রাজধানীজুড়ে পশু জবাই চলছে

প্রকাশ : ২২ আগস্ট ২০১৮, ১৬:২৭ | অনলাইন সংস্করণ

  যুগান্তর রিপোর্ট

ছবি: সংগৃহীত

সকালে মানুষ যখন ঈদের জামাত আদায় করছিলেন, তখন মাথায় ওপর ছিল মেঘলা আকাশ। নামাজ শেষেই পশু জবাই শুরু হয়ে যায়। গোশত বিতরণ, রান্না ও খাওয়ার মধ্য দিয়ে ঈদুল আজহা উদযাপন করছেন মুসলমানরা।

বুধবার সকাল ৮টায় রাজধানীতে ঈদের প্রধান জামাত হয় জাতীয় ঈদগাহে। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, মন্ত্রিসভার সদস্য ও বিচারপতিসহ সর্বস্তরের মানুষ সেখানে ঈদের নামাজ পড়েন। নামাজ শেষে দেশবাসী ও বিশ্ব মুসলমানদের কল্যাণ কামনায় মোনাজাত করেন।

রাজধানীতে বৃষ্টিমুখর ঈদ পালনের পূর্বাভাস ছিল আবহাওয়া অধিদফতরের। কিন্তু আকাশ মেঘলা থাকলেও নামাজের সময় বৃষ্টি হয়নি। কাজেই মানুষ ভোগান্তি ছাড়াই জামাত আদায় করতে পেরেছেন।

তবে দুপুরের দিকে কয়েক পশলা বৃষ্টি নামে। ঝুম বৃষ্টির মধ্যেও লোকজনকে পশু জবাই করতে দেখা গেছে। এতে পশুর বর্জ্য ধুয়ে যাওয়ায় অনেকেই সন্তোষ প্রকাশ করেন।

এদিকে কোরবানির পশুর বর্জ্য দ্রুততম সময়ের মধ্যে অপসারণের ওপর জোর দিচ্ছে নগর কর্তৃপক্ষ। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কার্পোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কোরবানির বর্জ্য পরিষ্কারের ঘোষণা দিয়েছেন।  

যত্রতত্র কোরবানির পশু জবাইয়ের কারণে পরিবেশ দূষণ এড়াতে এবার ১১ সিটি করপোরেশন এলাকায় দুই হাজার ৯৫৪টি স্থান নির্ধারণ করে দিয়েছে সরকার। এর মধ্যে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ৬২৫টি এবং উত্তর সিটি করপোরেশনে ৫৪৯টি স্থান।

তবে বরাবরের মতই নগরজুড়ে রাস্তা ও অলিগলিতে পশু জবাইয়ের দৃশ্য দেখা গেছে দুপুর পর্যন্ত।

সিটি করপোরেশনের হিসাবে এবার ঢাকায় প্রায় পাঁচ লাখ পশু কোরবানি হতে পারে। এসব পশুর বর্জ্য সরিয়ে নিতে মাঠে রয়েছেন দুই সিটি কর্পোরেশনের প্রায় ২১ হাজার পরিচ্ছন্নতা কর্মী।

বর্জ্য অপসারণের সুবিধার জন্য ঢাকার দুই করপোরেশন মিলিয়ে প্রায় পাঁচ লাখ পলিব্যাগ দিয়ে রেখেছে নাগরিকদের। পাশাপাশি জরুরি যোগাযোগের জন্য চালু করা হয়েছে হটলাইন।

এবার শুরুতে রাজধানীর পশুর হাটগুলোতে গরুর দাম বেশি বলে ক্রেতাদের অভিযোগ থাকলেও ঈদের আগের দিন দাম পড়ে যায়।

ট্যানারি ব্যবসায়ীরা এবার ঢাকায় লবণযুক্ত প্রতি বর্গফুট গরুর চামড়া কিনবেন ৪৫ থেকে ৫০ টাকায়; ঢাকার বাইরে এর দাম হবে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা। এছাড়া সারা দেশে খাসির চামড়া ১৮-২০ টাকা এবং বকরির চামড়া ১৩-১৫ টাকায় সংগ্রহ করবেন ব্যবসায়ীরা।