চাকরিতে কোটা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ৫ তথ্য

  যুগান্তর ডেস্ক    ০৪ অক্টোবর ২০১৮, ১৭:২৮ | অনলাইন সংস্করণ

ফেব্রুয়ারি মাস থেকে কোটা ব্যবস্থা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন করে আসছিলেন শিক্ষার্থীরা।
ফেব্রুয়ারি মাস থেকে কোটা ব্যবস্থা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন করে আসছিলেন শিক্ষার্থীরা। ছবি: বিবিসি

সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি সংশোধন করে পরিপত্র জারি করেছে সরকার। চাকরিতে নবম থেকে ১৩তম গ্রেডে নিয়োগের ক্ষেত্রে (প্রথম এবং দ্বিতীয় শ্রেণি) কোটা বাতিল করা হয়েছে।

এই দুই শ্রেণির বাদে বাকি পদগুলোতে আগের মতোই কোটা বহাল থাকবে। এছাড়া কর্পোরেশন বা স্বায়ত্তশাসিত সংস্থাগুলো নিজেদের বিধিমালা অনুযায়ী নিয়োগ দিতে পারবে।

এদিকে কোটা বাতিলের এ সিদ্ধান্তের পর বিক্ষোভ করছে মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের সমর্থিত কয়েকটি সংগঠন। এমন অবস্থা কোটার বিষয়টি কি দাঁড়াচ্ছে?

১. কোটাব্যবস্থা কি পুরোপুরি বাতিল?

জারি করা পরিপত্র অনুযায়ী যেটি স্পষ্ট হয়েছে তা হচ্ছে, এখন থেকে নবম থেকে ১৩তম গ্রেডে নিয়োগের ক্ষেত্রে আর কোনো কোটাব্যবস্থা থাকছে না। অর্থাৎ আগে যা প্রথম এবং দ্বিতীয় শ্রেণির চাকরি বলে পরিচিত ছিল, সেখানে কোটার ভিত্তিতে কোনো নিয়োগ হবে না।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম এ তথ্য জানিয়েছেন।

তবে তৃতীয় শ্রেণি ও চতুর্থ শ্রেণি পদের চাকরিগুলোয় আগের মতোই কোটাব্যবস্থা থাকছে, সেখানে পরিবর্তনের কোনো ঘোষণা দেয়া হয়নি। তৃতীয় এবং চতুর্থ শ্রেণির সরকারি চাকরিতে আগের মতোই কোটাব্যবস্থা বহাল থাকছে।

সাবেক উপদেষ্টা ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সাবেক সচিব আকবর আলি খান বলেন, তৃতীয় শ্রেণির এবং চতুর্থ শ্রেণির চাকরিতে মেধা নির্ধারণ করা অত্যন্ত শক্ত। কারণ সেখানে কাজগুলো হলো অদক্ষ কাজ, তাদের নির্বাচন করার সময় মেধার মূল্যায়ন করা অত্যন্ত শক্ত। সুতরাং সেখানে কোটা থাকা বা না থাকায় খুব একটা তফাত হয় না। সুতরাং সেখানে কোটা থাকলেও তার কোনো প্রভাব পড়বে না।

২. কবে থেকে এই নতুন নিয়ম কার্যকর হবে?

তবে মন্ত্রিসভা এই সুপারিশ অনুমোদন করা মানেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে কিনা তা হয়তো অনেকে পরিষ্কার নয়।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় যে পরিপত্র জারি করেছে তাতে বলা হয়েছে, ৯ম (পূর্বতন ১ম শ্রেণি), ১০ম ও ১৩তম (পূর্বতন ২য় শ্রেণি) গ্রেডের ক্ষেত্রে সরাসরি মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ করা হবে।

নবম (পূর্বতন ১ম শ্রেণি), ১০ম ও ১৩তম গ্রেডের (পূর্বতন ২য় শ্রেণি) ক্ষেত্রে সব ধরনের কোটা বাতিল করা হলো।

এসব সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে মন্ত্রণালয়ের সচিব ফয়েজ আহম্মদ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়।

৩. কোটাব্যবস্থা কি পুনরায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব?

