শহীদুলকে হাসপাতালে পাঠানোর আদেশ স্থগিতের আবেদন শুনানি বৃহস্পতিবার

প্রকাশ : ০৮ আগস্ট ২০১৮, ১৬:৪৩ | অনলাইন সংস্করণ

  যুগান্তর রিপোর্ট

আলোকচিত্রী শহীদুল আলম। ছবি-সংগৃহীত

দৃক গ্যালারির প্রতিষ্ঠাতা আলোকচিত্রী শহীদুল আলমকে অবিলম্বে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) পাঠাতে হাইকোর্টের দেয়া আদেশ স্থগিত চেয়ে আবেদন করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। বুধবার আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় আবেদনটি করা হয়। 

এই আবেদন বৃহস্পতিবার আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠিয়েছেন চেম্বার বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী।

মঙ্গলবার শহিদুল আলমকে চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য অবিলম্বে বিএসএমএমইউয়ে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। সেই সঙ্গে তার স্বাস্থ্যগত বিষয়ে বৃহস্পতিবার প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। এই আদেশ স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ আবেদন করে, যা বুধবার দুপুরে চেম্বার বিচারপতির আদালতে ওঠে।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিশ্বজিৎ দেবনাথ ও অমিত তালুকদার। 

অন্যদিকে, রিট আবেদনকারীর পক্ষে ছিলেন আইনজীবী ইদ্রিসুর রহমান, শাহদীন মালিক, সারা হোসেন ও তানিম হোসেইন।

এ বিষয়ে পরে আইনজীবী সারা হোসেন বলেন, হাইকোর্টের ওই আদেশ স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ আবেদন করেছিল। চেম্বার বিচারপতি স্থগিতাদেশ না দিয়ে আবেদনটি বৃহস্পতিবার আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠিয়েছেন।

এদিকে মঙ্গলবারের হাইকোর্টের দেয়া আদেশ অনুযায়ী বুধবার সকাল ৯টার দিকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য শহীদুল আলমকে বিএসএমএমইউতে নেয়া হয়।

পরীক্ষা শেষে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আব্দুল্লাহ-আল-হারুন সাংবাদিকদের জানান, মেডিকেল বোর্ড তাকে পরীক্ষা নিরীক্ষা করে দেখেছে। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করার মতো তেমন কিছু মেলেনি। শহিদুল আলমের স্বাস্থ্য পরীক্ষার বিস্তারিত ফলাফল বৃহস্পতিবার পাওয়া যাবে।

স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে তাকে আবারো গোয়েন্দা পুলিশের হেফাজতে নেয়া হয়।

নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের করা আন্দোলনের মধ্যে ‘উসকানিমূলক মিথ্যা’ বক্তব্য প্রচারের অভিযোগে তথ্যপ্রযুক্তি আইনে করা এ মামলায় এই আলোকচিত্রী ডিবি হেফাজতে সাত দিনের রিমান্ডে আছেন।

শহীদুল আলমকে আটকের পর নির্যাতন ও রিমান্ডে পাঠানোর বৈধতা নিয়ে এবং চিকিৎসার জন্য তাকে হাসপাতালে পাঠানোর নির্দেশনা চেয়ে তার স্ত্রী রেহনুমা আহমেদ মঙ্গলবার রিট করেন।

এতে স্বরাষ্ট্র সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক, ডিআইজি (ডিবি) ও রমনা থানার ওসিকে বিবাদী করা হয়।

নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যে গত শনি ও রোববার জিগাতলা এলাকায় সংঘর্ষের বিষয়ে কথা বলতে বেশ কয়েকবার ফেসবুক লাইভে আসেন আলোকচিত্রী শহীদুল।

রোববার রাতে ধানমণ্ডির বাসা থেকে তাকে তুলে নেয় ডিবি। নিরাপদ সড়কের দাবিতে সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে একটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে সাক্ষাৎকার দেন তিনি।

সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগে শহীদুলকে তথ্যপ্রযুক্তি আইনে ওই মামলা করা হয়।