বরিশাল সিটি নির্বাচন : বিএনপিসহ ৪ প্রার্থীর ভোট বর্জন

প্রকাশ : ৩০ জুলাই ২০১৮, ১৫:২১ | অনলাইন সংস্করণ

  বরিশাল

বরিশাল প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন বিএনপির প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ার।ছবি-সংগৃহীত

নানা অনিয়মের অভিযোগ এনে বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন বিএনপির মেয়রপ্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ারসহ চার প্রার্থী। 

অন্যরা  হলেন- ইসলামী আন্দোলনের মেয়রপ্রার্থী ওবাইদুর রহমান, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) মেয়রপ্রার্থী মনীষা চক্রবর্তী ও বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির আবুল কালাম আজাদ।।

সোমবার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে বরিশাল প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন বিএনপির প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ার।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, গাজীপুর ও খুলনায় ভোটগ্রহণের আনুষ্ঠানিকতা পালন করা হলেও বরিশালে ভোট শুরুই করা হয়নি। ৭০-৮০টি কেন্দ্রে ভোট শুরু না হতেই ব্যালটে নৌকার সিল মেরে বাক্স ভর্তি করা হয়েছে। বিএনপি ও অন্য দলের কোনো প্রার্থীর এজেন্টদের ভোটকক্ষে ঢুকতে দেয়া হয়নি। 

সরোয়ার বলেন, আমি চারবার সাংসদ ও একবার মেয়র ছিলাম। কিন্তু বাংলাদেশের ইতিহাসে কোনো সরকারের আমলেই এমন নজিরবিহীন ভোট আমরা দেখিনি। এমন প্রহসনের নির্বাচন না করে এমনিতেই ঘোষণা দিয়ে নিয়ে যেতে পারত সরকার।

তিনি বলেন, আমরা আগেই বলেছিলাম- এখানে প্রধানমন্ত্রীর আত্মীয় প্রার্থী, তাই সুষ্ঠু নির্বাচন অসম্ভব। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী ও নির্বাচন কমিশনের আশ্বাসে আমরা আশ্বস্ত হয়েছিলাম। কিন্তু আমাদের আগের আশঙ্কাই আজ ঠিক হল।

সংবাদ সম্মেলনে সরোয়ার নৌকা প্রতীকে সিল মারা ১০-১২টি ব্যালট সাংবাদিকদের দেখিয়ে বলেন, সদর গার্লস স্কুল কেন্দ্রে এভাবে ব্যালটে নৌকার সিল মেরে বাক্স ভর্তি করা হয়েছে।

এ সময় সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস আক্তার জাহান, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি এবায়দুল হক চান, নগর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আনোয়ারুল হক, জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক হাফিজ আহমেদ প্রমুখ।

সরোয়ার ভোট প্রত্যাখ্যান করে এর প্রতিবাদে আঞ্চলিক নির্বাচন কার্যালয় ঘেরাও করার কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। 

অন্যদিকে ইসলামী আন্দোলনের মেয়রপ্রার্থী ওবাইদুর রহমান ও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) মেয়রপ্রার্থী মনীষা চক্রবর্তী ভোট বর্জন করেছেন। 
নির্বাচনে অনিয়মের প্রতিবাদে সমর্থকদের নিয়ে পৃথকভাবে মিছিল করেছেন তারা। 

এ সময় মনীষা গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে অভিযোগ করেন, তিনি সদর গার্লস স্কুল কেন্দ্রে গিয়ে প্রকাশ্যে নৌকা প্রতীকে সিল মারতে দেখেন। প্রতিবাদ করলে তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়। অভিযোগ জানানোর পরও এই কেন্দ্রে নির্বাচন এখনও চলছে। এই কেন্দ্রের মতো সব কেন্দ্রেই নৌকায় সিল মারা হচ্ছে।

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি মনোনীত মেয়র প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ ভোট কারচুপির অভিযোগ এনে ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন। বেলা দেড়টার দিকে বরিশাল প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই ঘোষণা দেন।

এদিকে জাতীয় পার্টির প্রার্থী ইকবাল হোসেন ১২৩টি কেন্দ্রর সবগুলোতে ভোট কারচুপির অভিযোগ এনে ভোট স্থগিত করে পুনরায় ভোটগ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। দুপুরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তিনি এই আহ্বান জানান।