ঈদযাত্রায় সড়কে ঝরলো ৩৩ প্রাণ

  যুগান্তর ডেস্ক    ২১ আগস্ট ২০১৮, ০৯:৫৪ | অনলাইন সংস্করণ

নরসিংদীতে যাত্রীবাহী বাস ও লেগুনার মুখোমুখি সংঘর্ষ

শুরু হয়েছে ঈদযাত্রা। কয়েকদিন ধরে মহানগরীর কর্মজীবী মানুষ নাড়ির টানে ঘরে ফিরছে। সড়কে বাড়ছে যানবাহনের চাপ। একই সঙ্গে ঘটছে দুর্ঘটনা। দেশের সড়ক-মহাসড়কে মৃত্যুর মিছিল থামছেই না।

রোববার সন্ধ্যা থেকে এ পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন জেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৩ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৫৩ জন।

এর মধ্যে শুধু নরসিংদী জেলায় নিহত হয়েছেন ১১ জন। ফেনীতে ৭ জন ও গাইবান্ধায় ৪ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ঢাকা কলেজ শাখা ছাত্রদলের এক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রয়েছেন।

প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর :

গোপালগঞ্জ : গোপালগঞ্জে বাস ও প্রাইভেটকারের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুইজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অপর এক নারী আহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার সকাল ৬টার দিকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের গোপালগঞ্জ সদরের উত্তর গোপীনাথপুর নাম স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন প্রাইভেটকারচালক প্রিন্স ইসলাম (৩৮) ও তার ফুফাতো ভাই শিমুল (৩৫)। প্রিন্সের স্ত্রী কেকাকে (৩০) গুরুতর অবস্থায় গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

নিহত প্রিন্স খুলনা মহানগর যুবলীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট আনিচুর রহমান পপলুর ভাতিজা বলে জানা গেছে।

নিহতের পারিবারিক সূত্র জানায়, প্রিন্স তার স্ত্রী কেকা ও ফুফাতো ভাই শিমুলকে সঙ্গে নিয়ে ঈদ করার জন্য নিজে তার প্রাইভেটকার চালিয়ে বাগেরহাটের ফকিরহাটের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলেন। সকাল ৬টার দিকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার উত্তর গোপীনাথপুর এলাকায় পৌঁছলে বিপরীত দিক থেকে আসা ঢাকাগামী সেবা গ্রীন লাইনের একটি পরিবহন বাসের সঙ্গে প্রাইভেটকারের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে প্রাইভেটকারটি দুমড়ে মুচড়ে যায়।

গোপালগঞ্জ সদর থানার ওসি মনিরুল ইসলাম জানান, প্রাইভেটকারচালক প্রিন্স ইসলাম ও তার ফুফাতো ভাই শিমুল ঘটনাস্থলেই নিহত হয়। আহত প্রিন্সের স্ত্রী কেকাকে গুরুতর অবস্থায় গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

নরসিংদী : সোমবার রাত ৯টার দিকে নরসিংদী ও ভৈরব সীন্তবর্তী এলাকা ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের বেলাব উপজেলার দড়িকান্দী নামক স্থানে যাত্রীবাহী বাস ও লেগুনার মুখোমুখি সংঘর্ষে চালকসহ ১১ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে ৭ জন যাত্রী। আহতদের পাশের ভৈরব ও নরসিংদীর বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

নরসিংদীতে যাত্রীবাহী বাস ও লেগুনার মুখোমুখি সংঘর্ষে চালকসহ ১১ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ৭ জন যাত্রী।

সোমবার রাত ৯টার দিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ভৈরব ও নরসিংদীর সীমান্ত এলাকা বেলাবো উপজেলার দরিকান্দি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতদের মধ্যে ৫ জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন- সুনামগঞ্জের আজমেরীগঞ্জের আবুল হোসেন (৩০), আবদুল মিয়া (২৪), মোবারক মিয়া (১৮), সুজন মিয়া (২২) ও তার স্ত্রী রাহেলা বেগম (২০)।

পুলিশ জানিয়েছে, কিশোরগঞ্জ থেকে বস পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস ঢাকা যাচ্ছিল। গাড়িটি ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের দরিকান্দি এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা ভৈরবগামী একটি যাত্রীবাহী লেগুনার সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।

এতে ঘটনাস্থলেই লেগুনার ৮ যাত্রী নিহত হন। আহতদের উদ্ধার করে ভৈরব ও নরসিংদীর বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদের মধ্যে ভৈরব স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২ জনের মৃত্যু হয়। নরসিংদী জেলা হাসপাতালে আনার পর একজন মারা যান।

ভৈরব হাইওয়ে থানার ওসি তৈফিকুর ইসলাম জানান, যাত্রীবাহী বাসের চালক পালিয়ে গেছে। দুর্ঘটনা কবলিত গাড়ি দুটিকে উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

পুলিশ সুপার সাইফুল্লাহ আল মামুন বলেন, দুটি গাড়িই দ্রুতগতিতে আসছিল। এখানে কোনো জ্যাম ছিল না। ওভারস্পিডের কারণেই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে আমরা প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি।

গাইবান্ধা : গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলায় দ্রুতগামী যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকসহ চারজন নিহত হয়েছেন। এ সময় অটোরিকশায় থাকা আরো এক যাত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন।

সোমবার বিকাল ৫টার দিকে রংপুর-ঢাকা মহাসড়কের পলাশবাড়ী উপজেলা শহরের অদূরে মহেশপুর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, দিনাজপুর থেকে ঢাকাগামী জেরিন পরিবহনের বাসটি মহেশপুর এলাকায় পৌঁছলে ধাপেরহাট থেকে পলাশবাড়ীগামী একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাকে পেছন থেকে ধাক্কা দেয়। এ সময় অটোরিকশাটি উল্টে গিয়ে দুমড়ে-মুচড়ে যায়।

এতে ঘটনাস্থলেই অটোরিকশারচালক সুমন, যাত্রী আবদুল হান্নান ও তার ছেলে মোহাম্মদ হোসেন নিহত হন। এছাড়া অটোরিকশায় থাকা আরও ২ যাত্রী আহত হন। তাদের পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পর গর্ভবতী আরজিনা মারা যান।

নিহতদের মধ্যে দুজনের বাড়ি সাদুল্যাপুর ও বাকি দুজনের বাড়ি পলাশবাড়ী উপজেলায়।

গোবিন্দগঞ্জ হাইওয়ে থানার ওসি জানান, নিহত চারজনের মধ্যে তিনজন পুরুষ ও একজন নারী। স্থানীয়দের সহায়তায় ঘাতক বাসটি আটক করা হয়েছে। তবে বাসচালক ও হেলপার আগেই পালিয়ে গেছে।

ফেনী : ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলায় গরুবাহী ট্রাকের সঙ্গে একটি মাইক্রোবাসের সংঘর্ষে শিশুসহ সাতজন নিহত হয়েছেন। এ সময় আহত হয়েছেন আরও ছয়জন। রোববার দিনগত রাত আড়াইটার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মুহুরীগঞ্জে সুলতানা ফিলিং স্টেশনের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

মুহুরীগঞ্জ হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মো. মাহাবুব জানান, মাইক্রোবাসটি লক্ষ্মীপুর থেকে চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে যাচ্ছিল। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মুহুরীগঞ্জে সুলতানা ফিলিং স্টেশনের সামনে চট্টগাম থেকে ছাগলনাইয়ামুখী একটি ট্রাক ইউটান নেয়ার সময় ওই মাইক্রোবাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।

এতে ঘটনাস্থলেই মাইক্রোবাসে থাকা দুই শিশু ও তিন নারীসহ ছয়জন নিহত এবং আহত হন অন্তত সাতজন। হাসপাতালে নেয়ার পথে আরও এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়। আহত ছয়জনকে ফেনীর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নিহতদের মৃতদেহ উদ্ধার করে একই হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে।

