নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন

গ্রেফতার ৪২ শিক্ষার্থীর জামিন

  যুগান্তর রিপোর্ট ১৯ আগস্ট ২০১৮, ২০:৩০ | অনলাইন সংস্করণ

নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের সময় আটক এক শিক্ষার্থী
নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের সময় আটক এক শিক্ষার্থী। ছবি-যুগান্তর

‘বিগত ১০/১৫ দিন ধরে কি যে অসহ্য যন্ত্রণার মধ্যে ছিলাম পুরো পরিবার! দিন-রাত কান্না-কাটি। অবশেষে ছেলে (নূর মোহাম্মদ) জামিন পেয়েছে। আলহামদুলিল্লাহ। মনে করেছিলাম ঈদটা মাটি হয়ে গেল। তা আল্লাহ রহম করেছেন। ছেলের জামিনের সংবাদে এখন ঈদের দ্বিগুণ আনন্দ অনুভব করছি।’

নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনে বাড্ডা থানার মামলায় গ্রেফতার সাউথইস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নূর মোহাম্মদের মা মমতাজ মহল আদালত প্রাঙ্গণে যুগান্তরকে এসব কথা বলেন।

ছেলের জামিনের সংবাদে আদালত প্রাঙ্গণেই তিনি কান্না করে ফেলেন। শুধু নূর মোহাম্মদের পরিবারেই নয়, জামিন পাওয়ায় আরও ৪২ পরিবারে নেমে এসেছে ঈদের খুশি।

কারণ রোববার নূর মোহাম্মদের মতো নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের বিভিন্ন মামলায় গ্রেফতার ৪২ জন ছাত্রকে জামিন দিয়েছেন ঢাকার আদালত।

আসামিরা সবাই ইস্ট ওয়েস্ট, নর্থ সাউথ, সাউথইস্ট, ব্র্যাকসহ বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও স্কুল-কলেজের ছাত্র।

এদিকে ছাত্রদের জামিন শুনানির খবর পেয়ে আদালতে উপস্থিত হয়েছিলেন সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. কামাল হোসেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ব্যরিস্টার মইনুল হোসেন ও গণস্বাস্থ্যের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরল্লাহ চৌধুরী।

ছাত্রদের জামিন আদেশের পর ড. কামাল হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ছাত্রদের জামিন পাওয়াটা ছিল যৌক্তিক দাবি। তারা অপরাধের সঙ্গে জড়িত নয়। যাদের জামিন এখনও হয়নি, আশা করছি শিগগিরই তাদেরও জামিন হয়ে যাবে। ছাত্রদের জামিন পাওয়ায় তারা খুশি।

ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন বলেন, এ ছাত্ররা আমাদেরই সন্তান। তাদের আন্দোলন সরকার বিরোধী আন্দোলন ছিল না। তারা সরকার বিরোধী কোনো শ্লোগান দেয়নি। ছাত্রদের জামিন দেয়ায় সরকারের ভাবমূর্তি উজ্জল হয়েছে।

একইভাবে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীও ছাত্রদের জামিনের বিষয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন।

আদালত সূত্র জানায়, নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনে ভাঙচুর, উসকানি ও পুলিশের কর্তব্য-কাজে বাধা দেয়ার অভিযোগে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় এ পর্যন্ত ৫১টি মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। এসব মামলায় গ্রেফতার ৯৯ জনের মধ্যে ৫২ জনই শিক্ষার্থী। এদিন ঢাকার আদালতে বিভিন্ন মামলায় মোট ৪২ জন শিক্ষার্থীর জামিন আবেদন করা হয়।

জামিন শুনানিতে তাদের আইনজীবীরা বলেন, এসব মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগে নেই। সন্দেহজনকভাবে এদের গ্রেফতার করা হয়েছে। আসামিরা সবাই ছাত্র। জামিন না পেলে তাদের শিক্ষা জীবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হবে। শুনানি শেষে আদালত ৪২ শিক্ষার্থীর জামিন মঞ্জুর করেন।

সূত্র আরও জানায়, রাজধানীর বাড্ডা থানায় দায়ের করা মামলায় ১২ জন, ভাটারা থানার মামলায় ৫ জন, উত্তরা পশ্চিম থানায় ৩ জন, নিউমার্কেট থানার মামলায় ৩ জন, শাহবাগ থানার মামলায় ১ জন, ধানমন্ডি থানার পৃথক তিন মামলায় ৯ জন, পল্টন থানার মামলায় ১ জন, ভাটারা থানার মামলায় ১ জন ও কোতয়ালী থানার মামলায় ৩ জনসহ বিভিন্ন থানায় দায়ের করা মামলাগুলোয় মোট ৪২ জনের জামিন মঞ্জুর করেছেন আদালত।

