নতুন সড়ক পরিবহন আইনে যা থাকছে

প্রকাশ : ০২ আগস্ট ২০১৮, ০০:০৬ | অনলাইন সংস্করণ

  যুগান্তর ডেস্ক

এক বছর ঝুলে থাকার পর নতুন সড়ক পরিবহন আইনের অনুমোদন দিয়েছে আইন মন্ত্রণালয়। ছবি-সংগৃহীত

এক বছর ঝুলে থাকার পর নতুন সড়ক পরিবহন আইনের অনুমোদন দিয়েছে আইন মন্ত্রণালয়। 

গতবছর আইনের খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দিয়েছিল মন্ত্রিসভা।

রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনের মধ্যে নতুন এই আইনের অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

মন্ত্রিসভার চূড়ান্ত অনুমোদনের পর এটি তোলা হবে জাতীয় সংসদে।

কিন্তু কী থাকছে নতুন আইনে? ডয়চে ভেলের এক প্রতিবেদনে তা তুলে ধরা হয়েছে। 

শিক্ষাগত যোগ্যতা

আগের আইনে ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতার কোনো বাধ্যবাধকতা ছিল না। নতুন আইনের খসড়ায় ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার জন্য চালকের কমপক্ষে অষ্টম শ্রেণি পাসের শর্ত রাখা হয়েছে।

সহকারী হতেও শিক্ষাগত যোগ্যতা

আগের অধ্যাদেশে সহকারীদের লাইসেন্সের কথা থাকলেও তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতার শর্ত ছিল না। নতুন আইনে চালকের সহকারীরও থাকতে হবে পঞ্চম শ্রেণি পাসের সার্টিফকেট। সহকারী হতে বাধ্যতামূলকভাবে লাইসেন্সের বিধান তো থাকছেই।

ন্যূনতম বয়স

ব্যক্তিগত গাড়ি চালনার জন্য চালকের বয়স আগের মতই অন্তত ১৮ বছর রাখা হয়েছে। তবে পেশাদার চালকদের বয়স হতে হবে কমপক্ষে ২১ বছর।

বাড়ছে সাজা

নতুন আইনের খসড়ায় চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকলে অনধিক ছয় মাসের জেল বা ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড দেওয়া হবে। 

আগের আইনে এই অপরাধের জন্য তিন মাসের জেল বা ২৫ হাজার টাকা জরিমানার বিধান ছিল।

সাজা হবে সহকারীরও

চালকের সহকারীর লাইসেন্স না থাকলে এক মাসের জেল বা ২৫ হাজার টাকা জরিমানার বিধান আছে নতুন আইনের খসড়ায়।

নিষিদ্ধ মোবাইল ফোন

নতুন আইন পাস হলে গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারবেন না চালক। এ আইন ভাঙলে এক মাসের কারাদণ্ড বা পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে।

বিনা পরোয়ানায় গ্রেফতার

ছয় মাসের কারাদণ্ড বা ৫০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে- এমন অপরাধের ক্ষেত্রে চালককে বিনা পরোয়ানায় গ্রেফতারের ক্ষমতা দেয়া হয়েছে পুলিশকে।

বিধি অমান্যে পয়েন্ট কাটা

প্রস্তাবিত আইনে লাইসেন্সে থাকবে মোট ১২ পয়েন্ট। বিভিন্ন বিধি অমান্যে কাটা যাবে এই পয়েন্ট। পয়েন্ট শূন্য হলে বাতিল হবে চালকের লাইসেন্স।

দুর্ঘটনার সাজা দণ্ডবিধিতে

দুর্ঘটনার জন্য শাস্তি দেওয়া হবে দণ্ডবিধি অনুযায়ী। নরহত্যা হলে ৩০২ ধারা অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ড। হত্যা না হলে ৩০৪ ধারা অনুযায়ী যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হবে। বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালিয়ে মৃত্যু ঘটালে ৩০৪ (বি) ধারা অনুযায়ী তিন বছরের কারাদণ্ড হবে।