আলোকচিত্রী শহীদুল আইসিটি আইনে গ্রেফতার, ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন

প্রকাশ : ০৬ আগস্ট ২০১৮, ১৭:২৯ | অনলাইন সংস্করণ

  যুগান্তর ডেস্ক   

দৃক গ্যালারির প্রতিষ্ঠাতা আলোকচিত্রী শহীদুল আলম। ছবি-সংগৃহীত

নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন–সম্পর্কিত বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দৃক গ্যালারির প্রতিষ্ঠাতা আলোকচিত্রী শহীদুল আলমকে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) আইনের ৫৭ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড আবেদনও করেছে পুলিশ।

সোমবার বিকালে পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) উত্তরের পুলিশ পরিদর্শক মেহেদী হাসান বাদী হয়ে রমনা থানায় মামলাটি দায়ের করেন।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) মিডিয়া শাখার উপকমিশনার মাসুদুর রহমান সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে তাকে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা বলে ঢাকা মহানগর পুলিশের যুগ্ম কমিশনার (গোয়েন্দা বিভাগ) আবদুল বাতেন জানিয়েছেন।

মামলা দায়েরের পর শহীদুল আলমকে আদালতে পাঠানো হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির পুলিশ পরিদর্শক আরমান আলী।
 
রোববার রাতে ধানমণ্ডির বাসা থেকে শহীদুলকে অপহরণ করা হয় বলে অভিযোগ করেন তার স্ত্রী রেহনুমা আহমেদ। তিনি বলেন, ধানমণ্ডির ৯/এ সড়কের বাসার চারতলা থেকে শহীদুলকে ধরে নিয়ে গেছে ডিবি পরিচয় দেয়া একদল লোক।

দৃকের জেনারেল ম্যানেজার এএসএম রেজাউর রহমান বলেন, রোববার রাতে তার নিজ বাসা থেকে একদল দুর্বৃত্ত তাকে অপহরণ করে নিয়ে গেছে। রাতে তিনি ধানমণ্ডি মডেল থানায় অপহরণের মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা না নিয়ে অভিযোগ হিসেবে গ্রহণ করেছে।

রেজাউর রহমান বলেন, শহীদুল আলম ধানমণ্ডির ৯ নম্বর সড়কের ৩২ নম্বর বাসায় থাকেন। রোববার রাত ১০টার দিকে একটি হাইএস মাইক্রোবাসে কয়েকজন যুবক তার বাসায় আসেন। এরপর তারা বাসা থেকে জোরপূর্বক শহীদুল আলমকে অপহরণ করে নিয়ে যান।

তিনি আরও বলেন, যাওয়ার সময় তারা বাসার সিসিটিভির ফুটেজও নিয়ে যান। যে মাইক্রোবাসে তাকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, সেটির গায়ে একটি বিমা কোম্পানির লোগো লাগানো ছিল বলে তিনি জানান।

শহীদুলের স্ত্রী রেহনুমা জানান, তারা ধানমণ্ডি থানায় অভিযোগ জানিয়েছেন। পুলিশ এসে ঘটনাস্থল দেখে গেছে। তিনি জানান, চলমান ছাত্র বিক্ষোভ নিয়ে শহীদুল সম্প্রতি একটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে সাক্ষাৎকার দেন।

এদিকে রোববার রাতে ইউটিউবার সালমান মুক্তাদীরকে তেজগাঁওয়ের একটি টিভি চ্যানেলের কার্যালয় থেকে একদল লোক ধরে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ ওঠে। কিছুক্ষণ পর অবশ্য তাকে ছেড়ে দেয়া হয়।