কোটা সংস্কার আন্দোলনের সংবাদ সম্মেলন

লুমাসহ নেতাদের মুক্তি ও রিমান্ড বাতিলের দাবি

প্রকাশ : ১৭ আগস্ট ২০১৮, ১৯:৩১ | অনলাইন সংস্করণ

  ঢাবি প্রতিনিধি

ক্র্যাব মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ। ছবি-যুগান্তর

কোটা সংস্কার আন্দোলনের যুগ্ম আহ্বায়ক ও ইডেন কলেজের শিক্ষার্থী লুৎফুন্নাহার লুমার মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ। 

একই সঙ্গে কোটা সংস্কার ও নিরাপদ সড়ক আন্দোলনে মিথ্যা মামলায় আটককৃতদের ঈদের আগেই মুক্তি ও রিমান্ড বাতিলের দাবি জানিয়েছন তারা। 

এদিকে একই দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেছে গ্রেফতার শিক্ষার্থীদের অভিভাবক ও পরিবারের সদস্যরা।

শুক্রবার বিকালে বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোটার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্র্যাব) মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ। 
এ সময় উপস্থিত ছিলেন যুগ্ম আহ্বায়ক বিন ইয়ামিন মোল্লা, আতাউল্লাহ, জালাল হোসেন প্রমুখ। 

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ‘আমরা প্রশাসনকে অনুরোধ করব মিথ্যা, ষড়যন্ত্র ও প্রহসনের মামলা ও রিমান্ড প্রত্যাহার করে নিরপরাধ লুৎফুন্নাহার লুমাকে অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে। একই সঙ্গে কোটা সংস্কার ও নিরাপদ সড়ক আন্দোলনে মিথ্যা মামলায় আটককৃতদের ঈদের আগেই মুক্তি দিতে হবে। 

এতে আরও বলা হয়, ইডেন কলেজের শিক্ষার্থী লুৎফুন্নাহার লুমা কোটা সংস্কার আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নেয়। তিনি ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ আন্দোলনে কোনোভাবেই জড়িত ছিলেন না। তিনি গত ৩ জুলাই থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত গোপালগঞ্জ ও সিরাজগঞ্জে অবস্থান করছিলেন। 

কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো ‘নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনে’ জিগাতলার ঘটনায় একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। ভিডিওটিতে মেয়েটি মুখ ঢেকে বক্তব্য দেয়ায় সঠিক পরিচয় নির্ণয় করা সম্ভব হয়নি। মেয়েটিকে গোলাপি রঙের একটি জামা পরা অবস্থায় দেখা যায়। 

এর আগে লুমা গোলাপি রঙের একটি জামা পরে একটি টিভি টকশোতে গিয়েছিলেন। শুধু গোলাপি রঙের জামা দেখে সম্পূর্ণ সন্দেহের বশবর্তী হয়ে এবং কোটা সংস্কার আন্দোলনে জড়িত থাকার অপরাধে মিথ্য মামলায় তাকে গ্রেফতার করে রিমান্ডের নামে নির্যাতন করা হচ্ছে। যদিও পুলিশ ভিডিওর মেয়েটির সঙ্গে লুমার কোনো সম্পৃক্ততা পায়নি বলে স্বীকার করেছেন।

কোটা সংস্কার আন্দোলনের পক্ষ থেকে বলা হয়, লুমার নামে মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে যে তিনি ফেসবুক, টুইটার, ইউটিউবে মিথ্যা ও উসকানিমূলক বক্তব্য প্রদান করেছেন। কিন্তু তার সপক্ষে আদালতে কোনো প্রমাণ দেখাতে পারেনি। লুমার একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ছাড়া অন্য কোনো টুইটার বা ইউটিউব চ্যানেল নেই। এছাড়াও তিনি নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনে কোনো বিতর্কিত মন্তব্য করেননি। 

এমনকি নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের পুরো সময় তিনি ঢাকার বাইরে ছিলেন। শুধু কোটা সংস্কার আন্দোলনে জড়িত থাকার অভিযোগে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এভাবে গ্রেফতার কোটা সংস্কার আন্দোলনকে বানচাল করার হীন চেষ্টা বলে আমরা মনে করি।