যাত্রীকল্যাণ সমিতির প্রতিবেদন

ঈদযাত্রায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২৫৯, আহত ৯৬০

প্রকাশ : ৩১ আগস্ট ২০১৮, ১২:২৩ | অনলাইন সংস্করণ

  যুগান্তর রিপোর্ট

ঈদযাত্রায় সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে যাত্রীকল্যাণ সমিতির সংবাদ সম্মেলন। ফাইল ছবি-যুগান্তর

 

এবার কোরবানির ঈদযাত্রায় ২৩৭টি দুর্ঘটনায় ২৫৯ নিহত ও ৯৬০ জন আহত হয়েছেন।

দেশের বিভিন্ন সড়ক-মহাসড়কে ১৬-২৮ আগস্ট ১৩ দিনে এসব দুর্ঘটনা ঘটে।

বাংলাদেশ যাত্রীকল্যাণ সমিতির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী শুক্রবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে সমিতির মনিটরিং সেলের এক প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, পুলিশ, র‌্যাব, বিআরটিএ ও সরকারের বিভিন্ন সংস্থার নানামুখী তৎপরতা এবং  মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার থাকায় এবারের ঈদযাত্রা ঈদুল ফিতরের তুলনায় দুর্ঘটনা ১৪.৪৪ শতাংশ, প্রাণহানি ২৩.৫৯ শতাংশ এবং আহত ২৪.১১ শতাংশ কমেছে। 

পরিসংখ্যানে দেখা গেছে- ২৯.১৮ শতাংশ বাস, ২৩.৬ শতাংশ ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান, ৬.৬ শতাংশ নসিমন-করিমন, ৫.৯ শতাংশ ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক, ১১.১৫ শতাংশ অটোরিকশা, ১৬.৭২ শতাংশ ব্যক্তিগত গাড়ি, মাইক্রোবাস ও মোটরসাইকেল এবং ৯.১৬ শতাংশ অন্যান্য যানবাহন ঈদযাত্রায় দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে। 

মোট সংঘটিত দুর্ঘটনার ৩১.৩৮ শতাংশ মুখোমুখি সংঘর্ষ, ৪৪.৩৫ শতাংশ পথচারীকে চাপা দেয়ার ঘটনা, ১৭.৫৭ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়া, ১.১০ শতাংশ চলন্ত গাড়ি থেকে পড়ে, ১.২৬ শতাংশ চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে ও ৫.০২ শতাংশ অন্যান্য অজ্ঞাত কারণে সংঘটিত হয়েছে। 

এদিকে সড়ক দুর্ঘটনা ছাড়াও ভাড়া নিয়ে তর্কের জেরে চট্টগ্রামের সিটি গেট এলাকায় রেজাউল করিম রনি নামে এক যুবককে বাস থেকে ফেলে হত্যা করা হয়। 

ময়মনসিংহের নান্দাইলে লেগুনা ও অটোরিকশা থামিয়ে চাঁদা আদায়ের প্রতিবাদ করায় চার যাত্রীকে দুর্বৃত্তরা চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে আহত করে। 

হতাহতের মধ্যে ১২ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, চার চিকিৎসক, দুই প্রকৌশলী, দুই সাংবাদিক, দুই  শিক্ষক, ২০ শিক্ষার্থী, ৫৯ নারী, ৩৪ শিশু, ৪২ চালক-হেলপার এবং আটজন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী রয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন সেফ রোড অ্যান্ড ট্রান্সপোর্ট অ্যালায়েন্সের আহ্বায়ক ড. হোসেন জিল্লুর রহমান, দুর্ঘটনা প্রতিরোধ সংগঠন ফোয়ারার সভাপতি ইকরাম আহমেদ, বিআরটিএর সাবেক চেয়ারম্যান আইয়ুবুর রহমান খান, রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের সহসভাপতি ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া, গণপরিবহন বিশেষজ্ঞ আবদুল হক প্রমুখ।