মানবতাবিরোধী অপরাধ: পটুয়াখালীর ইসহাকসহ ৫ জনের ফাঁসি

  যুগান্তর রিপোর্ট ১৩ অগাস্ট ২০১৮, ১১:৩৫:৫০ | অনলাইন সংস্করণ

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। ফাইল ছবি

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় পটুয়াখালীর রাজাকার বাহিনীর পাঁচ সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।

বিচারপতি শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সোমবার এ আদেশ দেন।

মৃত্যু পর্যন্ত ফাঁসির দড়িতে ঝুলিয়ে পাঁচ যুদ্ধাপরাধীর সাজা কার্যকর করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে রায়ে।

রায় ঘোষণার সময় এ মামলার পাঁচ আসামি ইসহাক সিকদার, আব্দুল গণি হাওলাদার, আব্দুল আওয়াল ওরফে মৌলভী আওয়াল, আব্দুস সাত্তার প্যাদা ও সোলায়মান মৃধা কাঠগড়ায় উপস্থিতে ছিলেন।

রায়ে বলা হয়, আসামিদের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের আনা দুটি অভিযোগই প্রমাণিত হয়েছে।

এরমধ্যে পটুয়াখালীর ইটাবাড়িয়া গ্রামে লুটপাট, অগ্নিসংযোগ, ধর্ষণ, অপহরণ, আটকে রেখে নির্যাতন, ১৭ জনকে হত্যার ঘটনায় আসামিদের সবাইকে মৃত্যদণ্ড দেয়া হয়েছে।

ওই গ্রামের অন্তত ১৫ নারীকে ধর্ষণের ঘটনাতেও একই সাজার রায় দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।

অবশ্য নিয়ম অনুযায়ী, এই রায়ের এক মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ আদালতে আপিল করার সুযোগ পাবেন আসামিরা।

রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত বলেছেন, ‘আসামিরা ধর্ষণকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেছে, যা তাজা একটি বুলেটের চেয়েও ভয়ঙ্কর এবং শক্তিশালী। যিনি বা যারা এর শিকার হয়েছেন, সারা জীবন তাদের এই ভয়ঙ্কর যন্ত্রণা বহন করতে হবে।’

‘মহান মুক্তিযুদ্ধে যেসব মা-বোনরা ধর্ষণের শিকার হয়েছেন, প্রকৃতপক্ষে তারা আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধের নায়ক (ওয়ার হিরো)। সময় এসেছে তাদের ওয়ার হিরো হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার।’

পাঁচ আসামির সবাই একাত্তরে ছিলেন মুসলিম লীগ সমর্থক। আর ২০১৫ সালে গ্রেফতার হওয়ার সময় তারা স্থানীয় বিএনপির রাজনীতিতে জড়িত ছিলেন। একাত্তরে রাজাকার বাহিনীর সদস্য হিসেবে তারা বিভিন্ন মানবতাবিরোধী অপরাধ ঘটান।

এর আগে সোমবার সকাল পৌনে ১১টায় ১৫৯ পৃষ্ঠার এই রায় পড়া শুরু হয়। রায় পড়ার সময় ট্রাইব্যুনালের কাঠগড়ায় পাঁচ আসামি উপস্থিত ছিলেন।

২০১৫ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর ট্রাইব্যুনাল এই পাঁচ রাজাকারের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পর পাঁচজনকেই গ্রেফতার করা হয়।

আসামিদের বিরুদ্ধে একাত্তরে সংঘটিত হত্যা, গণহত্যা, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগসহ ছয় ধরনের মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। ওই সময়ে হত্যা ও ১৭ জনকে ধর্ষণের অভিযোগ রয়েছে।

এর মধ্যে এখনও আটজন বীরঙ্গনা জীবিতও রয়েছেন। ওই পাঁচজনের বিরুদ্ধে গত বছরের ১৩ অক্টোবর আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন।
রায়ের পর প্রসিকিউটর জেয়াদ আল মালুম বলেন, আটক নির্যাতন, হত্যা ও ধর্ষণের দুটি দায়ে এই পাঁচজনকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ডাদেশ কার্যকরের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

অপরদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী আব্দুস সাত্তার পালোয়ান বলেন, উচ্চ আদালতে আপিল করবে আসামিপক্ষে। আশা করি সেখানে তারা খালাস পাবেন।

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত