কিশোরগঞ্জ-ঢাকা সরাসরি ট্রেনের ব্যবস্থা হচ্ছে: রাষ্ট্রপতি

  এটিএম নিজাম, কিশোরগঞ্জ ব্যুরো ০৮ অক্টোবর ২০১৮, ২৩:১৩ | অনলাইন সংস্করণ

কিশোরগঞ্জের গুরুদয়াল সরকারি কলেজ মাঠে আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনায় রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। ছবি: যুগান্তর
কিশোরগঞ্জের গুরুদয়াল সরকারি কলেজ মাঠে আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনায় রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। ছবি: যুগান্তর

ট্রেনে ঢাকা-কিশোরগঞ্জ যাতায়াতে ভৈরবে এসে বগি চেঞ্জ করতে হয়। ঢাকায় যাতায়াত করা যাত্রীদের ভৈরবে এসে বসে থাকতে হয়। এজন্য আধা ঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টা সময় নষ্ট হয়। কিশোরগঞ্জের যাত্রীদের এ সমস্যার কথা চিন্তা করে কিশোরগঞ্জ-ঢাকা সরাসরি ট্রেনের ব্যবস্থা করছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ।

এজন্য বাইপাস সড়কেরও উদ্যোগ নিয়েছেন ভাটির শার্দুলখ্যাত এ রাষ্ট্রপতি।

সোমবার কিশোরগঞ্জের গুরুদয়ালে এক নাগরিক সংবর্ধনায় কিশোরগঞ্জবাসীর প্রাণের দাবি ট্রেনের সমস্যা নিয়ে কথা বলেন রাষ্ট্রপতি।

নতুন আরও একটি ট্রেন এ রুটে দেয়া প্রয়োজন উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ বলেন, আমি প্রথম রাষ্ট্রপতি হয়ে কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস নামে একটি ট্রেন বাড়িয়েছিলাম। চাহিদার প্রয়োজনে এখন আবার একটা নতুন ট্রেনের দরকার এবং ট্রেনের কোচ এবং বগি বাড়ানো প্রয়োজন।

কিশোরগঞ্জের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা ট্রেনের দাবি করেছেন, এটা যৌক্তিক দাবি। ভৈরব এসে ট্রেন আধ ঘন্টা থেকে এক ঘন্টা অপেক্ষা করে ইঞ্জিন ঘুরিয়ে কিশোরগঞ্জ আসতে হয়। যাওয়ার সময় আবার ইঞ্জিন ঘুরিয়ে ভৈরবে আধ ঘন্টা-এক ঘন্টার জন্য থাকতে হয়। এজন্য একটা বাইপাস করে দিলেই ট্রেন সরাসরি কিশোরগঞ্জ আসতে পারে। এটার জন্য আমি ডিও লেটার দিয়েছি।

রাষ্ট্রপতি বলেন, আমি কিশোরগঞ্জ থেকে ঢাকায় ফিরেই খুব দ্রুত রেলমন্ত্রী ও রেল সচিবকে আমি বঙ্গভবনে ডাকবো। এ ব্যাপারে যেনো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয় এবং আমাদের ট্রেনের যে সমস্যা এগুলো দূর করা হয়।

প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালে ঢাকা-কিশোরগঞ্জ রেলপথে কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস নামে স্পেশাল ট্রেন চলাচল শুরু হয়। ওই ট্রেনটি শুক্রবার ছাড়া প্রতিদিন ঢাকা-কিশোরগঞ্জ রেলপথে নিয়মিত চলাচল করে। এ ট্রেনের প্রথম শ্রেণী, শোভন চেয়ার ও শোভন শ্রেণি মিলিয়ে আসন সংখ্যা ৫৫২টি।

কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস প্রতিদিন ঢাকা থেকে ছেড়ে যায় সকাল ১০টা ২০ মিনেটে পৌঁছে বিকাল ৩টা ২০ মিনিটে। আর ৩টা ৪০ মিনিটে কিশোরগঞ্জ থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে।

এছাড়া এগারো সিন্ধুর নামের আরেকটি ট্রেন চলাচল করে এ রুটে। কিন্তু ভৈরবে যাত্রা বিরতির কারণে যাত্রীদের অনেকটা দুর্ভোগ পোহাতে হয়। সেই দুর্ভোগ পোহানোর উদ্যোগ নেয়ায় রাষ্ট্রপতিকে কিশোরগঞ্জের বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার মানুষ আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

ঢাকা-কিশোরগঞ্জ রুটে নিয়মিত যাতায়াতকারী তথ্য ও যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা আহসান হাবিব যুগান্তরকে বলেন, মহামান্য রাষ্ট্রপতির নির্দেশনায় বাইপাস চালু হলে আমাদের অন্তত দেড়ঘণ্টা সময় বেঁচে যাবে। আমি মহামান্য রাষ্ট্রপতিকে ধন্যবাদ জানাই।

কিশোরগঞ্জে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় হবে

কিশোরগঞ্জে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় করার ঘোষণা দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ অ্যাডভোকেট। তিনি বলেন, কিশোরগঞ্জে একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রয়োজন। এজন্য করিমগঞ্জে বুধবার (নিজ নামে প্রতিষ্ঠিত মেডিকেল কলেজের অনুষ্ঠানে) যাচ্ছি। কিশোরগঞ্জ- করিমগঞ্জ মহাসড়কের পাশে জমির জন্য জায়গা দেখব।

