গ্রেনেড হামলায় পলাতক আসামিরা কোথায়?

প্রকাশ : ১০ অক্টোবর ২০১৮, ১৩:১৩ | অনলাইন সংস্করণ

  যুগান্তর রিপোর্ট

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার পরের চিত্র। ছবি: সংগৃহীত

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন তারেক রহমানসহ ১৮ আসামি। তাদের মধ্যে ৯ জন যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশে অবস্থান করছেন। ভারতে কারাবন্দি রয়েছেন দুজন এবং অন্য সাত আসামির অবস্থান সম্পর্কে এখনও নিশ্চিত নয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

মামলার গুরুত্বপূর্ণ আসামি তারেক রহমানকে ফিরিয়ে আনতে যুক্তরাজ্য সরকারের সঙ্গে আলোচনা চলছে। আর অন্যদের ফিরিয়ে আনতে ইন্টারপোলের সহায়তা চাওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম।

অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র ও তা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের সামনে ‘হালকা নাস্তার (অপরাধীর দেয়া সাংকেতিক নাম)’ নামে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। 

২৪ জনকে হত্যা করার অপরাধ কেন্দ্র করে দুটি মামলা হয়। একটি হত্যা ও অন্যটি বিস্ফোরকদ্রব্য আইনের মামলা। জজ মিয়া নাটক সাজিয়ে দুটি মামলাই তদন্তে ভিন্ন খাতে প্রবাহের চেষ্টা করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ মামলা অধিকতর তদন্তে যায়।

৫২ আসামির মধ্যে তিনজনের অন্য মামলায় ফাঁসি কার্যকর হওয়ায় বর্তমানে আসামি ৪৯ জন। ওই হামলার অর্থের জোগান ও প্রশাসনিক সহায়তায় ছিল চার-দলীয় জোট তথা বিএনপি-জামায়াত সরকার।

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার সম্পূরক চার্জশিটে (অভিযোগপত্র) বলা হয়েছে, তৎকালীন চার-দলীয় জোট সরকারের শীর্ষপর্যায়ের ইন্ধনে জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদ আল ইসলামী বাংলাদেশসহ (হুজি) তিনটি জঙ্গি সংগঠন ওই নারকীয় হত্যাযজ্ঞ চালায়।

রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ের আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সন্ত্রাসবিরোধী জনসভায় ইতিহাসের ভয়াবহতম নৃশংস ও বর্বরোচিত ওই হামলার ঘটনা ঘটে।

এতে আওয়ামী লীগের মহিলাবিষয়ক সম্পাদিকা ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের স্ত্রী আইভী রহমানসহ ২৪ জনের মৃত্যু হয়। হামলায় আহত হন কয়েকশ নেতাকর্মী। আর অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

চলতি বছরের ১ জানুয়ারি এ মামলায় সব আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ করে রাষ্ট্রপক্ষ। ৪৯২ সাক্ষীর মধ্যে রাষ্ট্রপক্ষে ২২৫ জনের সাক্ষ্য নেয়া হয়েছে। আর আসামিপক্ষে ১২ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন।

মামলায় ১৪৪ আলামত ও ৫৫টি বস্তু প্রদর্শন করা হয়েছে। গত বছরের ৩০ মে এ মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ কার্যক্রম শেষ হয়। আর গত বছরের ১২ জুন মামলায় ৩১ আসামির আত্মপক্ষ শুনানি শেষ হয়।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার তৎকালীন রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, সাবেক প্রতিমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ ও আনসার-ভিডিপির সাবেক মহাপরিচালক (ডিজি) মেজর জেনারেল (অব.) এটিএম আমিনসহ ১৮ আসামি পলাতক থাকায় তারা আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ পাননি।