রোহিঙ্গাদের এখনই ফেরত পাঠানো নিরাপদ হবে না: অ্যামনেস্টি

  যুগান্তর ডেস্ক ১৭ জানুয়ারি ২০১৮, ১০:৪২ | অনলাইন সংস্করণ

রোহিঙ্গা

রোহিঙ্গাদের এখনই ফেরত পাঠানোয় আপত্তি জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। সংস্থাটি মনে করছে, মিয়ানমারে নীতির পরিবর্তন না হলে নিপীড়নের মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের সেখানে ফেরত পাঠানো নিরাপদ হবে না।

মঙ্গলবার নেইপিদোতে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন নিয়ে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার সরকারের মধ্যে চুক্তি সই হয়। এর পরই উদ্বেগ জানিয়ে এক বিবৃতিতে এ আপত্তির কথা জানায় সংস্থাটি।

অ্যামনেস্টির দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলবিষয়ক পরিচালক জেমস গোমেজ বিবৃতিতে বলেন, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মনে এখনও ধর্ষণ, হত্যা ও নির্যাতনের দগদগে ক্ষত থাকায় তাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর পরিকল্পনা উদ্বেগ সৃষ্টির মতো ‘অপরিণত সময়ে নেয়া পদক্ষেপ’।গত ২৫ আগস্ট রাখাইনে নতুন করে সেনা অভিযান শুরুর পর এ পর্যন্ত ছয় লাখের বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। মিয়ানমারে নিপীড়নের মুখে গত কয়েক দশকে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়ে আছে আরও প্রায় চার লাখ রোহিঙ্গা।

গত ২৩ নভেম্বর নেইপিদোতে দুই দেশের মধ্যে একটি সম্মতিপত্র স্বাক্ষরিত হয়। সেখানে বলা হয়, প্রথম দফায় শুধু এবার আসা শরণার্থীদেরই ফেরত নেবে মিয়ানমার।

সম্মতিপত্রে স্বাক্ষরের ৫৪ দিনের মাথায় দুপক্ষ মঙ্গলবার ‘ফিজিক্যাল অ্যারেঞ্জমেন্ট’ চূড়ান্ত করেছে, যাতে প্রত্যাবাসনের বিষয়ে সম্মত হওয়ার সময় থেকে দুই বছরের মধ্যে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে।

অ্যামনেস্টি বলছে, রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়াই ওই সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে এবং তারা স্বেচ্ছায় মিয়ানমারে ফেরত যেতে পারবেন এমন কোনো নিশ্চয়তাও দেয়া হয়নি। এত দ্রুত রোহিঙ্গাদের ফেরা ‘ভয়ানক ভবিষ্যতের’ মুখে তাদের ফেলতে পারে বলেও শঙ্কা প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।

এ বিষয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন হবে স্বেচ্ছায়। যারা চাইবেন তাদেরই মর্যাদা ও নিরাপত্তার সঙ্গে ফেরত পাঠানো হবে’।

গত ২৩ নভেম্বর মিয়ানমারের সঙ্গে প্রথম চুক্তি স্বাক্ষরের সময়ই বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এ কথা বলা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশের কোনো সুযোগ নেই’।

তবে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলছে, ‘রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরা এবং সেখানে বসবাসের অধিকার রয়েছে। তবে বিদ্বেষপূর্ণ একটি ব্যবস্থায় লোকজনকে পাঠাতে তাড়াহুড়া করা যাবে না। জোরপূর্বক কাউকে ফেরত পাঠানো আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হবে। বিদ্বেষপূর্ণ ব্যবস্থার অবসান এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য জবাবদিহিসহ মিয়ানমারে মৌলিক পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত সেখানে রোহিঙ্গাদের ফেরা নিরাপদ বা মর্যাদাপূর্ণ হতে পারে না’।

ঘটনাপ্রবাহ : রোহিঙ্গা বর্বরতা

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
.