নির্বাচনের আগে 'সাইবার যুদ্ধ' কেমন হতে পারে?

  যুগান্তর ডেস্ক    ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৯:৫০ | অনলাইন সংস্করণ

নির্বাচনের আগে 'সাইবার যুদ্ধ' কেমন হতে পারে?
প্র্রতীকী ছবি

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে 'সাইবার যুদ্ধ' হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম। এজন্য তিনি দলের নেতা-কর্মীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সক্রিয় হতে বলেছেন।

দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে 'সাইবার যুদ্ধ' প্রথমবারের মতো ব্যাপক আকার ধারণ করে ২০১২ সালে যুদ্ধাপরাধের বিচারের দাবিতে ঢাকার শাহবাগে গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলনের সময়।

মঞ্চের আন্দোলনকারীরা অনলাইন ব্লগ এবং সামাজিক মাধ্যমে সক্রিয় হলে তাদের বিরুদ্ধেও মাঠে নামে বহু সামাজিকমাধ্যম ব্যবহারকারী।

'বাঁশের কেল্লা' নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে বিচারের সমালোচনা করা হয় ক্রমাগত। 'বাঁশের কেল্লা' ফেসবুক পেজটিকে জামায়াতে ইসলামীর সমর্থকরা পরিচালনা করেন বলে ধারণা করা হয়।

পরবর্তীতে দেশে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও ব্যক্তির সমর্থনের নানা নামে পেজ ও গ্রুপ খোলা হয়। এসব পেজ ও গ্রুপে লাখ লাখ লাইকার, ফলোয়ার ও সদস্য রয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষক আসিফ নজরুল মনে করেন, আসছে নির্বাচনে অনলাইন-বিশেষ করে করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। বর্তমান সময়ে সারা পৃথিবীতে নির্বাচনী প্রচারণা এবং খবর আদান-প্রদানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

রাজনৈতিক পরিসরে অনলাইনে প্রচারণা ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠার দুটো কারণ রয়েছে বলে মনে করেন অধ্যাপক নজরুল।

তার মতে প্রথম কারণ হচ্ছে, বাংলাদেশের মূলধারার গণমাধ্যমে একাংশ বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়েছে। আরেকটি অংশ সরকারের বিভিন্ন কালাকানুনের ভয়ে স্বাধীন মতো সাংবাদিকতা করতে পারছে না।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য প্রযুক্তি বিভাগের শিক্ষক বিএম মইনুল হোসেন, এবারের নির্বাচনকে সামনে রেখে ফেসবুকে রাজনৈতিক দলের প্রার্থিরা নিজেদের প্রচারণা জোরেশোরে শুরু করেছেন।

তিনি বলেন, সাইবার যুদ্ধ বলতে তো আর প্রথাগত যুদ্ধ বোঝায় না। ইন্টারনেট ব্যবহার করে নিজেদের প্রচার-প্রচারনা করা এবং প্রতিপক্ষের ভুল চিহ্নিত করাটাই হবে এর উদ্দেশ্য।

সম্প্রতি কোটা সংস্কার এবং নিরাপদ সড়কের দাবিতে ছাত্র আন্দোলনের সময় বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বহুল ব্যবহার যেমন লক্ষ্য করা গেছে। আর তা নিয়ে সরকারের বিভিন্ন পর্যায় থেকে খোলাখুলি বিরক্তিপ্রকাশ এবং নেতিবাচক মন্তব্যও করা হয়েছে।

কিছুদিন আগে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তফা জব্বার বলেছেন, রাষ্ট্রের জন্য ক্ষতিকর হলে ফেসবুকসহ যে কোন কিছু বন্ধ করতে হবে।

ফেসবুকে অনেক গ্রুপ এবং পেজ আছে যেখানে আওয়ামী লীগ, বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামীর কর্মকাণ্ডের সমর্থন করা কিংবা প্রতিপক্ষের সমালোচনা করা হয়।

আওয়ামীলীগ এবং বিএনপি'র মতো বড় রাজনৈতিক দলগুলোর ফেসবুক পেজের পাশাপাশি টুইটার এবং ইউটিউবেও সক্রিয়।

'বিএনপি সমর্থক গোষ্ঠী', 'বিএনপি-দেশনায়ক তারেক রহমান' কিংবা 'শেখ হাসিনা-মাদার অব হিউম্যানিটি', 'বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ অনলাইন ফোরাম'- এ ধরণের বহু ফেসবুক পেজ দেখা যায়।

ঘটনাপ্রবাহ : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
.