সাংবাদিকতায় গোলাম সারওয়ার ও মোয়াজ্জেম হোসেন ছিলেন উজ্জ্বল নক্ষত্র

  যুগান্তর রিপোর্ট ৩১ আগস্ট ২০১৮, ১৮:০০ | অনলাইন সংস্করণ

জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে শোকসভায় সাংবাদিক নেতারা।
জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে শোকসভায় সাংবাদিক নেতারা। ছবি-যুগান্তর

দেশবরেণ্য সাংবাদিক গোলাম সারওয়ার ও এএইচএম মোয়াজ্জেম হোসেনের আত্মার মাগফেরাত কামনায় শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের উদ্যোগে প্রেসক্লাব ভিআইপি লাউঞ্জে অনুষ্ঠিত শোকসভায় দেশবরেণ্য সাংবাদিক, মিডিয়া ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় বক্তারা বলেছেন, মেধা নিষ্ঠা ও দক্ষতার কারণে গোলাম সারওয়ারকে অনেকেই সাংবাদিকতার শিক্ষক বলে মানেন। তিনি তো যথার্থ অর্থেই এ দেশে সাংবাদিক শিক্ষক হয়ে উঠেছিলেন। তার হাতে গড়া অন্তত পাঁচ শতাধিক সাংবাদিক এখন দেশের বিভিন্ন পত্রিকা ও টেলিভিশন মাধ্যমে নিজ নিজ দক্ষতার স্বাক্ষর রেখে চলেছেন। সাংবাদিক এএইচএম মোয়াজ্জেম হোসেন’ও ছিলেন সাংবাদিকদের অভিভাবকতুল্য। তারা এ দেশের সাংবাদিকতার উজ্জ্বল এক নক্ষত্র। একেকটি প্রতিষ্ঠান।

জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি মুহম্মদ শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে শোকসভায় আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য উপদেষ্টা ও ডেইলি অবজারভারের সম্পাদক ইকবাল সোবহান চৌধুরী, নিউজ টুডের সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ, বিশিষ্ট সাংবাদিক আবেদ খান, জাতীয় প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহসভাপতি ও দৈনিক যুগান্তরের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সাইফুল আলম।

এছাড়া জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন, বিশিষ্ট সাংবাদিক একুশে টেলিভিশনের প্রধান নির্বাহী মনজুরুল আহসান বুলবুল, সংবাদ ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক খন্দকার মুনীরুজ্জামান, সমকাল ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মুস্তাফিজ সফি। শোকসভাটি সঞ্চালন করেন ভোরের কাগজ সম্পাদক শ্যামল দত্ত।

ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলেন, ‘গোলাম সারওয়ার ভাই ও মোয়াজ্জেম হোসেন ভাই আমাদের অভিভাবক। এ দেশের সাংবাদিকতার উজ্জ্বল এক নকত্র। সারওয়ার ভাই, মোয়াজ্জেম ভাই অনেক ভদ্র মানুষ ছিলেন। ভদ্রতা বিনয়ী তাদের কাছ থেকে শিখেছি। সারওয়ার ভাই দিনে একবারে হলেও প্রেসক্লাবে আসতেনই। দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয়াসহ কোনো সমস্যা হলেই তার ভূমিকা ছিল অনন্য। তিনি ছিলেন আমাদের বাতিঘর, শিক্ষক।’