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম জানিয়েছেন, সরকার চাইলে আবার কোটাব্যবস্থা পুনর্বহাল করতে পারবে। তবে সেক্ষেত্রে এখনকার প্রক্রিয়াগুলোই অনুসরণ করতে হবে।

অর্থাৎ সচিব কমিটিকে পুনরায় পর্যালোচনার দায়িত্ব দিতে হবে, তাদের সুপারিশ মন্ত্রিসভা কমিটিতে উত্থাপন এবং অনুমোদন হতে হবে। এরপর পুনরায় প্রজ্ঞাপন জারি করে কোটাব্যবস্থা বহাল করতে হবে। অর্থাৎ পুরোটাই নির্ভর করবে সরকারের ইচ্ছার ওপরে। তবে চাইলে সরকার এই কমিটি পুনর্বিন্যাস করতে পারে।

সাবেক সচিব আকবর আলি খান বলছেন, ভবিষ্যতে যদি দেখা যায় বা সরকার মনে করে যে, কোনো কোটার দরকার, তাহলে সরকার যে কোনো সময় সিদ্ধান্ত নিতে পারে। কোনো কিছুই চিরন্তন নয়, সরকার পর্যালোচনা করে যে কোনো সময় কোটাসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

৪. যেসব চাকরি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে, সেসব ক্ষেত্রে কী হবে?

সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম বলছেন, যেসব নিয়োগ ঘোষণায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, কোটার ব্যাপারে সরকার যে সিদ্ধান্ত নেবে, সেভাবেই কার্যকর হবে। অর্থাৎ সেখানে আর কোটার ব্যাপারটা থাকবে না।

যেমন গত সেপ্টেম্বরে জারি হওয়া ৪০তম বিসিএস পরীক্ষার সার্কুলারে কোটার উল্লেখ থাকলেও, সেখানে ১৮ (চ) শর্ত রয়েছে যে, বিজ্ঞাপনে উল্লিখিত পদ/পদসমূহের চূড়ান্ত সুপারিশ প্রণয়নের সময় সরকারের সর্বশেষ কোটা নীতি অনুসরণ করা হবে।

সরকারি কর্ম কমিশন সূত্রে জানা গেছে, এর মধ্যে যেসব নিয়োগে এই শর্তটি উল্লেখ করা হয়নি বা নিয়োগ শেষের দিকে রয়েছে, সেখানে নতুন কোটানীতি প্রযোজ্য হবে না। কিন্তু যেসব নিয়োগ বিজ্ঞাপনে এই শর্তটি উল্লেখ করে দেয়া হয়েছে, সেসব ক্ষেত্রে নতুন কোটা নীতি অনুসারে নিয়োগ হবে।

৫. কোটায় কি এখনো নিয়োগ হওয়ার সুযোগ থাকছে?

কোটা বাতিল হলেও প্রতিবন্ধীদের নিয়োগের মতো কিছু কিছু ক্ষেত্রে এই সুবিধা থাকছে। যেমন পিএসসি ছাড়া স্বায়ত্তশাসিত বা আধা স্বায়ত্তশাসিত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে, কর্পোরেশনে বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যারা প্রথম বা দ্বিতীয় শ্রেণির পদে নিজেরা নিয়োগ দিয়ে থাকে, তাদের বিধিমালা অনুসারে কোটার বিধান থাকলে, সেটি তারা অনুসরণ করতে পারবে।

সাবেক উপদেষ্টা আকবর আলি খান বলছেন, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীসহ কারো কারো এখনো কোটার বিষয়ে বক্তব্য আছে। কোটার অন্যান্য বিকল্পও আছে। যদি সরকার মনে করে যে, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বা প্রতিবন্ধীদের জন্য কোটার প্রয়োজন আছে, তখন সরকার যে কোনো সময় সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

সূত্র: বিবিসি বাংলা।

ঘটনাপ্রবাহ : কোটাবিরোধী আন্দোলন ২০১৮

আরও
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×