স্কুলে যাচ্ছে ২ লাখ রোহিঙ্গা শিশু, শিখছে বার্মা ও ইংরেজি ভাষা

  রীনা আকতার তুলি ২৯ আগস্ট ২০১৮, ১৯:১৯ | অনলাইন সংস্করণ

স্কুলে যাচ্ছে রোহিঙ্গা শিশুরা, ছবি আতাউর রহমান।
স্কুলে যাচ্ছে রোহিঙ্গা শিশুরা-ছবিঃ আতাউর রহমান

বুধবার সকাল সাড়ে ৭টা, ভোরে রবি চারদিকে কিরণ ছড়িয়েছে। উঁচু পাহাড়ের ওপরে বাঁশ, খড়ের ছাউনির ত্রিপল টানানোর একটি ছোট ঝুপড়িঘরে থেকে ভেসে আসছে কোমলমতি শিশুদের পড়া রপ্ত করার মধুর সুর...

ঝুপড়িঘরটি হচ্ছে কক্সবাজারের বালুখালী ক্যাম্পে অবস্থিত ইউনিসেফ পরিচালিত একটি শিক্ষাকেন্দ্র। এক বছর আগে গণহত্যা ও নির্যাতনের বিভীষিকা পেরিয়ে প্রায় ২ লাখ রোহিঙ্গা শিশু এখন ক্যাম্পে পড়ালেখার কিছুটা সুযোগ পাচ্ছে। এখানে শূন্য থেকে ১০ বছর শিশুদের পাঠদান করা হচ্ছে। তাদের শেখানো হচ্ছে বার্মা ও ইংরেজি ভাষা।

বাংলাদেশ দুযোর্গ ব্যস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের শরণার্থীবিষয়ক সেলের তথ্যমতে, গত ২৫ আগস্ট ২০১৭ থেকে ১৯ আগস্ট ২০১৮ পর্যন্ত কক্সবাজারে আশ্রয় নিয়েছে ১১ লাখ ১৮ হাজার ৫৫৭ জন, শূন্য থেকে ১০ বছরের শিশুর সংখ্যা ৪ লাখ। এসব শিশুর মধ্যে ৫২ শতাংশ স্কুলে যায়। তারা বার্মা ও ইংরেজি ভাষা শিখছে। সরকারি ও বেসরকারিভাবে বিভিন্ন এনজিও তাদের শিক্ষার ব্যবস্থা করেছে।

বিভিন্ন এনজিওর পরিচালিত অন্তত এক হাজার ২০০ শিক্ষাকেন্দ্র থেকে ৩০টি ক্যাম্পে রোহিঙ্গা শিশুদের শিক্ষাদান করা হচ্ছে। তবে এগুলো যথেষ্ট না হওয়ায় আরও শিক্ষাদান কেন্দ্র গড়ে তোলা হচ্ছে। যদিও ক্যাম্পগুলোতে ঠিক কতগুলো মাদ্রাসা, মক্তব বা ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে।

তবে এখনো টেকনাফ ও উখিয়ার আশ্রয়শিবিরগুলোর অনেক শিশু বঞ্চিত রয়েছে শিক্ষার সুযোগ থেকে। এ ছাড়া পাহাড়ি ঢালুতে গড়ে ওঠা ঘিঞ্জি এসব আশ্রয়কেন্দ্রে তাদের খেলাধুলার জন্য এতটুকু খালি জায়গাও অবশিষ্ট নেই। সেই সঙ্গে রয়েছে পুষ্টিহীনতা ও সীমাহীন দারিদ্র্যের চাপ।

কুতুপালং রোহিঙ্গা শিবিরের মধুরছড়া এলাকায় ব্যক্তিগত উদ্যোগে রোহিঙ্গা শিশুদের জন্য স্কুল খুলেছেন মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন। নিজের ঝুপড়িঘরেই স্কুল। কোনো সাইনবোর্ড নেই। তবুও নাম দিয়েছেন হোলি চাইল্ড আইডিয়াল প্রাইভেট সেন্টার।

মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন বলেন, মিয়ানমারের বুতিদং এলাকায় একসময় স্কুলশিক্ষক হিসেবে কাজ করতেন। ২০০৯ সালে বাংলাদেশে চলে আসেন। এরপর থেকেই কুতুপালং রোহিঙ্গা শিবিরে আছেন। এখানে কোনো ধরনের সহায়তা ছাড়াই রোহিঙ্গা শিশুদের জন্য একটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করেছেন। তিনটি শিফটে ৯০ জন শিক্ষার্থী।

শিক্ষাদান কেন্দ্রগুলোর বেশ কয়েকজন শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রোহিঙ্গা শিশুরা শিক্ষার সুযোগ পেলেও তা থেকে তারা তেমন উপকৃত হতে পারবে না।কারণ তাদের যে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে তা বাংলাদেশের পাঠ্যক্রম, না মিয়ানমারের। তাই তাদের এই শিক্ষা খুব একটা ফলপ্রসূ হবে না।

পঞ্চম শ্রেণিতে পড়া রোহিঙ্গা শিশু মরিয়ম জানায়, তারা বাবা-মাকে হত্যা করেছে মিয়ানমারের সেনারা। রাখাইন রাজ্যে তার বাড়ি। সেখানে চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করেছিল। এখনা আসার পর আবার পড়ার সুযোগ পাওয়ায় খুশি মরিয়ম।

শিশুদের শিক্ষাদানের বিষয়ে বাংলাদেশ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের শরণার্থীবিষয়ক সেলের প্রধান যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ হাবিবুল কবির চৌধুরী যুগান্তরকে বলেন, কক্সবাজারের গত এক বছরে আশ্রয় নেয়া শূন্য থেকে ১০ বছর বয়সী রোহিঙ্গা শিশুর সংখ্যা হচ্ছে ৪ লাখ। এদর মধ্যে স্কুলে যায় ৫২ শতাংশ।

তিনি বলেন, সরকারি এ ইউনিসেফের দেয়া পাঠ্যসূচি অনুযায়ী এখানে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করা হয়। এখানে শিশুদের অঙ্ক ও ইংরেজি শেখানো হয়। পাশাপাশি তাদের বার্মিজ ভাষা শেখাতে অপেক্ষাকৃত শিক্ষিত রোহিঙ্গাদের সাহায্য নেয়া হয়।

ঘটনাপ্রবাহ : রোহিঙ্গা বর্বরতা

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter