশির উদ্দিন বলেন, সালমা মাহেন্দ্রাযোগে বিদ্যালয়ে যাচ্ছিল। পথিমধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় সে নিহত হয়েছে। সালমার তিন বছরের একটি শিশুকন্যা রয়েছে।

আমতলী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নুরুল ইসলাম বাদল বলেন, যাত্রীবাহী বাস ও মাহেন্দ্রার মুখোমুখি সংঘর্ষে শিশু, স্কুলশিক্ষিকা, মাহেন্দ্রা ড্রাইভার, যাত্রীসহ ৮ জন নিহত এবং ২ জন আহত হয়েছে। ঘাতক বাসটি আটক করা হয়েছে। চালক আলী মিয়া ও হেলপার পালিয়ে গেছে।

আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শংকর প্রসাদ অধিকারী বলেন, হাসপাতালে আনার আগেই ৪ জন মারা গেছেন। ৩ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। এর মধ্যে দুইজন ওই হাসপাতালে মারা গেছেন।

ইউএনও মো. সরোয়ার হোসেন বলেন, নিহত স্বজনদের দাবির প্রেক্ষিতে লাশ ময়নাতদন্ত ছাড়াই স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

বরগুনা জেলা প্রশাসক (ভারপ্রাপ্ত) মো. আনোয়ারুল নাসের বলেন, নিহত প্রত্যেক পরিবারকে ১০ হাজার টাকা অনুদান দেয়া হয়েছে। আহতদের চিকিৎসার জন্য সহায়তা দেয়া হবে।

বন্দর (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি

নারায়ণগঞ্জের বন্দরে অটোরিকশা উল্টে ইকবাল হোসেন (৩২) নামে এক গার্মেন্টস শ্রমিক নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বন্দরের দাসেরগাঁও বাসস্ট্যান্ডে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত ইকবাল হোসেন বন্দরের বনগন এলাকার মৃত আলতাজ উদ্দিন মিয়ার ছেলে। পুলিশ নিহতের লাশ উদ্ধার ও অটোরিকশাচালক রাকিবকে (৩০) আটক করেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মদনপুর থেকে একটি অটোরিকশা নবীগঞ্জে যাওয়ার পথে দাসেরগাঁও বাসস্ট্যান্ডে একটি মোটরসাইকেলকে সাইড দিতে গিয়ে রাস্তার উপরে উল্টে যায়। এতে অটোরিকশার যাত্রী গামের্ন্টস শ্রমিক ইকবাল হোসেন অটোরিকশার নিচে চাপা পড়ে। স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়ার পথে তিনি মারা যান।

বন্দর থানার এসআই হানিফ জানান, ইকবাল হোসেন কর্মস্থলে যাওয়ার সময় অটোবাইক দুর্ঘটনায় মারা যান। পরিবারের আপত্তির কারণে লাশ মর্গে পাঠানো হয়নি। অটোবাইক ও চালককে আটক আটক করা হয়েছে।

কিশোরগঞ্জ ব্যুরো ও কটিয়াদী প্রতিনিধি

কিশোরগঞ্জে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগে কলেজছাত্রসহ মোটরসাইকেলের ৪ আরোহী নিহত হয়েছে। বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে কটিয়াদী উপজেলার দড়িয়াকোনা এলাকায় ওই দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতেরা হলো- কটিয়াদী উপজেলার বোয়ালিয়া ইউনিয়নের চারিয়া গ্রামের জয়নাল আবেদীনের ছেলে সাব্বির (১৭), আয়াতুল্লাহর ছেলে মাছুম (১৭), কামাল মিয়ার ছেলে দিপু (১৫) ও নজরুল ইসলামের ছেলে অন্তর (১৬)।

এদের মধ্যে সাব্বির কিশোরগঞ্জের ওয়ালী নেওয়াজ খাঁন কলেজের এবং মাছুম বোয়ালিয়া তাহের নুর স্কুল অ্যান্ড কলেজের এইচএসসি প্রথম বর্ষের ও দিপু তাহের নুর স্কুলের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

কটিয়াদী থানার ওসি জাকির রাব্বানী জানান, দুর্ঘটনার সময় ঘটনাস্থলেই তিনজন নিহত হয়। গুরুতর আহত অপরজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সেখানে তিনি মারা যান।

নিয়ামতপুর (নওগাঁ) প্রতিনিধি

নওগাঁর নিয়ামতপুরে কাছে এক আত্মীয়ের লাশ দাফন করে বাড়ি ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় নিজেই লাশ হয়ে ঘরে ফিরলেন প্রহিত (নব) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আবুল কালাম (৩৩)। বুধবার রাত ৮টার দিকে নাচোল উপজেলার ভোলার মোড়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

তিনি উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের রসুলপুর বিরোলডাঙ্গা গ্রামের মৃত মোহবুলের ছেলে। শিক্ষকের এ অকালমৃত্যুতে তার পরিবার, শিক্ষকমহল ও স্কুলপাড়ায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

প্রহিত সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোলাম আজম সড়ক দুর্ঘটনায় তার সহকারী শিক্ষকের মৃত্যুর ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন।

নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, কালাম বুধবার রাতে তার আত্মীয় নচোলের মুর্শিদা গ্রামের খালার দাফন শেষ করে মোটরসাইকেলে করে বাড়ি ফিরছিল। ভোলার মোড়ে পৌঁছামাত্র বিপরীত দিক থেকে আসা একটি পাওয়ার টিলারের সঙ্গে তার মুখোমুখি সংঘর্ষ হলে তিনি সড়কে ছিটকে পড়েন।

নিয়ামতপুর থানার ওসি তোরিকুল ইসলাম জানান, স্থানীয়রা কালামকে উদ্ধার করে নাচোল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত সাড়ে ১১টার দিকে সেখানে তার মৃত্যু হয়।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter