দুর্ঘটনা প্রমাণিত না হলে মৃত্যুদণ্ড: আইনমন্ত্রী

প্রকাশ : ০৬ আগস্ট ২০১৮, ১৮:০৩ | অনলাইন সংস্করণ

  যুগান্তর রিপোর্ট

ফাইল ছবি: সংগৃহীত

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮-এর ৮৪, ৯৭ ও ১০৩ ধারায় সংঘটিত অপরাধগুলো জামিন অযোগ্য। 

সোমবার আইনমন্ত্রী তার নিজ দফতরে উপস্থিত সাংবাদিকদের এ কথা জানিয়েছেন। এর আগে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদের নিয়মিত বৈঠকে সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর খসড়ার অনুমোদন হয়।

এই আইনটি কোন প্রক্রিয়ায় বাস্তবায়িত হবে এ প্রশ্নে তিনি বলেন, সংসদের আগামী অধিবেশনে আইনটি পাসের মাধ্যমে তা কার্যকর করা হবে। আইনটি পূর্ণাঙ্গ কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘যদি কিছু বাকি থাকে তা বিধিতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

এ সময় তিনি বলেন, ‘এই আইনটি মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনুমোদনের মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীদের দাবি পুরোপুরি পূরণ হলো।’

আইনমন্ত্রী আরও বলেন, এই আইনে মামলার বিচার দীর্ঘায়িত হওয়ার সুযোগ নেই, গুরুত্বপূর্ণ হলে তা দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হবে। এ মামলায় ৩০৪ ধারায় (সর্বোচ্চ সাজা পাঁচ বছর কারাদণ্ড ও জরিমানা) বিচার হবে। 

তবে তদন্তে সড়ক দুর্ঘটনা প্রমাণিত না হলে বা হত্যার উদ্দেশ্যে গাড়ি চালানো হয়েছে বলে মনে হলে ৩০২ ধারায় মামলা হবে। তদন্ত করে এবং তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন সাপেক্ষে নির্ধারণ করা হবে দুর্ঘটনার প্রকৃতি কী ছিল। ৩০২ ধারায় মামলা হলে সর্বোচ্চ শাস্তি হবে মৃত্যুদণ্ড।

আইনটি অনুমোদনের পর মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম বেলা সাংবাদিকদের জানান, সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ অনুযায়ী, সর্বোচ্চ শাস্তি পাঁচ বছরের জেল ও অর্থদণ্ড। অর্থদণ্ডের পরিমাণ আদালত নির্ধারণ করবেন। বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালানোর কারণে কেউ আহত হলে বা প্রাণহানি ঘটলে এই আইনে মামলা হবে।

আর যদি তদন্তে মনে হয়, হত্যার উদ্দেশ্যে নয়, বেপরোয়া চালানোর কারণেই দুর্ঘটনা ঘটেছে, তাহলে সড়ক পরিবহন আইনের ১০৩ ধারায় মামলা হবে। এই ধারায় সর্বোচ্চ ৫ বছর জেল, অর্থদণ্ড, অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে।

তিনি আরও জানান, এই আইন অনুযায়ী মোটরযান মালিককে ২০০৬-এর শ্রম আইন অনুসারে মোটরযান চালকের সঙ্গে লিখিত চুক্তিপত্র করতে হবে। লাইসেন্স ও চুক্তিপত্র ছাড়া কেউ গাড়ি চালাতে পারবে না। পেশাদার চালককে কমপক্ষে অষ্টম শ্রেণি পাস ও ২১ বছর বয়সী হতে হবে। আর নিজের গাড়ি চালালে বয়স ১৮ বছর হতে হবে।