রোববার থেকে ছাত্রদের দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান ইলিয়াস কাঞ্চনের

  যুগান্তর রিপোর্ট ০৩ আগস্ট ২০১৮, ১৫:৪৯ | অনলাইন সংস্করণ

মানববন্ধন
সড়ক দুর্ঘটনারোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করে নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)। ছবি- সংগৃহীত

বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা যেসব দাবি জানিয়েছেন তা আগামী রোববার থেকে বাস্তবায়ন করার আহ্বান জানিয়েছেন নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের চেয়ারম্যান নায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন।

শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের (নিসচা) আয়োজিত এক মানববন্ধনে তিনি এ আহ্বান জানান।

সরকার দাবি বাস্তবায়ন শুরু করলে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা যেন ঘরে ফিরে যান সে আহ্বানও রাখেন বাংলাদেশে সড়কে প্রাণহানিবিরোধী আন্দোলনের এ পথিকৃত।

ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, শিক্ষার্থীদের যে দাবি আপনারা মেনে নিয়েছেন, তা আজ শুক্রবার ও কাল শনিবার হয়তো কার্যকর করা সম্ভব নয়। কিন্তু রোববার থেকেই যেন আমরা দেখতে পাই সেই কাজগুলোতে আপনারা হাত দিয়েছেন।

এ সময় সরকারকে প্রথম কাজ হিসেবে রাস্তায় গাড়ির লাইসেন্স যাচাইকারী সরকারিকর্মীদের লাইসেন্স ঠিক করে দিতে বলেন তিনি।

অভিযোগ করে ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, যারা ডান্ডাওয়ালা (পতাকার স্ট্যান্ড) গাড়ি ব্যবহার করার উপযুক্ত নন, তারা ডান্ডাওয়ালা গাড়ি ব্যবহার করেন। যারা দেশ চালাচ্ছেন, তারাই উল্টোপথে গাড়ি চালাচ্ছেন।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ঘরে ফেরাতে কিভাবে আহ্বান জানাতে হবে তার কৌশল বাতলে দিয়ে তিনি বলেন, আপনারা বলেন আমরা আর করব না, আমরা দুঃখিত। আমরা সন্তানদের কাছ থেকে শিখেছি- আমরা আর করব না, বাবারা তোমরা ঘরে ফিরে যাও- এভাবে বলেন, নিশ্চয় আমাদের সন্তানরা ঘরে ফিরে যাবে। আপনারা যদি কাজ শুরু করে দেন, তা হলে আমি অবশ্যই বলব আমার সন্তানরা যেন ঘরে ফিরে যায়।

হানিফ পরিবহনের কর্মীদের হাতে নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী পায়েল হত্যা এবং বিমানবন্দর সড়কে জাবালে নূরের বাসচাপায় শহীদ রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার প্রতিবাদে শুক্রবারের মানববন্ধন ডাকেন ইলিয়াস কাঞ্চন।

এতে কারওয়ানবাজারে দুই বাসের রেষারেষিতে নিহত তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থী রাজীবের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া বিভিন্ন সংগঠনও অংশ নেয়।

মানববন্ধনে নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান নিসচা চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন।

তিনি বলেন, সাময়িক অসুবিধা হলেও আপনারা অস্থির হবেন না। ভালো কিছু পাওয়ার জন্য অনেক সময় কিছু কষ্ট স্বীকার করতে হয়।

এ সময় সড়ক দুর্ঘটনার বিষয়ে দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের দায়িত্বহীন বক্তব্যেরও তীব্র প্রতিবাদ জানান ইলিয়াস কাঞ্চন।

ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় আমার সন্তানের মাকে হারিয়ে ২৫ বছর আগে আমি এ আন্দোলন শুরু করেছিলাম। এর একটিই উদ্দেশ্য ছিল- আমার সন্তানের মতো আর কোনো সন্তান তার মাকে যেন না হারায়। কোনো মায়ের সন্তানের রক্ত যাতে সড়কে না ঝরে।

তিনি বলেন, এ আন্দোলন করতে গিয়ে আমাকে অনেক ধরনের নির্যাতন সহ্য করতে হয়েছে। মানসিকভাবে আমাকে কষ্ট দেয়া হয়েছে। তার পরও আমাকে দমানো যায়নি।

ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, আজকে ২৫ বছর পর হলেও কোমলমতি শিক্ষার্থীরা এ দাবি নিয়ে সড়কে নেমে এসেছে। আমি শুরু থেকেই তাদের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে এসেছি। তাদের যৌক্তিক দাবিগুলোকে আমি সমর্থন করে এসেছি। আমি তাদের সঙ্গে আছি।

নিরাপদ সড়ক নিশ্চিতের দাবি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি বলেন, আমি প্রধানমন্ত্রীকে বলতে চাই- নিরাপদ সড়ক মানুষের প্রাণের দাবি। এ দেশের মানুষ সড়কে মরতে চায় না, পঙ্গু হতে চায় না। সে কারণে আর সময় নষ্ট করা উচিত নয়, যতই সময় যাবে ততই জীবন যাবে। দাবি মেনে নিয়ে বাস্তবায়ন শুরু করুন।

ইলিয়াস কাঞ্চন আরও বলেন, যে পরিবহন সেক্টরের ভয়ে আপনারা নতুন আইন প্রণয়ন করতে পারেন না। আজকে সেই সুযোগটি শিক্ষার্থীরা করে দিয়েছেন। এখন সারা দেশের মানুষ প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে আছে। এ অবস্থায় নতুন আইন তৈরি করা ও প্রয়োগ করা কোনো কষ্টের বিষয় হবে না। এখনই কাজটি শুরু করা উচিত।

মানববন্ধনে খসড়া সড়ক আইনে এতে শুভংকরের ফাঁকি রয়েছে বলে অভিযোগ করেন নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের এ নেতা।

তিনি বলেন, নতুন এ আইনের নাম দেয়া হয়েছে সড়ক পরিবহন আইন। এতে শুভংকরের ফাঁকি রয়েছে। আমরা বলেছি- শুধু সড়ক পরিবহন কথাটুকু নয়। এখানে সড়ক নিরাপত্তা ও পরিবহন আইন হতে হবে। নিরাপত্তা শব্দটি যুক্ত করতে হবে। উল্লেখ্য, গত রোববার দুপুরে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের সামনে বিমানবন্দর সড়কে বাসচাপায় শহীদ রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র আবদুল করিম ও একাদশ শ্রেণির ছাত্রী দিয়া খানম ওরফে মীম নিহত হন। বাসচাপায় আহত হন আরও ১৩ জন।

এ ঘটনা কেন্দ্র করে গত ছয় দিন ধরে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছেন স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

ঘটনাপ্রবাহ : বিমানবন্দর সড়কে দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যু

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter