শাহবাগে লাইসেন্স যাচাই করছেন শিক্ষার্থীরা

  যুগান্তর রিপোর্ট ০৩ আগস্ট ২০১৮, ১১:৫৬ | অনলাইন সংস্করণ

লাইসেন্স পরীক্ষা
ফাইল ছবি

বিমানবন্দর সড়কে বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার প্রতিবাদে ষষ্ঠ দিনে শাহবাগে সড়কে চালকের লাইসেন্স পরীক্ষা করছেন শিক্ষার্থীরা।

শাহবাগে ট্রাফিক পুলিশের সহকারী কমিশনার শাহেদ আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, রাস্তা ফাঁকা, গাড়ি নেই বললেই চলে। সকাল থেকেই খুব কম গাড়ি দেখা গেছে। এর মধ্যে অল্প কয়েক শিক্ষার্থী এসে গাড়ির লাইসেন্স পরীক্ষা করছেন।

সড়কে নিয়ম ফেরানোর দাবি নিয়ে রাজপথে নেমে শিশু-কিশোর শিক্ষার্থীরা পুলিশের ভূমিকায় নেমেছে। এতে আইনের প্রতি খোদ আইনের লোকের অবহেলার বহু নমুনা বেরিয়ে আসছে।

বৃহস্পতিবারও স্কুল-কলেজের ইউনিফরম পরা শিক্ষার্থীরা রাস্তায় রাস্তায় গাড়ি থামিয়ে যানবাহন ও চালকের লাইসেন্স দেখতে চেয়েছেন। পুলিশ, বিজিবি, আইনপ্রণেতা, সরকারি কর্মকর্তা, সাংবাদিকসহ অনেকেই ফেল করেছেন সেই পরীক্ষায়।

শিক্ষার্থীরা এসব চালককে পুলিশে সোপর্দ করার পর লাইসেন্স না থাকার মামলা দেয়া হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। এমনকি এক পুলিশকে আরেক পুলিশের মাধ্যমে মামলা দেয়ার ঘটনাও রাজধানীতে ঘটেছে।

এ পরিস্থিতিতে সরকারি গাড়িচালকদের যাবতীয় মূল কাগজপত্র সঙ্গে রাখার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। অথচ বিআরটিএর নিয়ম অনুযায়ীই গাড়ি চালানোর সময় ড্রাইভিং লাইসেন্স, বীমার কাগজ ও ব্লুবুক সঙ্গে রাখার কথা চালকদের।

গত রোববার দুপুরে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের সামনের বিমানবন্দর সড়কে বাসচাপায় শহীদ রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র আবদুল করিম ও একাদশ শ্রেণির ছাত্রী দিয়া খানম ওরফে মীম নিহত হন। বাসচাপায় আহত হন আরও ১৩ জন।

বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির (বিআরটিএ) তথ্যানুসারে, দেশে এক লাখের বেশি যাত্রীবাহী বাস ও পণ্যবাহী ট্রাকের ফিটনেস সনদ নেই। এর মধ্যে ৩৫ হাজার ৬৬৩টি বাস ও ৬৬ হাজার ২৯০টি পণ্যবাহী ট্রাক রয়েছে।

এসব গাড়ি নিয়মিত সরকারি কোষাগারে বার্ষিক ফি ও ট্যাক্স জমা দেয় না। এ ছাড়া সারা দেশে চলাচলকারী ১৬ লাখ গাড়িতে নেই বৈধ লাইসেন্সধারী চালক। দেশে মোট যানবাহনের সংখ্যা ৩৫ লাখ ৪৪ হাজার।

পরিবহন নেতাদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, রেজিস্ট্রেশন ও ফিটনেস সনদ নেই এমন অসংখ্য গাড়িও রয়েছে। এসব গাড়ির প্রকৃত হিসাব বিআরটিএ ও মালিকদের কাছে নেই।

আইন অনুযায়ী, গাড়ির ফিটনেস সনদ ও লাইসেন্সধারী ড্রাইভার না থাকলে তা রাস্তায় চলাচল করতে পারবে না। এসব গাড়ি চলাচল বন্ধে বিআরটিএ ও পুলিশ প্রশাসন পদক্ষেপ নেয়ার বিধান রয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, কিছু অসাধু পুলিশ ও পরিবহন সমিতিগুলো ম্যানেজ করেই চলছে ফিটনেসবিহীন গাড়ি। এতে ঝুঁকিতে পড়ছে সড়ক নিরাপত্তাব্যবস্থা। প্রায়শ সড়কে দুর্ঘটনা ঘটছে। সর্বশেষ কুর্মিটোলা হাসপাতালের সামনে দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর জন্য দায়ী জাবালে নূর বাস দুটির একটির ফিটনেস নেই দুই বছর ধরে। আরেকটি বাসের রুট পারমিট নেই।

এ বিষয়ে বিআরটিএর চেয়ারম্যান মশিয়ার রহমান যুগান্তরকে বলেন, রাস্তায় কিছু ফিটনেসবিহীন গাড়ি ও ড্রাইভিং লাইসেন্সবিহীন চালক রয়েছে সত্য। আমরা এসব গাড়ি ও চালকের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছি। জেলা প্রশাসকদের ব্যবস্থা নিতে আগেই চিঠি দিয়েছি। পরিবহন খাতের শৃঙ্খলা ফেরাতে সব ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এ জন্য ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে।

বিআরটিএর তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে সারা দেশে নিবন্ধিত ৪৩ হাজার ৮৫৫টি বাস ও ২৭ হাজার ৬২৬টি মিনিবাস রয়েছে। এর মধ্যে ২২ হাজার ৬৮৮টি বাস ও ১২ হাজার ৯৭৫ মিনিবাসের ফিটনেস নেই।

অর্থাৎ ৭১ হাজার ৪৮১টি বাস-মিনিবাসের মধ্যে ৩৫ হাজার ৬৬৩টির ফিটনেস নেই।

পরিবহন মালিকদের মতে, সারা দেশে চলাচলকারী বাস ও মিনিবাসের সংখ্যা প্রায় এক লাখ। শুধু ঢাকায় ৫ হাজারের বেশি বাস চলাচল করছে। এ হিসাবেই বিপুলসংখ্যক গাড়ি নিবন্ধন ছাড়াই চলাচল করছে। তারা যাত্রীও পরিবহন করছে।

এ বিষয়ে বাসমালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্লাহ যুগান্তরকে বলেন, নিবন্ধন ছাড়া কী পরিমাণ গাড়ি চলছে তার সংখ্যা বলা মুশকিল।

তবে আমরা সব সময় অবৈধ ও ফিটনেসবিহীন গাড়ির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানিয়ে আসছি। অবৈধ গাড়ির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার ক্ষেত্রে আমরা কখনই প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছি না।

ঘটনাপ্রবাহ : বিমানবন্দর সড়কে দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যু

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter