গুজব ছড়ানোর অভিযোগে আরও ৩ শিক্ষার্থী গ্রেফতার

প্রকাশ : ১৫ আগস্ট ২০১৮, ১৮:৫৮ | অনলাইন সংস্করণ

  যুগান্তর রিপোর্ট

বাঁ থেকে নাজমুস সাকিব, আহমাদ হোসাইন ও লুৎফুর রহমান লুমা। ছবি-সংগৃহীত

ফেসবুকে বিভিন্ন উসকানিমূলক গুজব ছড়ানো ও রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে আরও তিন শিক্ষার্থীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। 

তারা হলেন-আহমাদ হোসাইন (১৯), নাজমুস সাকিব (২৪) ও লুৎফন নাহার সরকার লুনা।

গ্রেফতারকৃত সাকিব ঢাকার ইউল্যাব বিশ্ববিদ্যালয়, আহমাদ কামরাঙ্গীরচরের জামিয়া নুরিয়া মাদ্রাসা এবং লুনা ইডেন কলেজের শিক্ষার্থী।

সিআইডির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আসলাম উদ্দিন জানান, বিমানবন্দর সড়কে বাসচাপায় শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের দুই শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় ফেসবুকে বিভিন্ন উসকানিমূলক গুজব ছড়ানোর অভিযোগে হোসাইন ও সাকিবকে গ্রেফতার করা হয়েছে। 

মঙ্গলবার ও বধুবার ঢাকা ও কামরাঙ্গীরচর থেকে তাদের গ্রেফতার করে সিআইডি। 

গ্রেফতারকৃত দুই শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে আইসিটি আইনে পল্টন থানায় বুধবার মামলা করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

জানা গেছে, আহমাদ হোসাইন নোয়াখালীর কবিরহাটের আতাউর রহমানেরে ছেলে। আর নাজমুস সাকিবের বাবার নাম জহির উদ্দিন বাবর। তার বাসা পূর্ব রাজাবাজারে। 

আসলাম উদ্দিন বলেন, ৪ থেকে ১৪ আগস্ট পর্যন্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক পর্যালোচনা করে দেখা যায়, সড়ক দুর্ঘটনায় দিয়া খানম মিম ও আবদুল করিম নিহত হওয়ার ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে কিছু দুষ্কৃতকারী মিথ্যা তথ্যসংবলিত বিভিন্ন উসকানিমূলক বক্তব্য প্রচার করে। 

‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিসহ দেশে অরাজক ও অস্থিতিশীল অবস্থা সৃষ্টি করে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার জন্য বিভিন্ন মিথ্যা ও বানোয়াট লেখা, পোস্ট,ছবি ও ভিডিও ইলেকট্রনিক বিন্যাসে সম্প্রচার করেছে।’
 
তিনি বলেন, সিআইডি কম্পিউটার ব্যবহার করে সামাজিক মাধ্যম তদারকি করে স্ক্রিনশট সংগ্রহ করে এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার জন্য তদন্ত শুরু করে। এর ধারাবাহিকতায় গতকাল মঙ্গলবার ও বুধবার ঢাকা ও কামরাঙ্গীরচর থেকে দুজনকে গ্রেফতার করা হয়।

এছাড়া রাজপথে রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে কোটা সংস্কার আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক লুৎফন নাহার সরকার লুনাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। 

বেলকুচি থানার ওসি আব্দুর রাজ্জাক জানান, ইডেন কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী লুনা (২১) কয়েক দিন আগে তার চাচা শহর আলীর বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন। সম্প্রতি কোটা আন্দোলন নিয়ে ঢাকার রাজপথে রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড নিয়ে একটি সাইবার ক্রাইম মামলা হয়। 

ওই মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড সাইবার ক্রাইম কন্ট্রোল টিমের একটি বিশেষ দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাকে বেলকুচি থেকে আটক করে বলে জানান তিনি। 

আটকের পরপরই টিমটি তাকে ঢাকা নিয়ে যায় বলে জানান ওসি। 

সিরাজগঞ্জ পুলিশ সুপার কার্যালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু ইউসুফ জানান, ঢাকার সাইবার ক্রাইম কন্ট্রোল টিমের একটি বিশেষ দল মঙ্গলবার রাতে এসে আমাদের সহায়তা চায়। বুধবার এক মেয়েকে আটক করে ঢাকায় নিয়ে গেছে বলে শুনেছি।