ডাকসু নির্বাচন নিয়ে ঢাবি ভিসিসহ ৩ জনকে আইনি নোটিশ

প্রকাশ : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৪:৩১ | অনলাইন সংস্করণ

  যুগান্তর রিপোর্ট

ছবি: সংগৃহীত

আদালতের নির্দেশনা অনুসারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় ভিসিসহ তিনজনকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

মঙ্গলবার ডাকসু নির্বাচন নিয়ে উচ্চ আদালতে রিট আবেদনকারীদের পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ রেজিস্ট্রি ডাকযোগে ওই নোটিশ পাঠান।

ঢাবি ভিসি ড. মো. আক্তারুজ্জামানসহ অন্যরা হলেন- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. একেএম গোলাম রাব্বানী ও কোষাধ্যক্ষ ড. কামাল উদ্দিন।

নোটিশ পাঠানোর পর এক বিজ্ঞপ্তিতে মনজিল মোরসেদ জানান,  আগামী সাত দিনের মধ্যে আদালতের নির্দেশনা অনুসারে ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে তিনজনের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আদালত অবমাননার মামলা করা হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে মনজিল মোরসেদ আরও বলেন, আদালতের এ রায়ের অনুলিপি সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের কাছে পাঠানো হয় এবং এ রায়ের সত্যায়িত অনুলিপি আইনজীবীর মাধ্যমে ঢাবি ভিসির কাছে পাঠানো হলে ৪ এপ্রিল তা গ্রহণ করা হয়। তা সত্ত্বেও পদক্ষেপ না নেয়ায় এ নোটিশ পাঠানো হয়। 

এর আগে গত ১৭ জানুয়ারি ছয় মাসের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়ে রায় দেন হাইকোর্ট।

ডাকসু নির্বাচনে পদক্ষেপ নিতে ৩১ শিক্ষার্থীর পক্ষে ২০১২ সালের ১১ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, প্রক্টর ও ট্রেজারারকে লিগ্যাল নোটিশ দেন অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ওই নোটিশের কোনো জবাব না দেয়ায় ওই বছরই ২৫ শিক্ষার্থীর পক্ষে রিট আবেদন করা হয়।

এর পর ৮ এপ্রিল হাইকোর্ট নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ডাকসু নির্বাচন করার ব্যর্থতা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন। বিবাদী ছিলেন শিক্ষা সচিব, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, ট্রেজারার, রেজিস্ট্রার ও প্রক্টর। ওই রুল শুনানি শেষে হাইকোর্ট রায় দেন।

রিট আবেদনে বলা হয়, ১৯৯৮ সালের ২৭ মে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আজাদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে এক সভায় সিদ্ধান্ত নেয়া হয়, ডাকসু নির্বাচনের পর এর সময়সীমা হবে এক বছর। পরবর্তী তিন মাস নির্বাচন না হলে বিদ্যমান কমিটি কাজ চালিয়ে যেতে পারবে। এ সিদ্ধান্তের পর ডাকসু ভেঙে দেয়া হয়। 

ডাকসু বিধান অনুযায়ী, প্রতি বছর নির্বাচন হওয়ার কথা। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে তা হচ্ছে না। প্রায় ২২ বছর আগে ১৯৯০ সালের ৬ জুলাই ডাকসুর সর্বশেষ নির্বাচন হয়। 

এর পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠানের কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। এ ব্যর্থতার কারণে হাজার হাজার শিক্ষার্থী তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।