ঘাতক ট্রাকটি জব্দ করা হলেও চালক ও হেলপার পলাতক রয়েছেন বলে জানান ওসি।

গাজীপুর : গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের কোনাবাড়ী নতুনবাজার এলাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে কাভার্ডভ্যানচাপায় দুই কিশোরী নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছে তিনজন। সোমবার দুপুর দেড়টার দিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে নতুনবাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার রাখালিয়াচালা এলাকার সেলিম রানার মেয়ে সাদিয়া নাজনীন মীম (১৫) ও তাদের বাড়ির কাজের মেয়ে মাদারীপুরের জেলার সানজিদা (১২)।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, কোনাবাড়ী নতুনবাজার এলাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে টাঙ্গাইলগামী দুটি কাভার্ডভ্যান পাল্লাপাল্লি করে যাচ্ছিল। এ সময় একইগামী একটি যাত্রীবাহী রিকশাভ্যানকে একটি কাভার্ডভ্যান ধাক্কা দেয়। এতে রিকশাভ্যানে থাকা সাদিয়া নাজনীন মীম ও সানজিদাসহ ৫ জন রিকশাভ্যান থেকে মহাসড়কে পড়ে যায়।

এ সময় কাভার্ডভ্যানের নিচে চাপা পড়ে সাদিয়া নাজনীন মীম ও সানজিদা ঘটনাস্থলেই মারা যায়। এ ঘটনায় আহত হয় আরও তিনজন।

সালনা হাইওয়ে থানার ওসি বাসুদেব সিনহা বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে লাশ দুটি উদ্ধার করে থানায় নেয়া হয়েছে। কাভার্ডভ্যানটি পালিয়ে গেছে। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

ঝিনাইদহ : ঝিনাইদহে ট্রাকের চাপায় সেফাজ শাহরিয়ার সেতু নামের এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। সেতু জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ঢাকা কলেজ শাখার যুগ্ম সম্পাদক ও একই কলেজের স্নাতকোত্তর শ্রেণির ছাত্র ছিলেন।

সোমবার বিকাল ৩টার দিকে ঝিনাইদহ-মাগুরা সড়কের পাঁচমাইল নামক স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে সেতুর এক বন্ধু আহত হয়েছেন।

পুলিশ জানায়, সেফাজ শাহরিয়ার সেতু ও তার কয়েকজন বন্ধু ঢাকা থেকে একাধিক বন্ধু মোটরসাইকেলে চড়ে নিজ বাড়ি চুয়াডাঙ্গায় যাচ্ছিলেন। ঝিনাইদহ-মাগুরা সড়কের পাঁচমাইল নামক স্থানে পৌঁছানোর পরে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাক তাদের চাপা দিয়ে পালিয়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই সেতুর মৃত্যু হয়। পুলিশ তাঁর লাশ উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।

নিহত সেতু চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার বিশ্বপুর গ্রামের মোশাররফ হোসেনের ছেলে। তিনি ঢাকা কলেজ শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক বলে জানা গেছে।

পাবনা : সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলায় বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিম সংযোগ মহাসড়কে একটি ট্রাক আরেকটি ট্রাককে ধাক্কা দেয়ায় একজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন এক ট্রাক চালক। সোমবার সকালে কামারখন্দ উপজেলার ঝাঐল ওভারব্রিজ এলাকায় ওই দুর্ঘটনা ঘটে।

বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম থানার এসআই রুহুল আমিন জানান, সকালের দিকে ঝাঐল ওভারব্রিজ এলাকায় একটি ট্রাক উত্তরাঞ্চলমুখী হয়ে দাঁড়ানো ছিল। এ সময় পেছন থেকে অপর একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দাঁড়ানো ট্রাকটিকে সজোরে ধাক্কা দিলে চলন্ত গাড়িটির চালকসহ দুজন আহত হন। পরে আহত দুই ব্যক্তিকে উদ্ধার করে সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে নেওয়ার পর অজ্ঞাত পরিচয়যাত্রী মারা যান।