সোমবার গ্রেফতার বাকি শিক্ষার্থীদের জামিন আবেদন করা হতে পারে বলে জানা গেছে।

এদিকে ছাত্রদের জামিন শুনানি উপলক্ষে সকাল থেকেই আদালত প্রাঙ্গণে ভিড় জমাতে থাকেন তাদের আত্মীয়-স্বজন। এছাড়া তাদের সহপাঠীদের আদালত প্রাঙ্গণে দেখা গেছে। জামিন শুনানির সময় আসামিদের অনেক স্বজনদের কান্না করতে দেখা যায়।

বাড্ডা থানার মামলায় গ্রেফতার জাহিদুল হকের জামিন শুনানির কথা শুনেই আনন্দে কেঁদে ফেলেন তার বোন জাফরিন হক। যুগান্তরকে তিনি বলেন, ভাইয়ের জামিন হয়েছে। এর চেয়ে আর আনন্দের কী থাকতে পারে। জামিন সংবাদে তার বাবাও অনেক খুশি। এবার ঈদের আনন্দটা উপভোগ করা যাবে।

বাড্ডা থানার মামলায় গ্রেফতার নূর মোহাম্মদের জামিনের পর তার বোন মাবিয়া সুলতানা যুগান্তরকে বলেন, বিগত কয়েকদিন ধরে আব্বা-আম্মার কান্নাকাটি আর সহ্য হচ্ছিল না। এবার তাদের কান্না থেমেছে। আল্লাহর অশেষ রহমত, এবার আমরা একসঙ্গে ঈদ করতে পারব।

শিক্ষার্থী মেহেদী হাসানের জামিন সংবাদে কান্নায় ভেঙে পড়েন তার বাবা এমএ মাসুদ খান। যুগান্তরকে তিনি বলেন, ছেলে গ্রেফতারের পর থেকে ভীষণ যন্ত্রণায় ছিলাম। জামিন সংবাদের মনে হচ্ছে আজই আমার ঈদ। ছেলে জামিন পাওয়ায় আদালতের প্রতি কৃতজ্ঞাতা প্রকাশ করেন তিনি।

জানতে চাইলে আসামি নূর মোহাম্মদ ও জাহিদুল হকের আইনজীবী আকতার হোসেন সোহেল যুগান্তরকে বলেন, আসামিরা নির্দোষ। তারা কোনো প্রকার অপরাধের সঙ্গে জড়িত নয়। ছাত্রদের জামিনে তিনিও খুশি।

আসামি রেদওয়ান ও তারিকুলের আইনজীবী মোহাম্মদ কবির হোসাইন যুগান্তরকে বলেন, এ দুজন গ্রেফতারের দিন পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। পরীক্ষা শেষে বাসায় ফেরার পথে তাদের গ্রেফতার করা হয়। তিনিও ছাত্রদের জামিনে সন্তুষ্ট প্রকাশ করেন।

গত ২৯ জুলাই রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থী বাসচাপায় নিহত হন। এরপর ঘাতক বাসচালকের শাস্তি এবং নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন করেন শিক্ষার্থীরা। ওই আন্দোলনের সময় ভাঙচুর, গুঞ্জন ও পুলিশের কর্তব্যকাজে বাঁধা দেয়ার মামলায় ওই ছাত্রদের গ্রেফতার করা হয়।

জামিন পেলেন যারা

বাড্ডা থানার মামলায় রাশেদুল ইসলাম, মুশফিকুর রহমান, ইফতেখার আহম্মেদ, রেজা রিফাত আখলাক, এএইচএম খালিদ রেজা, তারিকুল ইসলাম, নূর মোহাম্মাদ, সীমান্ত সরকার, ইকতিদার হোসেন, জাহিদুল হক, হাসান ও রেদোয়ান আহমেদ।

ভাটারা থানার মামলায় ফয়েজ আহম্মেদ আদনান, মেহেদী হাসান, শিহাব শাহরিয়ার, সাখাওয়াত হোসেন, আজিজুল করিম ও মাসাদ মরতুজা বিন আহাদ।

উত্তরা পশ্চিম থানার মামলায় মাহবুব খান রবিন, তোয়ায়েল ও আসিক।

নিউমার্কেট থানার মামলায় মো. আজিজুর, আমিন ও নূর আলম।

শাহবাগ থানার মামলায় আবু বক্কর সিদ্দিকী, ধানমণ্ডির পৃথক তিন মামলায় সোহাদ খান, মাশরিফুল আলম, তমাল সামাদ, মাহবুবুর নাঈম, মাহমুদুর রহমান, ওমর সিয়াম, মো. ইকবাল হাসান, নাইমুর রহমান ও সিনহানুল ইসলাম।

পল্টন থানার মামলায় সাইফুল ওয়াদুদ এবং কোতয়ালী থানার মামলায় মেহেদী, জাহিদুল ও দুলালসহ মোট ৪২ আসামি জামিন পেয়েছেন।

ঘটনাপ্রবাহ : বিমানবন্দর সড়কে দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যু

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter