বিমানবন্দর সড়কে শিক্ষার্থী নিহত : অভিযুক্ত ৪ চালক-হেলপার আটক

প্রকাশ : ৩০ জুলাই ২০১৮, ১২:৪৪ | অনলাইন সংস্করণ

  যুগান্তর রিপোর্ট

বাসচাপায় নিহত শহীদ রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের শিক্ষার্থী আবদুল করিম ও দিয়া খানম ওরফে মীম। ছবি-সংগৃহীত

রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে বাসচাপায় দুই কলেজশিক্ষার্থী নিহত হওয়ার ঘটনায় তিনটি বাসের দুই চালক ও দুই হেলপারকে আটক করেছে র‌্যাব-১।

সোমবার র‌্যাবের এক বার্তায় আটকের বিষয়টি জানানো হয়। তবে আটক ব্যক্তিদের নাম জানা যায়নি। 

র‌্যাব ১-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সারওয়ার বিন কাশেমও বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, রোববার দুপুরে দুর্ঘটনাটির পর রাতভর রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে চারজনকে আটক করা হয়।

গতকাল রোববার দুপুরে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের সামনের বিমানবন্দর সড়কে বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহত হন।

নিহত একজনের নাম আবদুল করিম, তিনি শহীদ রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়তেন। একই কলেজের আরেক শিক্ষার্থী দিয়া খানম ওরফে মীম। তিনি একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন।

বাসচাপায় আহত হন আরও ১৩ জন। এর মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, ঘটনাস্থলের পাশেই শহীদ রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজ। ঘটনার সময় ওই কলেজের শিক্ষার্থীরা রেডিসন ব্লু হোটেলের পাশ দিয়ে রাস্তা পার হচ্ছিলেন। অনেকে বাসের জন্য ফুটপাতে দাঁড়িয়ে ছিলেন।

এ সময় জাবালে নূর পরিবহনের একটি বাস এলে শিক্ষার্থীরা তাতে ওঠার চেষ্টা করেন। ওই সময় জাবালে নূর পরিবহনের আরেকটি বাস বাম পাশ দিয়ে ঢুকে শিক্ষার্থীদের চাপা দেন। এতে ঘটনাস্থলে দুই শিক্ষার্থী নিহত হন।

খবর পেয়ে প্রতিষ্ঠানের অন্য শিক্ষার্থীরা এসে সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন এবং বেশ কয়েকটি বাস ভাঙচুর করেন। পরে বিপুলসংখ্যক পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহতের প্রতিবাদে আজও বিমানবন্দর সড়কে অবস্থান নিয়েছেন বিভিন্ন স্কুল কলেজের শত শত শিক্ষার্থী।

তারা সড়ক হত্যায় জড়িত পরিবহনের মালিক, শ্রমিকদের কঠোর শাস্তি দাবি করছেন। পাশাপাশি দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুতে হাসতে হাসতে প্রতিক্রিয়া জানানোয় নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খানের পদত্যাগ দাবি করেন।