অভিনেত্রী নওশাবার জামিন নাকচ

প্রকাশ : ১৩ আগস্ট ২০১৮, ১৯:০১ | অনলাইন সংস্করণ

  যুগান্তর রিপোর্ট

আদালতে অভিনেত্রী নওশাবা। ফাইল ছবি

নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনে ফেসবুক লাইভে গুজব ছড়ানোর মামলায় অভিনেত্রী কাজী নওশাবা আহমেদের জামিন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। 

সোমবার ঢাকার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম আসাদুজ্জামান নূর আসামির জামিন নাকচের এ আদেশ দেন।

এদিন দুই দফায় রিমান্ড শেষে আসমিকে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। 

এদিকে আদালত প্রাঙ্গণে নাওশাবা আরও অসুস্থ (ডিসেনট্রি) হয়ে পড়ে। সঙ্গে সঙ্গে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নেয়া হয়।

জানতে চাইলে চাইলে নওশাবার আইনজীবী এএইচ ইমরুল কাওসার যুগান্তরকে বলেন, নওশাবাকে আদালতে উপস্থাপন করা হয়নি। তবে তাকে আদালতে আনলে তিনি আরও অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাৎক্ষণিক তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে বিষয়টি আদালতের কাছে জানিয়েছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। বর্তমানে নওশাবা ওই হাসপাতাল থেকে রাজধানীর ল্যাব এইড হাসপাতালে এমআরআই করানোর জন্য ভর্তি হয়েছেন।

নওশাবার জামিন শুনানিতে আদালতে তার আইনজীবী বলেন, রুদ্র নামে এক ব্যক্তি ফোন করে নওশাবার কাছে মিথ্যা তথ্য দেয়। যার কারণে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে ফেসবুক লাইভে ওই তথ্য প্রচার করেন। তার মেরুদণ্ডে অপারেশন রয়েছে। মারাত্মকভাবে ডিসেন্ট্রিতে আক্রান্ত হয়েছেন। অসুস্থতার জন্য তাকে আদালতে রাখা সম্ভব হয়নি। হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। এই অবস্থায় আসামির জীবন রক্ষার্থে তার জামিন জরুরি। 

অপরদিকে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ইউনিটের সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড ক্রাইম বিভাগের পুলিশ ইন্সপেক্টর মো. রফিকুল ইসলাম আদালতে উপস্থিত ছিলেন। 

জামিনের বিরোধিতা করে তিনি বলেন, আসামির কাছে জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। এই মুহূর্তে জামিন দিলে পলাতক হবে। তদন্তের প্রয়োজনে আসামিকে আবারও রিমান্ডে নেয়া হতে পারে। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নাকচ করেন।

আদালত সূত্র জানায়, চলতি বছরের ৪ আগস্ট বেলা ৪টার দিকে আবেদনময়ী কণ্ঠে আসামি ফেসবুকে লাইভ ভিডিও সম্প্রচার করেন। সেখানে তিনি বলেন, আমি কাজী নওশাবা আহমেদ, আপনাদের জানাতে চাই, জিগাতলায় একটু আগে একটি স্কুলে একটি ছেলের চোখ তুলে ফেলা হয়েছে এবং দুইজনকে মেরে ফেলা হয়েছে। 

একটু আগে ওদেরকে অ্যাটাক করা হয়েছে। ছাত্রলীগের ছেলেরা সেটা করেছে। প্লিজ প্লিজ ওদেরকে বাঁচান। তারা জিগাতলায় আছে। আপনারা এখই নামবেন। আপনাদের বাচ্চাদেরকে নিরাপদ জায়গায় নিয়ে যান। এটা আমার রিকোয়েস্ট। 

প্রকৃতপক্ষে ওই সময় জিগাতলায় ওই ধরনের কোনো ঘটনা ঘটে নাই। সে ইচ্ছাকৃতভাবে ও পূর্ব পরিকল্পিতভাবে রাষ্ট্র ও রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার জন্য এবং জনসাধারণের অনুভূতিতে আঘাত করার জন্য এরূপ মিথ্য ও মানহানিকর বক্তব্য প্রকাশ করে। 

এ অভিযোগে ৪ আগস্ট রাতে রাজধানীর উত্তরা এলাকা থেকে নওশাবাকে আটক করে র‌্যাব। এরপর র‌্যাব-১ বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করে। এ মামলায় ৫ আগস্ট প্রথম দফায় ৫ দিনের ও ১০ আগস্ট দ্বিতীয় দফায় ২ দিনের রিমান্ডে যান নওশাবা।