ফেসবুক বন্ধের প্রস্তাব পুলিশের, সরকারের না

প্রকাশ : ০৫ আগস্ট ২০১৮, ২১:৩০ | অনলাইন সংস্করণ

  সংসদ রিপোর্টার

প্রতীকী ছবি

নিরাপদ সড়কের দাবিতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের অরাজনৈতিক আন্দোলনকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত ও নাশকতার পরিকল্পনাকারীদের চিহ্নিত করার পাশাপাশি তাদেরকে কঠোরভাবে দমনের সুপারিশ করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ীকমিটি।

কমিটির বৈঠকে জানানো হয়েছে, আন্দোলনকে ঘিরে গুজব ও অপপ্রচার নিয়ন্ত্রণে পুলিশের পক্ষ থেকে ফেসবুক বন্ধের প্রস্তাব করা হলেও তা সরকার নাকচ করে দিয়েছে। 

রোববার জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে চলমান ছাত্র আন্দোলন নিয়ে অনির্ধারিত আলোচনা হয়। কমিটির সভাপতি টিপু মুনশির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকের শেষ পর্যায়ে অনির্ধারিত এই আলোচনার সূত্রপাত করেন কমিটির সদস্য আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন।

পরে আলোচনায় অংশ নেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন, বিরোধী দলীয় হুইপ মো. ফখরুল ইমাম, মো. মোজাম্মেল হোসেন, মো. ফরিদুল হক খান, আবুল কালাম আজাদ ও কামরুননাহার চৌধুরী।

কমিটি সূত্র জানায়, বৈঠকে আন্দোলনকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত আগুন সন্ত্রাসীদের অনেকেই চিহ্নিত হয়েছে। অন্যান্যদের চিহ্নিত করার পাশাপাশি কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।  

এ সময় ষড়যন্ত্রকারীদের দমন করতে গিয়ে যাতে সাধারণ শিক্ষার্থীরা কোনোভাবে হয়রানির শিকার না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে বলা হয়। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের রাস্তা থেকে সরাতে শিক্ষকদের মোটিভেট করার সুপারিশ করা হয়েছে।

বৈঠক শেষে কমিটির সভাপতি টিপু মুনশি সাংবাদিকদের বলেন, বিষয়টি নিয়ে আলোচনা উঠলে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শিক্ষার্থীদের দাবি যৌক্তিক।  তাদের দাবিগুলো সরকার মেনে নিয়েছে এবং বাস্তবায়ন হচ্ছে।  এখন শিক্ষার্থীদের আবেগকে ব্যবহার করে যারা নাশকতার অপচেষ্টা করছে তাদের শক্ত হাতে দমন করা হবে।

তিনি আরও বলেন, ঘটনার শুরুতে একটাই মোশন ছিল। কিন্তু এখন তা অন্য খাতে প্রবাহিত করার দুরভিসন্ধি করা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে একটি গোষ্ঠী জড়িত হয়ে পড়েছে তা এখন প্রমাণিত এবং তাদেরকে শক্ত হাতে মোকাবেলা করা হবে বলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কমিটিকে জানিয়েছেন।

এক প্রশ্নের জবাবে কমিটির সভাপতি বলেন, আমরা কমিটির পক্ষ থেকে আন্দোলন মোকাবেলার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের বিষয়টি বিবেচনার সুপারিশ করেছি। যাদের ওপর কোনো ভাবে যেন বলপ্রয়োগ না হয়, সেই পরামর্শ দিয়েছি। 

এর পেছনে কারা আছে, সে বিষয়ে আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী কারো নাম প্রকাশ করেছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটাতো এখন পরিষ্কার। একটা ফোনালাপ প্রকাশ হয়েছে। 

বিএনপি-জামায়াত আন্দোলনকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করছে উল্লেখ করে কমিটির সদস্য আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন বৈঠকে বলেন, বিএনপি নেতা আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর ফোনালাপে জানা গেছে ষড়যন্ত্র চলছে। আরও বড় ধরনের নাশকতা হতে পারে।  বিষয়টি আগেই গোয়েন্দা সংস্থা ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর বোঝা উচিৎ ছিল।  কারণ ১০ বছর ক্ষমতায় আছে।  তাই এ বিষয়ে সরকারকে আরও সতর্ক হতে হবে।

বৈঠকে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন কমিটির বিরোধী দলীয় সদস্য মো. ফখরুল ইমাম।  

তিনি বলেন, এ ঘটনায় আগামীতে আরো বড় ধরনের সংকট তৈরি হতে পারে। তাই আন্দোলনের নামে ষড়যন্ত্র-চক্রান্তের বিরুদ্ধে সরকারকে আরও কঠোর হতে হবে।

এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আন্দোলনে ব্যর্থ বিএনপি-জামায়াত আগেও এ ধরনের ষড়যন্ত্র-চক্রান্তের মাধ্যমে ফায়দা লুটার চেষ্টা করেছে। এখনও তাই করছে। তবে সরকার সতর্ক রয়েছে। ষড়যন্ত্রকারীদের চিহ্নিত করার পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ফলে উদ্বিগ হওয়ার কিছু নেই। 

সদস্যদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গুজব ও অপপ্রচারের কারণে পুলিশের পক্ষ থেকে ফেসবুক বন্ধের প্রস্তাব করা হয়েছিল।  কিন্তু তা নাকচ করে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তথ্য-প্রযুক্তির সুবিধা যাতে কেউ অপব্যবহার করতে না পারে সে বিষয়ে সরকার সতর্ক রয়েছে।

এদিকে বৈঠকে র‌্যাবের শূন্য পদে দ্রুত জনবল নিয়োগের সুপারিশ করা হয়। আর মাদকের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা বাড়ানোর প্রতি গুরুত্বারোপ করা হয়। এছাড়া কমিটি বিদেশের ১৫টি মিশনের পাসপোর্ট ভিসা উইং থেকে অর্জিত অর্থে হিসাব প্রতিবেদন প্রতি মাসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়ার সুপারিশ করেছে।