সড়ক দুর্ঘটনা রোধে

যানবাহনের ফিটনেস জরিপে ১৫ সদস্যের কমিটি গঠনের নির্দেশ

প্রকাশ : ৩১ জুলাই ২০১৮, ১৭:০৪ | অনলাইন সংস্করণ

  যুগান্তর রিপোর্ট

ফাইল ছবি

সড়ক দুর্ঘটনা রোধে বিভিন্ন যানবাহনের ফিটনেস জরিপের জন্য অন্তত ১৫ সদস্যের একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ অনুসন্ধান কমিটি গঠন করতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। 

একই সঙ্গে তিন মাসের মধ্যে ওই কমিটির নিকট ফিটনেসহীন পরিবহনের তালিকা চেয়েছেন আদালত। 

এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে মঙ্গলবার বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও মো. আশরাফুল কামালের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। 

আদালত শুনানি করেন রিটকারী আইনজীবী তানভির আহমেদ। সঙ্গে ছিলেন অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আবু সাঈদ।

তানভির আহমেদ বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সচিব, বিআরটিএ চেয়ারম্যান এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সচিবের নেতৃত্বে অভিজ্ঞদের দ্বারা কমপক্ষে ১৫ সদস্যের একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ অনুসন্ধান কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। পরে ওই কমিটির দ্বারা ফিটনেসহীন পরিবহনের ওপর জরিপ করে তিন মাসের মধ্যে তা প্রতিবেদন আকারে আদালতে দাখিল করতে বলা হয়েছে।

তিনি বলেন, রিটের শুনানি নিয়ে ফিটনেসবিহীন যান চলাচল বন্ধে বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে ফিটনেসবিহীন যান চলাচল বন্ধে কেন নির্দেশনা দেয়া হবে না, রুলে তা-ও জানতে চেয়েছেন আদালত।  

চার সপ্তাহের মধ্যে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সচিব, স্বরাষ্ট মন্ত্রণালয় সচিব, বিআরটিএ চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ সড়ক নিরাপত্তা বিভাগের পরিচালক, বিআরটিএ ইনফোর্সমেন্ট বিভাগের পরিচালক ও পুলিশের আইজিকে এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।  

আইনজীবী বলেন, এ মামলার শুনানিকালে তারেক মাসুদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেয়া-সংক্রান্ত মামলার সিআইডি রিপোর্ট আদালতকে দেখিয়েছি। ওই রিপোর্টে গাড়ির ফিটনেসের অভাবের বিষয়টি উঠে এসেছে। তিতুমীর কলেজের ছাত্র রাজিবের মামলার ছবিও আদালতকে দেখিয়েছি। সে বাসটিও আনফিট ছিল। 

এছাড়াও গত ২৯ জুলাই রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের সামনের বিমানবন্দর সড়কে বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহত ও আহত হওয়ার সঙ্গে জড়িত বাসের ছবিও আদালতকে দেখিয়েছি। দুর্ঘটনার শিকার এসব বাসের একটিতেও ফিটনেস ছিল না। তাই এ বিষয়ে আদালতে রুল জারিসহ নির্দেশনা চাওয়া হয়।

তানভির আহমেদ বলেন, যানবাহনের লুকিং গ্লাস, ব্রেক লাইট, সিগন্যাল লাইট ঠিক নেই। এমনকি অনেক যানবাহনের অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক ফিটনেসও নেই। সংবিধান বলছে, আইনগত অধিকার ছাড়া কাউকে জীবন থেকে বঞ্চিত করা যাবে না। ফিটনেসবিহীন এসব যানবাহনের কারণে যেখানে-সেখানে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে। মানুষ প্রাণ হারাচ্ছে। এ অবস্থায় সংশ্লিষ্টদের নিষ্ক্রিয়তা চ্যালেঞ্জ করে রিটটি করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, সড়ক দুর্ঘটনা রোধে এর আগে গত ৯ জুলাই সংশ্লিষ্ট বিবাদীদেরকে নোটিশ পাঠান অ্যাডভোকেট তানভির আহমেদ। নোটিশে ১০ দিনের মধ্যে এর জবাব চাওয়া হয়। কিন্তু সে জবাব না পেয়ে তিনি হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন। গত ২৬ জুলাই হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এই রিট দায়ের করা হয়। সে রিটের শুনানি নিয়ে আদালত নির্দেশনাসহ রুল জারি করেন।