তিনদিনের সরকারি সফরে কিশোরগঞ্জ এসে তিনি প্রথম দিন তার প্রিয় বিদ্যাপীঠ এবং ছাত্র রাজনীতির কর্মকাণ্ডের অম্লমধুর স্মৃতি বিজড়িত কলেজ মাঠে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেন, আজকে গুরুদয়াল কলেজের এই মাঠে এসে আমার অতীতের অনেক স্মৃতি মনে পড়ে গেলো। এই যে, গুরুদয়াল কলেজ এ মাঠ থেকে আমার রাজনীতি শুরু যদিও স্কুলে থাকতে আমি রাজনীতি করেছি দুই বছর। আমার রাজনীতির নেতৃত্ব এই গুরুদয়াল কলেজ থেকে শুরু। ১৯৬১ সালে আমি মেট্রিক পাস করে গুরুদয়াল কলেজে ভর্তি হই। ৬১ সালে তদানীন্তন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খানের ফটো ভাঙা দিয়ে শুরু করেছিলাম।

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ আরও বলেন, আমার রাজনীতির ৫৮ বছর হয়ে গেছে। আর রাজনীতির স্কুল কলেজ গুরুদয়াল হলেও এই কিশোরাগঞ্জের মাটি আর এই কিশোরগঞ্জের মানুষ আমার রাজনীতির বিশ্ববিদ্যালয়। এখানকার মানুষের কাছে আমি রাজনীতি শিখেছি। আমি রাজনীতি করার সময়ে কিশোরগঞ্জে রিকশা সংগঠন করেছি, রিকশাওয়ালা ভাইদের নিয়েও আমি রাজনীতি করেছি। মুঠে শ্রমিক, ঠেলা গাড়ি শ্রমিক এদেরকে নিয়েও আমি রাজনীতি করেছি, সংগঠন করেছি। হোটেল রেস্টুরেন্ট শ্রমিক তাদেরকে নিয়েও আমি রাজনীতি করেছি। প্রতিটি শ্রমজীবী মানুষকে নিয়ে রাজনীতি করেছি।

তিনি বলেন, এই কিশোরগঞ্জবাসীর দোয়ায় আমার মতো একজন সাধারণ মানুষ বাংলাদেশের দুই দুইবার রাষ্ট্রপতি হয়েছি। এটা আমার বড় পাওয়া। আমি মনে করি, এ পাওয়া আমার না সমস্ত কিশোরগঞ্জবাসীর এই পাওয়া। আমি জানি, কিশোরগঞ্জবাসী আমার জন্য দোয়া করেছে। তারা আমার সাফল্য কামনা করেছে। তাদের আন্তরিক কামনাতেই হয়তো আমি দ্বিতীয়বারের মতো রাষ্ট্রপতি হয়েছি। আসলে এটা চরম পাওয়া এইজন্য যে, এ উপমহাদেশে এরকম দ্বিতীয় নজির আর নেই।

রাষ্ট্রপতি স্মৃতিচারণা করে বলেন, এই গুরুদয়াল কলেজের তখন প্রিন্সিপাল ছিলেন ওয়াসিমুদ্দীন স্যার। শিক্ষকরা সাধারণত ভালো ছাত্রদেরকে পছন্দ করেন। কিন্তু ওয়াসীমুদ্দীন স্যারসহ যারা তখন শিক্ষক ছিলেন, কেন জানি না আমি ভালো ছাত্র না হওয়া সত্ত্বেও আমাকে পছন্দ করতেন। সেটা আমি আজো জানি না। তারা আমাকে অত্যন্ত ভালোবাসতেন।

সৈয়দ আশরাফের জন্য দুঃখ

মো. আবদুল হামিদ বলেন, আমি প্রথম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত পর সে সময় যে গণসংবর্ধনা দেয়া হয়েছিল, সে সংবর্ধনায় আমার ছোট ভাই সৈয়দ আশরাফ উপস্থিত ছিল। আমার দুঃখ লাগে, সে আজ পাশে নাই। কারণ সে অসুস্থ। তবে আমি আশা করি এবং পরম করুণাময় আল্লাহর কাছে দোয়া করি, আপনারাও করবেন, সে যেনো অচিরেই আমাদের মাঝে ফিরে আসে। আবারো যেনো সে সক্রিয়ভাবে রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করতে পারে।

আসন্ন নির্বাচন প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ বলেন, আমি আপনাদের পরামর্শ দিবো। আপনাদের একজন ভাই হিসাবে, বন্ধু হিসাবে, আপনাদের সন্তান হিসাবে- আপনারা সেই দলকে ভোট দিবেন যে দলকে ভোট দিলে দেশের সার্বিক কল্যাণ হয়। সেই দলকে আপনারা ভোট দেবেন। যে দলকে ভোট দিলে দেশকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাবে। এটা আপনাদেরকে বুঝতে হবে। এ কাজ করতে হবে।

ভাল মানুষকে নমিনেশন দেয়ার আহ্বান

রাজনৈতিক দলেগুলোকে উদ্দেশে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আপনারা ভাল মানুষকে নমিনেশন দেবেন। লুটপাট যারা করে, মানুষের সঙ্গে বাহাদুরী দেখাবে, মানুষকে মানুষ মনে করবে না- এমন লোককে নমিনেশ দেয়া ঠিক হবে না। এ সময় তিনি জনতার উদ্দেশে বলেন, যারা সরকারের কোন কাজ- যে কাজের মধ্যে আর্থিকভাবে লাভবান হয়, কন্ট্রাকটরের কাছ থেকে পয়সা নিয়ে কাজের মান খারাপ করতে চায়, টিআর-কাবিখা যারা বিক্রি করে দেবে- এ ধরণের লোককে আপনারা ভোট দিবেন না। সৎ মানুষ দেখে, ভাল ব্যবহার দেখে, মানুষের সুখে-দুখে যারা পাশে দাঁড়াবে- সেই ধরণের লোকজনকে আপনার জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করবেন।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×