জামিনে কারাগার থেকে বেরিয়ে আসলেন ৯ শিক্ষার্থী

প্রকাশ : ১৯ আগস্ট ২০১৮, ২৩:৩৯ | অনলাইন সংস্করণ

  যুগান্তর রিপোর্ট

ছবি: যুগান্তর

নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনের সময় সংঘাত, ভাঙচুর, উসকানি ও পুলিশের কাজে বাধা দেয়ার অভিযোগে করা মামলায় গ্রেফতার হওয়া ৯ শিক্ষার্থী জামিনে মুক্তি পেয়েছেন।  রোববার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে বেরিয়ে আসেন তারা।

সোমবার আরও ১৩ শিক্ষার্থী মুক্তি পাবেন বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের অতিরিক্ত জেলার জাহিদুল আলম।

রাতে যখন শিক্ষার্থীরা একে একে বেরিয়ে আসছিলেন তখন জেল গেটে সৃষ্টি হয় আবেগঘন পরিবেশ।  স্বজনের বুকের তারা কান্নায় ভেঙে পড়েন।  স্বজনদের প্রত্যাশা, বাকিরাও সোমবার মুক্তি পাবেন।

মুক্তি পাওয়া ৯ শিক্ষার্থী হলেন—বাড্ডা থানা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার হওয়া ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের শিক্ষার্থী রেজা রিফাত ওরফে আখলাক, ভাটারা থানা এলাকায় গ্রেপ্তার আইইউবির ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পঞ্চম সেমিস্টারের ছাত্র ফরিদ আহমেদ ও নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির বিবিএ দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র মেহেদী হাসান, বাড্ডা থানা এলাকায় গ্রেপ্তার ইস্টওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষার্থী মুশফিকুর রহমান, সাউথ ইস্ট ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের ষষ্ঠ বর্ষের ছাত্র সীমান্ত সরকার ও একই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএ ষষ্ঠ সেমিস্টারের শিক্ষার্থী ইক্তিদার হোসেন। এ ছাড়া বাড্ডা থানা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার হওয়া আহসানউল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্ডাস্ট্রি ও প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রথম সেমিস্টারের ছাত্র ইফতেখার আহমেদ ও প্রেসিডেন্সিয়াল ইউনিভার্সিটির ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং একাদশ সেমিস্টারের শিক্ষার্থী মো. হাসানও মুক্তি পেয়েছেন।  জামিনে কারাগার থেকে মুক্ত হয়েছেন ভাটারা থানা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার হওয়া নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির বিবিএ শেষ বর্ষের ছাত্র সামাদ মর্তুজা বিন আজাদ।

শিক্ষাবিদ ড. অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ছিল যৌক্তিক।  ওটা কোনো রাজনৈতিক আন্দোলন ছিল না।  তারা কোনো ভাঙচুর বা অপরাধ করেনি।  বরং হেলমেট পরা কিছু ব্যক্তি শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করেছে।

তিনি বলেন, পুলিশের উচিত হামলাকারীদের গ্রেফতার করা।  সেটা না করে নিরীহ শিক্ষার্থীদের গ্রেফতার করেছে।  সেই গ্রেফতার আমাদের কাছে অগ্রহণযোগ্য ছিল।  অথচ পরে দেখা গেল, শুধু গ্রেফতার নয়, তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।  

কাউকে হয়রানি করা যাবে না জানিয়ে তিনি বলেন, আমি মনে করি, জামিন দেয়া হয়েছে ভালো। প্রত্যেক্ষ শিক্ষার্থীকে জামিন দিতে হবে।

কেরানীগঞ্জের রাজেন্দ্রপুর এলাকার ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার সূত্রে জানা গেছে, রোববার বিকেল সোয়া ৫টার দিকে ২২ জন শিক্ষার্থীর জামিননামা আদালত থেকে কারাগারে পৌঁছায়।  জাহিদুল আলম বলেন, বাকি ১৩ জন শিক্ষার্থীকে আগামীকাল সোমবার সকাল ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে জামিনে মুক্তি দেয়া হবে।