ইভিএমে নির্বাচনী ফলাফল টেম্পারিং অসম্ভব: ওবায়দুল কাদের

প্রকাশ : ৩১ আগস্ট ২০১৮, ১১:১১ | অনলাইন সংস্করণ

  সিলেট

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। ফাইল ছবি

ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) নির্বাচনী ফল টেম্পারিং করা অসম্ভব বলে দাবি করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

নির্বাচনে ইভিএমের ব্যবহার দেশের নির্বাচন সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা তৈরি করবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টায় সিলেট সার্কিট হাউসে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।

সেতুমন্ত্রী বলেন, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের ট্রেন কি থেমে থাকবে কোনো একটা দলের জন্য। বিএনপি সেই নির্বাচনে অংশ নেয়নি, সেটি তাদের ভুল।

‘সে ভুলের মাসুল তারা আজও দিচ্ছে। সেই ভুলের জন্য যারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছেন, তাদের অপরাধটা কোথায়?’

তিনি আরও বলেন, নিয়মানুযায়ী নির্বাচন হয়েছে, সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন হয়েছে। নির্বাচন কমিশন ফ্রি, ফেয়ার নির্বাচন করেছে। এখন একটা দল নির্বাচনে অংশ না নিয়ে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচনের একটা ফাঁদ তৈরি করেছিল। সেটি তো সংবিধানের দোষ নয়। সেটি তো যারা বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন, ওই ফাঁদের মধ্যে আটকা পড়ে, সেটি তো তাদের দোষ নয়। ইলেকশনে তো যারা প্রতিদ্বন্দ্বী, তারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্যই নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল।

ওবায়দুল কাদের বলেন, এখন আপনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে গেলেন, এমন যদি হতো বিএনপি তখন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা যাতে না করতে পারে, সে জন্য কেউ বাধা দিয়েছে— এ রকম অভিযোগ তো নেই। তা হলে আমাদের বিরুদ্ধে কেন এ অপবাদ?

বিএনপিকে ইঙ্গিত করে সেতুমন্ত্রী বলেন, জনগণের ওপর যাদের আস্থা নেই, তারা শুধু অজুহাত খুঁজে।

তিনি বলেন, নিরপেক্ষ সরকারের চেয়েও বেশি দরকার নিরপেক্ষ ইলেকশন কমিশন, নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষ থাকলে নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব।

‘যারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন, তাদের দরকার নির্বাচনটা নিরপেক্ষ হবে কিনা? নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে তাদের ভয় কোথায়?,’ যোগ করেন ওবায়দুল কাদের।

উল্লেখ্য, সংসদ নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহারের বিধান যুক্ত করে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

তবে একাদশ সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

বৃহস্পতিবার ইসি সচিবালয়ে দিনব্যাপী কমিশনের মুলতবি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

তবে ওই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা এবং তিন কারণ দেখিয়ে নোট অব ডিসেন্ট (লিখিত আপত্তি) দিয়ে নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার কমিশনের সভা বর্জন করেন।