মিয়ানমারকে চাপ না দিলে কথা রাখে না: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

  যুগান্তর রিপোর্ট ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২১:৩০ | অনলাইন সংস্করণ

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম
রোহিঙ্গা সম্পর্কিত একটি প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিচ্ছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। ছবি-সংগৃহীত

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেছেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় মিয়ানমারকে চাপ না দিলে কথা রাখে না। পূর্ব অভিজ্ঞতা থেকে বারবার দেখেছি, চাপ পড়লেই তারা কথা বলে। রাখাইনে গণহত্যার মতো যে নৃশংস ঘটনা ঘটেছে তার বিচার নিশ্চিতের জন্য মিয়ানমারের বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়ে জনমত কাজে দেবে।

তিনি বলেন, বিশ্বের সকলে মিয়ানমারকে চাপ দিলেই রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী স্বেচ্ছায়, নিরাপদে এবং নাগরিক অধিকার নিয়ে তাদের আবাসভূমিতে ফিরতে পারবে।

মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর রাওয়া কনভেনশন সেন্টারে অক্সফামের উদ্যোগে রোহিঙ্গা সম্পর্কিত একটি প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, কক্সবাজার ও চট্টগ্রামকেন্দ্রিক কোনো উন্নয়নকাজের সঙ্গে রোহিঙ্গাদের এখনই সম্পৃক্ত করার ঝুঁকি নেবে না সরকার। রোহিঙ্গারা যেন নিজ দেশে ফিরে গিয়ে কিছু করতে পারেন, সেই দক্ষতা বাড়ানোর কাজ করা হবে। রোহিঙ্গা সমস্যার স্থায়ী সমাধানে কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে বাংলাদেশ। সেই সঙ্গে সারা বিশ্বে জনমত বাড়ানোর কাজ চলছে।

শাহরিয়ার আলম বলেন, স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা নারী পাচার ও যৌন হয়রানি বন্ধে বাংলাদেশ আন্তরিকভাবে বিষয়গুলো সমাধানে এখনো দরকার ৭৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

মিয়ানমারের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে চায় বাংলাদেশ এমনটা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, তবে মাদক ও রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের অবস্থান কঠোর।

মঙ্গলবার সকালে মহাখালীতে একটি বেসরকারি মিলনায়তনে ‘ওয়ান ইয়ার অন: টাইম টু পুট উইমেন অ্যান্ড গার্লস এট দ্য হার্ট অব দ্য রোহিঙ্গা রেসপন্স’ শীর্ষক এক প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, অক্সফামের আবাসিক প্রতিনিধি দিপঙ্কর দত্ত, সিডিডির নিবার্হী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন, জাতিসংঘের নারীবিষয়ক আবাসিক প্রতিনিধি শকো ইসিকাওয়া, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মেজবাহ কামালসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

রোহিঙ্গা নারী ও শিশুদের প্রতি বাংলাদেশ বিশেষ যত্ন নিচ্ছে উল্লেখ করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বিশেষ মানবিক সহায়তা দেয়ার জন্য ৩৪ হাজার ৩৩৮ গর্ভবতী নারীকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩ হাজার ৫৫৪ জন শিশু বিশেষ ব্যবস্থায় ভূমিষ্ঠ হয়েছে। রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য ৮ হাজার ১৭০টি চাপকল, ৫০ হাজার ৫০৮টি শৌচাগার এবং ১১ হাজার ১৯০টি স্নানাগার নির্মাণ করা হয়েছে। পাশাপাশি নারীদের জন্য ছাদসহ পৃথক স্নানাগার নির্মাণ করা হয়েছে।’

তাছাড়া ‘১১টি নিরাপত্তাচৌকিতে অতিরিক্ত ১ হাজার ২০০ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য নিয়োগ করা হয়েছে। রাতের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ১৩ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিদ্যুৎ সরবরাহের লাইন তৈরি করা হয়েছে, যার মাধ্যমে ৫০টি স্ট্রিট লাইট, ১০টি ফ্লাড লাইট এবং ১ হাজার ৪০টি সোলার বাতি রাস্তাকে আলোকিত করছে।’

অনুষ্ঠানে অক্সফামের পক্ষ থেকে বলা হয়, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর যেসব নারীরা বাংলাদেশের একাধিক আশ্রয় শিবিরে বাস করছে স্বাস্থ্যসেবা পাচ্ছে না, পর্যাপ্ত মানবিক সহায়তা পাচ্ছে না। প্রয়োজনীয় সেবা না পাওয়ায় এসব নারীরা বিভিন্ন ধরনের অপব্যবহারের ঝুঁকিতে রয়েছে।

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter