টানা দু’বার সংসদ নির্বাচনে অংশ না নিলে নিবন্ধন ঝুঁকি: ইসি সচিব

  যুগান্তর রিপোর্ট ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৯:৫১ | অনলাইন সংস্করণ

ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ।
ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ। ফাইল ছবি

নির্বাচন কমিশনে (ইসি) নিবন্ধিত কোনো রাজনৈতিক দল পরপর দুইবার নির্বাচনে অংশ না নিলে ওই দলের নিবন্ধন ঝুঁকির মুখে পড়বে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ।

মঙ্গলবার নির্বাচন ভবনের নিজ কার্যালয়ে তিনি এ কথা বলেন।

সচিব বলেন, কোনো রাজনৈতিক দল যদি একটি আসনেও নির্বাচন না করে তাহলে নিবন্ধন আইন অনুযায়ী তাদের নিবন্ধন ঝুঁকির মধ্যে পড়ে যায়। তবে আরও অনেক ক্রাইটেরিয়া থেকে যায়। কতগুলো দলের নিবন্ধন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে সে পরিসংখ্যান করা হয়নি। সচিব জানান, ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা ও ম্যাজিস্ট্রেটদের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপিসহ ২৮টি রাজনৈতিক দল অংশ নেয়নি। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ ১২টি দল অংশ নিয়েছিল।

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, আরপিও সংশোধন প্রসঙ্গে হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, কমিশন থেকে আরপিও সংশোধনীর প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি। তারা মিটিং করে মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করবেন। মন্ত্রিসভায় যদি এটি অনুমোদন হয়, তাহলেই সংসদে যাবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত এটি কোন পর্যায়ে আছে তার তথ্য পাইনি। যদি এটি সংশোধন হয়, তাহলে ভালো। আর না হলে তারও প্রস্তুতি আছে। আগের আরপিও দিয়েও নির্বাচনের সব কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব। ফলে বিদ্যমান আরপিও দিয়ে সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

ইসি সচিব বলেন, ৩০ অক্টোবরের পর যে কোনো দিন তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে। এ বিষয়টি সামনে রেখে ইসি সচিবালয় বিভিন্ন প্রস্তুতি এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। আমরা সারা দেশের ৪০ হাজার ১৯৯টি কেন্দ্রের তথ্য পেয়েছি। সেগুলো প্রায় চূড়ান্ত হয়ে গেছে। যখন তফসিল ঘোষণা করা হবে, তখন রিটার্নিং কর্মকর্তারা কেন্দ্রগুলোর তালিকা আমাদের কাছে পাঠাবে। এরপর সেগুলো গেজেট আকারে প্রকাশ করা হবে। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে যতগুলো শাখা রয়েছে। প্রতিটি শাখার সঙ্গে আমরা কথা বলতেছি। নির্বাচনের প্রস্তুতিতে কোথায় যাতে কোনো ভুলভ্রান্তি না হয়, সে বিষয়ে তাদেরকে নির্দেশনা দেয়া হচ্ছে। সামনে নির্বাচন কমিশন সভায় যাতে সব ধরনের তথ্য তুলে ধরা যায়, সে জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নির্বাচনে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা, জুডিশিয়াল হাকিম হিসেবে যারা কাজ করবেন, তাদের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। তাদের প্রশিক্ষণ দেয়ারও প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। তফসিল ঘোষণার পরপরই এটি শুরু হবে। ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ অঞ্চলভিত্তিক হবে। যারা তাদের প্রশিক্ষণ দেবেন তাদের প্রশিক্ষণও ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে।

তিনি বলেন, সরকারি, বেসরকারি অফিস, ব্যাংকের কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে নিয়োগ দেয়া হবে। ৩০০ আসনের একসঙ্গে নির্বাচনের জন্য অনেক ভোটগ্রহণ কর্মকর্তার দরকার হয়। ইতিমধ্যে যারা প্রিসাইডিং অফিসারের দায়িত্বপালন করেছেন, নিরপেক্ষ ব্যক্তি এবং যাদের বিরুদ্ধে দলীয় তকমা লাগার অভিযোগ নেই এমন লোকদের নিয়োগ দেয়া হবে।

হেলালুদ্দীন আহমেদ বলেন, মঙ্গলবার থেকে ১০ আঞ্চলিক অফিসে ভোটার তালিকার সিডি পাঠানোর কাজ শুরু করব। প্রথমে সিলেট ও খুলনা অঞ্চলে পাঠাব। বাকিগুলো এক সপ্তাহের মধ্যে পাঠানো হবে। নিয়মিত কমিশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বসে দিকনির্দেশনা দিচ্ছি। নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে কাজ চলছে।

ইসি সচিব বলেন, ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচন হবে, সেটা ধরেই প্রস্তুতি এগিয়ে নেয়া হচ্ছে। ইভিএম বিষয় তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন ইভিএম ব্যবহার করবে কি করবে না, সে বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। আরপিও সংশোধন হলে এ বিষয় কমিশন সিদ্ধান্ত নেবে। যদি এই সংসদে এটি নাও হয়, আমাদের অনেক স্থানীয় নির্বাচন আছে। সেখানে আমরা এগুলো ব্যবহার করতে পারব।

ঘটনাপ্রবাহ : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×