সাইফুল আলম বলেন, ‘গোলাম সারওয়ার ভাই ছিলেন আমার অভিভাবক। আজ আমার বাবা নেই, নেই সারওয়ার ভাইয়ের মতো অভিভাবকও। এ অভিভাবকদের হারিয়ে আমি যেন গৃহহীন হয়ে গেলাম। তাদের হারিয়ে ফেলে আমার জন্য অনেক কষ্টের, দুঃখের। মোয়াজ্জেম ভাইকে আমার সাংবাদিকতার চোখফোটা অবস্থায় পেয়েছি। তার ভালোবাসা পেয়েছি। আজীবন সাংবাদিকতা বলতে যা বোঝায়, সাংবাদিকতায় বিশ্বাসী মানুষ বলতে যাকে বোঝায়-তিনি হলেন মোয়াজ্জেম ভাই। তাদের গৌরবে অনেকই গৌরবান্বিত। রোজার ঈদের তিন আগে আমার বাবা মারা গেছেন। সারওয়ার ভাই আমাকে ফোন করে সান্ত্বনা দিয়েছেন। আমি বলেছিলাম, সারওয়ার ভাই আমি তো অভিভাবকহীন হয়ে গেলাম, এখন তো শুধু আপনিই আমার অভিভাবক। বলতেই তিনি আবেগতাড়িত হয়ে পড়েন।’

সাইফুল আলম বলেন, ‘সমস্যা আসলেই সারওয়ার ভাইয়ের নাম আসত। তিনি ছিলেন আশার আলো, আকাশের মতো উঁচু। এখন আমরা হাঁটু হয়ে গেছি। মানুষের আর আগের মতো সেই উচ্চতা নেই। মানুষ এখন হাঁটে মাটি টের পায়। সারওয়ার ভাই মাটির ওপর দিয়ে হাঁটতেন, মাটি টের পেত না। সারওয়ার ভাইয়ের উচ্চতা ছিল আকাশের সমান। মোয়াজ্জেম ভাইয়েরও উচ্চতা ছিল আকাশের সমান। আসুন, আমাদের কর্মে, বিশ্বাসে, আচার-আচরণে, স্বভাবে, চাল-চলনে, জীবন-আচারে সারওয়ার ভাই, মোয়াজ্জেম ভাইয়ের পথ অনুসরণ করি’।

রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আজ আমি বন্ধুহারা অবস্থায় আছি। সারওয়ার ভাই, বন্ধু মোয়াজ্জেমকে হারিয়ে শূন্যতায় রয়েছি। যে কোনো সমস্যায় সারওয়ার ভাই ছিলেন আমাদের অভিভাবক। ছিলেন শিক্ষক। তার মধ্যে শিল্পের ছোঁয়া ছিল। আদর্শ আর ন্যায়ের প্রতীক ছিলেন তিনি’।

ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, ‘সারওয়ার ভাই, মোয়াজ্জেম ভাইয়ের মৃত্যুতে পুরো সাংবাদিক সমাজ আজ শোকাহত। বিপদে-আপদে তাদের পেয়েছি, আজ তারা নেই। সাওয়ার ভাই সব সময় আমাকে পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করেছেন। তার অভাব কোনো দিন পূরণ হবে না’। আবেদ খান বলেন, ‘তারা ছিলেন লড়াকু সৈনিক। সাংবাদিক জগতের বাতি। সাংবাদিকতাই তাদের পেশা ছিল। এ পেশার মানুষদের প্রতি দায়িত্ববোধ ছিল। অভিভাবকের দায়িত্ব নিয়ে সমস্যা সমাধান করেছেন। আজ কিছু সম্পাদক সিইও হয়ে যাচ্ছেন। সম্পাদককে সম্পাদকই হতে হবে, সিইও নয়’।

মনজুরুল আহসান বুলবুল বলেন, ‘সারওয়ার ভাই, মোয়াজ্জেম ভাই আমাদের শিক্ষক। তারা নক্ষত্র হয়ে আমাদের পথ দেখাবেন। তাদের আদর্শ আর পেশাদারিত্বকে ধরে রেখেই আমাদের সাংবাদিকতা করতে হবে। সম্পাদকসহ পত্রিকার নানা পদে বহু লোক আসবে-যাবে, কিন্তু একজন গোলাম সারওয়ার আর কখনো আসবে না’।

ঘটনাপ্রবাহ : গোলাম সারওয়ার

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×