২০৪১ সালের মধ্যে ৬০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে: শেখ হাসিনা

  যুগান্তর রিপোর্ট ০৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১২:০৬ | অনলাইন সংস্করণ

শেখ হাসিনা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ২০৪১ সালের মধ্যে ৬০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের মহাপরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। সবাইকে বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সপ্তাহের উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, দেশের ৯০ শতাংশ মানুষই বিদ্যুৎসেবা পাচ্ছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে প্রতি কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে গড়ে খরচ হচ্ছে ৬ টাকা ২০ পয়সা করে, তবে বিক্রি হচ্ছে ৪ টাকা ৮২ পয়সা করে। সবাইকে এ সেবার আওতায় আনতে ভর্তুকি দেয়া হচ্ছে।

বিদ্যুৎ চাহিদা মেটাতে পার্শ্ববর্তী পশ্চিমবঙ্গ থেকে এক হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করা হবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারতের মাধ্যমে নেপাল-ভুটান থেকেও বিদ্যুৎ আনা হবে।

সরকার ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য উন্নত সমৃদ্ধ জীবন নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে জানিয়ে সরকারপ্রধান সবাইকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির অপচয় রোধে সচেতন হওয়ার কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২১ বছর পর ১৯৯৬ সালে জনগণের ভোটে সরকার গঠন করে বিদ্যুৎ পেয়েছিলাম মাত্র ১৬শ মেগাওয়াট, চারদিকে হাহাকার, এ দেশের অধিকাংশ মানুষের ঘরে আলো ছিল না। সেই অবস্থা থেকে দেশকে মুক্ত করার জন্য সর্বপ্রথম আইন করে আমরা বেসরকারি খাতে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করি এবং বেসরকারি খাতকে উন্মুক্ত করে দেই।’

তিনি বলেন, ‘আমরা মাত্র কয়েক বছরের মধ্যেই ১৬শ’ থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন ৪ হাজার ৩শ’ মেগাওয়াটে নিয়ে যেতে সক্ষম হই। সেই সঙ্গে জেনারেটরের ওপর থেকে সব ট্যাক্স তুলে দেই এবং শিল্পকারখানার মালিকদের বলে দেই আপনারাও আপনাদের মতো বিদ্যুৎ উৎপাদন করুন এবং সেই বিদ্যুৎ আশপাশে বিক্রিও করতে পারবেন। আমরা গ্রিড লাইন আপনাদের ভাড়া দেব।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজ আমরা বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ২০ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করেছি। প্রতি মাসে ৩ থেকে ৫ লাখ গ্রাহক সংযোগের ফলে এখন মোট গ্রাহক সংখ্যা ৩ কোটিতে পৌঁছেছে।

প্রধানমন্ত্রী এ সময় বিদ্যুৎ খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান।

বর্তমানে ব্যবহৃত বাণিজ্যিক জ্বালানির প্রায় তিন-চতুর্থাংশ প্রাকৃতিক গ্যাস থেকে পূরণ করা হচ্ছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ২০০৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত নতুন ৪টি গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়েছে। গ্যাসের গড় উৎপাদন দৈনিক ১ হাজার ৭৪৪ মিলিয়ন ঘনফুট থেকে বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে দৈনিক ২ হাজার ৭৫০ মিলিয়ন ঘনফুটে উন্নীত হয়েছে। ৮৬২ কিলোমিটার নতুন গ্যাস সঞ্চালন পাইপলাইন নির্মাণ করা হয়েছে।

২০০৯-২০১৮ সময়ে ৩৩টি নতুন গ্যাস স্ট্রাকচার চিহ্নিতকরণ, ১৪টি অনুসন্ধান কূপ ও ৫৭টি উন্নয়ন কূপ খনন এবং ৪৪টি কূপের ওয়ার্কওভার কাজ তার সরকার সম্পাদন করেছে, বলেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, দেশের একমাত্র উৎপাদনশীল কয়লা খনি বড়পুকুরিয়া থেকে বর্তমানে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি লংওয়াল টপ কোল কেভিং (এলটিসিসি) পদ্ধতিতে গড়ে দৈনিক প্রায় ৪ হাজার থেকে ৪ হাজার ৫০০ টন উন্নতমানের বিটুমিনাস কয়লা উত্তোলন করা হচ্ছে।

দেশে গ্যাসের মজুদের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে গৃহস্থালি জ্বালানির চাহিদা পূরণে এলপিজির উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি বেসরকারি পর্যায়ে ৫৬টি প্রতিষ্ঠানকে এলপিজি প্ল্যান্ট স্থাপনের অনুমতি প্রদান করায় এলপিজি সিলিন্ডারের দাম অর্ধেকে নেমে এসেছে বলেও প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন।

বিদ্যুৎ খাতে প্রিপ্রেইড মিটার স্থাপন এবং অনলাইনভিত্তিক সেবা প্রদান করার মাধ্যমে বিদ্যুৎ খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, পায়রা বন্দর এবং মহেশখালিতে স্থলভিত্তিক এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। কাতার ও ওমান থেকে এলএনজি আমদানি এবং স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি কেনার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

সম্প্রতি নেপালের কাঠমান্ডুতে অনুষ্ঠিত বিমসটেক সম্মেলনে বিদ্যুৎ খাত নিয়ে আলোচনা করেছি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন,আমরা একটা বিমসটেক সোলার গ্রিড লাইন করে দিচ্ছি। এই আন্তঃদেশীয় গ্রিডলাইনের মাধ্যমে কে কত বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারে, তা থেকে বাংলাদেশ কিনবে, এটা আমরা স্পষ্ট করে ফেলেছি। আঞ্চলিক সহযোগিতার যুগান্তকারী পদক্ষেপটা আমরা ইতিমধ্যেই গ্রহণ করেছি।

‘অনির্বাণ আগামী’ প্রতিপাদ্যে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সরকারের সাফল্যকে তুলে ধরার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বিষয়ে দিকনির্দেশনা প্রদানে এই জ্বালানি সপ্তাহ উদযাপিত হচ্ছে।

জ্বালানি সপ্তাহের অন্যান্য কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীদের বিতর্ক প্রতিযোগিতা, জ্বালানিবিষয়ক সেরা প্রতিবেদনের জন্য সাংবাদিক ও দক্ষ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পুরস্কার প্রদান এবং গৃহস্থালি, শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী গ্রাহকদের সম্মাননা দেয়া হবে।

নেপালের জ্বালানি, পানিসম্পদ এবং সেচবিষয়কমন্ত্রী বর্ষা মান পুন অনন্ত, প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-এলাহী চৌধুরী, বীর বিক্রম, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. তাজুল ইসলাম বিশেষ অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন এবং বিদ্যুৎ, জ্বলানি ও খনিজসম্পদ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ সভাপতিত্ব করেন।

বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব ড. আহমেদ কায়কাউস অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ বিভাগে সরকারের সাফল্য ও পরিকল্পনা নিয়ে অনুষ্ঠানে প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন এবং খনিজসম্পদ বিভাগের সচিব আবু হেনা মোহম্মদ রহমাতুল মুনিম অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। অনুষ্ঠানে সরকারের বিদ্যুৎ খাতের সাফল্য নিয়ে একটি ভিডিওচিত্র প্রদর্শিত হয়।

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
.