মুক্তিযোদ্ধা কোটা নিয়ে মতামত

বিষয়টি একান্ত গোপনীয়, বলা ঠিক হবে না: অ্যাটর্নি জেনারেল

  যুগান্তর রিপোর্ট ২০ আগস্ট ২০১৮, ১৯:৪১ | অনলাইন সংস্করণ

অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম
অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। ফাইল ছবি

সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা নিয়ে রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম মতামত দিয়েছেন।

সোমবার বিকালে এ বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল যুগান্তরকে বলেন, মতামত পাঠিয়ে দিয়েছি। কী মত দিয়েছেন এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটা বলা ঠিক হবে না, বিষয়টি একান্ত গোপনীয়।’

এর আগে সোমবার সকাল থেকেই গণমাধ্যমের কর্মীরা অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিসের সামনে আসতে থাকে। অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে মতামতের বিষয়টি তারা জানতে চায়। কিন্ত কঠোর গোপনীয়তার মধ্যে তিনি মতামত প্রস্তুত করেন। কারো সঙ্গে কথা বলতে চাননি।

অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ের মূল দরজা ভেতর থেকে আটকানো ছিল। বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে তিনি কঠোর গোপনীয়তার মধ্যে মন্ত্রণালয় থেকে একজন কর্মকর্তা মতামতের কপিটি নিয়ে যান।

এর আগে গত শুক্রবার অ্যাটর্নি জেনারেল সাংবাদিকদের জানান, ‘আমি দুই-তিন দিন আগে চিঠি পেয়েছি। চিঠিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা নিয়ে আমার মতামত চাওয়া হয়েছে। আগামী সোমবারের মধ্যে আমার মতামত দেব।’

এর আগে সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা ৩০ শতাংশ রাখার বাধ্যবাধকতা নিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমের কাছে মতামত চায় এ সংক্রান্ত কমিটি।

গত ১২ আগস্ট মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম জানান, সরকারি চাকরিতে মেধাকে প্রাধান্য দিয়ে কোটা প্রথা যতটা সম্ভব তুলে দেয়ার সুপারিশ করছে এ সংক্রান্ত গঠিত কমিটি। তবে ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটার ব্যাপারে আদালতের রায় থাকায় এ ব্যাপারে সুপ্রিমকোর্টের মতামত চাইবে সরকার।

শফিউল আলম জানান, আমরা মাসখানেক কাজ করলাম। সুপারিশ প্রায় চূড়ান্ত। আমাদের কমিটির মোটামুটি সুপারিশ হলো- কোটা অলমোস্ট উঠিয়ে দেয়া, মেধাকে প্রাধান্য দেয়া। তবে সুপ্রিমকোর্টের একটা রায় আছে, মুক্তিযোদ্ধাদের কোটা প্রতিপালন ও সংরক্ষণ করতে হবে এবং যদি খালি থাকে তা খালি রাখতে হবে।

এ কারণে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের জন্য বর্তমানে থাকা ৩০ শতাংশ কোটার বিষয়ে সুপ্রিমকোর্টের কাছে মতামত চাইবে সরকার। মুক্তিযোদ্ধাদের কোটা সংরক্ষণ বিষয়ে সুপ্রিমকোর্টের পর্যবেক্ষণ এ সংক্রান্ত কমিটি পুরোপুরি বুঝতে না পারার কারণেই এ বিষয়ে আদালতের মতামত চাওয়া হবে।

যদি কোর্ট এটাকেও বাদ দিয়ে দেয় তাহলে কোটা থাকবে না। আর কোর্ট যদি বলে ওই অংশটুকু সংরক্ষিত রাখতে হবে, তাহলে ওই অংশটুকু (মুক্তিযোদ্ধা কোটা) বাদ দিয়ে বাকি সব উন্মুক্ত করে দেয়া হবে। অর্থাৎ আদালত যে মতামত দেয় সেটাই প্রাধান্য পাবে।

এদিকে কোটাব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে কয়েক মাস ধরে আন্দোলন করছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এ নিয়ে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সড়ক অবরোধ, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ এবং আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের গ্রেফতারের মতো ঘটনাও ঘটেছে।

কী ছিল উচ্চ আদালতের নির্দেশনা ও অভিমতে

২০১২ সালের ৫ ডিসেম্বর মুক্তিযোদ্ধাদের সুবিধা-সংক্রান্ত একটি রিট আবেদন কিছু পর্যবেক্ষণ ও নির্দেশনা দিয়ে নিষ্পত্তি করে দেয় হাইকোর্ট। বিচারপতি মামনুন রহমান এবং বিচারপতি আবু জাফর সিদ্দিকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চের এই রায়ে বলা হয়, মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের জন্য চাকরিতে ৩০ শতাংশ চাকরি সংরক্ষণ (কোটা) অবশ্যই অনুসরণ করতে হবে।

সংশ্লিষ্ট বিভাগ মুক্তিযোদ্ধা সন্তানের নিয়োগের ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে জানিয়ে রায়ে আরও বলা হয়, কোনো ক্ষেত্রে কোটা পূরণ যদি সম্ভব না হয় সেক্ষেত্রে পদ খালি রাখতে হবে। ওই রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করলে ২০১৫ সালের ৩১ আগস্ট আপিল বিভাগ হাইকোর্টের ওই রায়ের পর্যবেক্ষণের কিছু অংশ বাদ দিয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আপিল খারিজ করে দেন।

আপিলের রায়েও মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের জন্য চাকরিতে ৩০ শতাংশ সংরক্ষণের (কোটা) বিষয়টি বহাল রাখা হয়। তবে কোটা পূরণ সম্ভব না হলে পদ খালি রাখার যে পর্যবেক্ষণ দেয়া হয়েছিল তা বাদ দিয়ে দেয় আপিল বিভাগ।

ঘটনাপ্রবাহ : কোটাবিরোধী আন্দোলন ২০১৮

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×