মাদারীপুর : মাদারীপুরের ডাসার উপজেলায় একটি মাইক্রোবাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে থাকা মুদি দোকানে ঢুকে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই মুদি দোকানদার এমারত তালুকদারের মেয়ে কর্ণপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ইমা (৭) নিহত হয়। এ ছাড়া দুর্ঘটনায় শিশুসহ আহত হয় পাঁচজন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার সন্ধ্যায় ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের কর্ণপাড়া এলাকায় মাইক্রোবাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে থাকা একটি মুদি দোকানে ঢুকে পড়ে। এ সময় দোকানে থাকা ইমা মারা যায় এবং তার সহপাঠী একই এলাকার রুহুল শরীফের মেয়ে সুমনা (৭) গুরুতর আহত হয়। আহত হয় পাশের চায়ের দোকানে থাকা ও মাইক্রোবাসে থাকা আরো চারজন। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। গুরুতর আহত শিশু সুমনাকে বরিশাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

দুর্ঘটনার পরে এলাকাবাসী গাছের গুঁড়ি ফেলে রাস্তা এক ঘণ্টা অবরোধ করে রাখে। এতে দুই পাশে পাঁচ শতাধিক গাড়ির জট বেঁধে যায়। পরে পুলিশ গিয়ে ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের আশ্বাস দিলে এলাকাবাসী অবরোধ তুলে নেয়।

মাদারীপুর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুমন দেব বলেন, কিছু সময় এলাকাবাসী রাস্তা অবরোধ করে রাখলেও সুষ্ঠু বিচারের আশ্বাস দিলে তারা অবরোধ তুলে নেয়। এখন যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

এদিকে রাজধানীর মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধে ট্রাকের ধাক্কায় সোহেল পারভেজ (৩২) নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। সোমবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমমিন জানান, সোহেলের বাড়ি চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার রেলপাড়া গ্রামে। থাকেন হাজারীবাগ টালিপাড়ায়। এক ছেলের জনক ছিলেন তিনি।

স্ত্রী জানান, পেশায় পাঠাও রাইড চালক ছিলেন সোহেল। সকালে মোটরসাইকেল নিয়ে কাজের জন্য বের হন। মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধ ভাঙ্গা মসজিদ এলাকায় একটি ট্রাক তাঁকে ধাক্কা দিলে আহত হন তিনি। পথচারীরা তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

মোহাম্মদপুর থানার ওসি জামাল উদ্দিন মীর জানান, ট্রাকের ধাক্কায় এই নিহতের ঘটনা ঘটেছে। ট্রাকটি জব্দ করা হয়েছে। তবে এর চালক পালিয়ে গেছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ মর্গে রাখা হয়েছে।

মুকসুদপুর: টেকেরহাট- ফরিদপুর মহাসড়কে বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগে ঘটনাস্থলেই তিনজন নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছে। বাসটি ফরিদপুর থেকে যাত্রী নিয়ে টেকেরহাট বন্দরে আসছিল।

নিহতরা হলেন, রোজিনা বেগম (২৫), অজ্ঞাত পুরুষ (৬০) ও অজ্ঞাত নারী (৩০)।

আহতরা হলেন, সৌরভ শেখ (৩০), কনিকা (২৫), মন্টু (৬০) আবু হোরাইরা (৩০) আজিত বৈদ্য (৪০) লুতফর (৪৫), হালিমন (৫০), খাদিজা (১০), শামীম (২৮)সহ কমপক্ষে ২০ জনকে রাজৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

মঙ্গলবার সাড়ে ১১টার দিকে টেকেরহাট-ফরিদপুর মহাসড়কের গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরের ১৪ নম্বর ব্রীজের কাছে দুর্ঘটানা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, লোকাল বাসটি ফরিদপুর থেকে যাত্রী নিয়ে টেকেরহাট বন্দরের উদ্দেশে ছেড়ে আসে। পথিমধ্যে ১৪ নম্বর ব্রিজের কাছে আসলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে গাছের সঙ্গে সজোরে ধাক্কা লাগে। এতে বাসটির সম্মুখভাগ দুমঁড়ে মুচঁড়ে যায় । খবর পেয়ে ভাংগা থানা হাইওয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে এসে উদ্ধার কাজ চালায় ।

মুকসুদপুর থানার ওসি মোস্তফা কামাল পাশা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter