ঘরবন্দি বছরেও সড়কে ঝরল ৪৯৬৯ প্রাণ
jugantor
ঘরবন্দি বছরেও সড়কে ঝরল ৪৯৬৯ প্রাণ

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

০৬ জানুয়ারি ২০২১, ১৮:৩৭:৩৭  |  অনলাইন সংস্করণ

গত বছর মোট চার হাজার ৯২টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ৪ হাজার ৯৬৯ জন নিহত হয়েছেন। এসব দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন পাঁচ হাজার ৫৮ জন।

বুধবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) এই পরিসংখ্যান প্রকাশ করে। প্রেস ক্লাবের মাওলানা মোহাম্মদ আকরম খাঁ হলে এ পরিসংখ্যান উপস্থাপন করেন নিসচার প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন।

ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, নিরাপদ সড়ক চাই মনে করে- সড়কের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও মনিটরিংয়ের অভাব, টাস্কফোর্সের ১১১টি সুপারিশ বাস্তবায়ন না হওয়া, চালকদের প্রতিযোগিতার প্রবণতা, দৈনিক চুক্তিতে গাড়ি চালানো, লাইসেন্সহীন চালক, পথচারীদের অসচেতনতা, বিরতিহীন গাড়ি চালনা, ফিটনেসহীন গাড়ি চালনা বন্ধে আইনের প্রয়োগ না থাকা, সড়ক ও মহাসড়কে তিন চাকার গাড়ি এবং মোটরসাইকেলের সংখ্যা বেড়ে যাওয়া, মহাসড়ক নির্মাণে ত্রুটি থাকায় দুর্ঘটনা বাড়ছে।

গতবছরের জানুয়ারি মাসে ৪৪৭টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৯৫ জন নিহত ও ৮২৩ জন আহত হয়েছেন। ফেব্রুয়ারিতে ৩৬৫টি দুর্ঘটনায় ৪৩৭ জন নিহত ও ৭৬২ জন আহত, মার্চে ৩৭৯টি দুর্ঘটনায় ৪৫৪ জন নিহত ও ৭৬৭ জন আহত, এপ্রিলে ১৩২টি দুর্ঘটনায় ১৩০ জন নিহত ও ১২০ জন আহত, মে মাসে ১৯৬টি দুর্ঘটনায় ২৪২ জন নিহত ও ২০৬ জন আহত, জুনে ২৬০টি দুর্ঘটনায় ৩৩০ জন নিহত ও ২৩৩ জন আহত, জুলাইয়ে ২২০টি দুর্ঘটনায় ২৮৪ জন নিহত ও ১৯৭ জন আহত, আগস্টে ৩৪০টি দুর্ঘটনায় ৪৮৩ জন নিহত ও ৪২৩ জন আহত, সেপ্টেম্বরে ২১৬টি দুর্ঘটনায় ২৫০ জন নিহত ও ৪০৪ জন আহত, অক্টোবরে ২৩০টি দুর্ঘটনায় ২৬২ জন নিহত ও ৩৮৭ জন আহত, নভেম্বরে ২৬২টি দুর্ঘটনায় ৩১৬ জন নিহত ও ৩৭২ জন আহত এবং ডিসেম্বর মাসে ৩৬৩টি দুর্ঘটনায় ৪৫৮ জন নিহত ও ৩৯১ জন আহত হয়েছেন। এর বাইরে ৬৮২টি দুর্ঘটনায় হাসপাতালে ভর্তি ও রিলিজের পরে ৮২৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।

১১টি জাতীয় দৈনিক পত্রিকা, টেলিভিশন, অনলাইন পত্রিকা ও শাখা সংগঠনগুলোর তথ্যের ভিত্তিতে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। এতে আরও বলা হয়, রেলপথে ১০৮টি দুর্ঘটনায় ১২৯ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৩১ জন। ৭০টি নৌ দুর্ঘটনায় ২১২ জনের মৃত্যু এবং একশ’ জন নিখোঁজ হয়েছেন গতবছর।

২০১৯ সালে মোট চার হাজার দুইটি সড়ক দুর্ঘটনায় পাঁচ হাজার ২২৭ জন নিহত ও ছয় হাজার ৯৫৩ জন আহত হয়েছিলেন। ২০১৮ সালে তিন হাজার ১০৩টি সড়ক দুর্ঘটনায় চার হাজার ৪৩৯ জন নিহত ও সাত হাজার ৪২৫ জন আহত হন।

ইলিয়াস কাঞ্চন লিখিত বক্তব্যে জানান, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহ এলাকায় বেশি দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটেছে। আর পার্বত্য চট্টগ্রাম (রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান) এলাকায় কম দুর্ঘটনা ঘটে। এ সময় তিনি দাবি করেন, এসব এলাকায় চালকরা তুলনামূলক কম গতিতে নিয়ন্ত্রণে রেখে যানবাহন চালানোর কারণে দুর্ঘটনা কম হয়েছে। এ সময় তিনি সড়ক আইনের সঠিক বাস্তবায়ন হলে সড়ক নিরাপদ হয়ে উঠবে বলেও মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, এদেশের রাজপথ যেন সড়ক দুর্ঘটনার কারণে রক্তে রঞ্জিত না হয়।

এতে সুপারিশ তুলে ধরে বলা হয়, হাইওয়েতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার জন্য যোগাযোগ মন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যৌথ তত্ত্বাবধানে উচ্চপর্যায়ের মনিটরিং সেল গঠন করে তাদের মাধ্যমে আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার ও সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে মহাসড়কের যাবতীয় বিষয়গুলো মনিটরিং করতে হবে। করোনা নিয়ে সরকারিভাবে যেরকম প্রচার-প্রচারণা চালানো হচ্ছে একইভাবে সড়ক দুর্ঘটনা নিরসনে প্রচার-প্রচারণা চালাতে হবে।বিভিন্ন মিডিয়া মাধ্যমে সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান প্রচারের যে ধারাবাহিকতা শুরু হয়েছে ব্যাপকভাবে তার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে। স্কুলের পাঠ্যক্রমে সড়ক দুর্ঘটনা রোধের বিষয়সমূহ অন্তর্ভুক্ত করার যে ঘোষণা দেয়া হয়েছে তা অবশ্যই বাস্তবায়ন করতে হবে। ঢাকা রুট ফ্রান্সাইজের যে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে তা দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। ট্রাফিক সিগন্যাল অমান্য করা, যত্র-তত্র গাড়ি পার্কিং করা, নির্দিষ্ট স্থান ব্যতিরেকে যেখানে-সেখানে যাত্রি উঠানো-নামানো, ওভার টেকিং করা, পাল্টা-পাল্টি ও বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো, অতিরিক্ত যাত্রী ও মাল বোঝাই করা, গাড়ির ছাদে যাত্রী বহন করা, ওভার ব্রিজ কিংবা আন্ডারপাস বা জেব্রা ক্রসিং থাকা সত্বেও সেগুলো ব্যবহার না করার প্রবনতাকে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মাধ্যমে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

সুপারিশে আরও বলা হয়, সরকার কর্তৃক গৃহীত ‘সেইফ’ প্রকল্পের মাধ্যমে ১ হাজার ৪১০ জন গাড়ি চালক প্রশিক্ষক তৈরি ও ৩ লাখ গাড়ি চালকদের আপগ্রেডিংয়ের জন্য ১২ ও ২৪ দিনের প্রশিক্ষণ কর্মশালার পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে তা দ্রুত বাস্তবায়ন করা হলে লাইসেন্সবিহীন চালকরা ২৪ দিনের প্রশিক্ষণ গ্রহণের মাধ্যমে বৈধ লাইসেন্সের আওতায় আসবে এবং হালকা ও মধ্যম গাড়ির চালকরা ১২ দিনের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এ ভারী গাড়ির লাইসেন্স পাবে, যা দেশে দক্ষ চালক সমস্যার সমাধানে সহায়ক হবে।

নিসচার সুপারিশে আরও রয়েছে, ঢাকা-চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল মহাসড়কের মতো সব মহাসড়ক এবং প্রধান সড়কে একমুখী চলাচলের সিদ্ধান্ত নিয়ে দীর্ঘ এবং উচ্চতা সম্পন্ন সড়ক বিভাজন তথা রোড ডিভাইডারের ব্যবস্থা করতে হবে। সব মহাসড়ক এবং প্রধান সড়ককে অবশ্যই ন্যূনতম চারলেনে উন্নীত করতে হবে। পথচারীদের নিবিঘ্নে চলাচলের জন্য ফুটপাতগুলো দখলমুক্ত করে যেখানে ফুটপাত নেই সেখানে ফুটপাত তৈরির ব্যবস্থা করতে হবে এবং নিয়মিত মনিটরিংয়ের মাধ্যমে পুনরায় যেন ফুটপাত দখল না হয় এ বিষয়ে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। সড়কের ত্রুটিগুলো অচিরেই দূর করতে হবে।

সংগঠনটির যুগ্ম মহাসচিব লিটন এরশাদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মহাসচিব সৈয়দ এহসানুল হক কামাল, সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম আজাদ ও সদস্য আজাদ প্রমুখ।

ঘরবন্দি বছরেও সড়কে ঝরল ৪৯৬৯ প্রাণ

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
০৬ জানুয়ারি ২০২১, ০৬:৩৭ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

গত বছর মোট চার হাজার ৯২টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ৪ হাজার ৯৬৯ জন নিহত হয়েছেন। এসব দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন পাঁচ হাজার ৫৮ জন।

বুধবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) এই পরিসংখ্যান প্রকাশ করে। প্রেস ক্লাবের মাওলানা মোহাম্মদ আকরম খাঁ হলে এ পরিসংখ্যান উপস্থাপন করেন নিসচার প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন।

ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, নিরাপদ সড়ক চাই মনে করে- সড়কের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও মনিটরিংয়ের অভাব, টাস্কফোর্সের ১১১টি সুপারিশ বাস্তবায়ন না হওয়া, চালকদের প্রতিযোগিতার প্রবণতা, দৈনিক চুক্তিতে গাড়ি চালানো, লাইসেন্সহীন চালক, পথচারীদের অসচেতনতা, বিরতিহীন গাড়ি চালনা, ফিটনেসহীন গাড়ি চালনা বন্ধে আইনের প্রয়োগ না থাকা, সড়ক ও মহাসড়কে তিন চাকার গাড়ি এবং মোটরসাইকেলের সংখ্যা বেড়ে যাওয়া, মহাসড়ক নির্মাণে ত্রুটি থাকায় দুর্ঘটনা বাড়ছে।

গতবছরের জানুয়ারি মাসে ৪৪৭টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৯৫ জন নিহত ও ৮২৩ জন আহত হয়েছেন। ফেব্রুয়ারিতে ৩৬৫টি দুর্ঘটনায় ৪৩৭ জন নিহত ও ৭৬২ জন আহত, মার্চে ৩৭৯টি দুর্ঘটনায় ৪৫৪ জন নিহত ও ৭৬৭ জন আহত, এপ্রিলে ১৩২টি দুর্ঘটনায় ১৩০ জন নিহত ও ১২০ জন আহত, মে মাসে ১৯৬টি দুর্ঘটনায় ২৪২ জন নিহত ও ২০৬ জন আহত, জুনে ২৬০টি দুর্ঘটনায় ৩৩০ জন নিহত ও ২৩৩ জন আহত, জুলাইয়ে ২২০টি দুর্ঘটনায় ২৮৪ জন নিহত ও ১৯৭ জন আহত, আগস্টে ৩৪০টি দুর্ঘটনায় ৪৮৩ জন নিহত ও ৪২৩ জন আহত, সেপ্টেম্বরে ২১৬টি দুর্ঘটনায় ২৫০ জন নিহত ও ৪০৪ জন আহত, অক্টোবরে ২৩০টি দুর্ঘটনায় ২৬২ জন নিহত ও ৩৮৭ জন আহত, নভেম্বরে ২৬২টি দুর্ঘটনায় ৩১৬ জন নিহত ও ৩৭২ জন আহত এবং ডিসেম্বর মাসে ৩৬৩টি দুর্ঘটনায় ৪৫৮ জন নিহত ও ৩৯১ জন আহত হয়েছেন। এর বাইরে ৬৮২টি দুর্ঘটনায় হাসপাতালে ভর্তি ও রিলিজের পরে ৮২৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।

১১টি জাতীয় দৈনিক পত্রিকা, টেলিভিশন, অনলাইন পত্রিকা ও শাখা সংগঠনগুলোর তথ্যের ভিত্তিতে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। এতে আরও বলা হয়, রেলপথে ১০৮টি দুর্ঘটনায় ১২৯ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৩১ জন। ৭০টি নৌ দুর্ঘটনায় ২১২ জনের মৃত্যু এবং একশ’ জন নিখোঁজ হয়েছেন গতবছর।

২০১৯ সালে মোট চার হাজার দুইটি সড়ক দুর্ঘটনায় পাঁচ হাজার ২২৭ জন নিহত ও ছয় হাজার ৯৫৩ জন আহত হয়েছিলেন। ২০১৮ সালে তিন হাজার ১০৩টি সড়ক দুর্ঘটনায় চার হাজার ৪৩৯ জন নিহত ও সাত হাজার ৪২৫ জন আহত হন।

ইলিয়াস কাঞ্চন লিখিত বক্তব্যে জানান, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহ এলাকায় বেশি দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটেছে। আর পার্বত্য চট্টগ্রাম (রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান) এলাকায় কম দুর্ঘটনা ঘটে। এ সময় তিনি দাবি করেন, এসব এলাকায় চালকরা তুলনামূলক কম গতিতে নিয়ন্ত্রণে রেখে যানবাহন চালানোর কারণে দুর্ঘটনা কম হয়েছে। এ সময় তিনি সড়ক আইনের সঠিক বাস্তবায়ন হলে সড়ক নিরাপদ হয়ে উঠবে বলেও মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, এদেশের রাজপথ যেন সড়ক দুর্ঘটনার কারণে রক্তে রঞ্জিত না হয়।

এতে সুপারিশ তুলে ধরে বলা হয়, হাইওয়েতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার জন্য যোগাযোগ মন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যৌথ তত্ত্বাবধানে উচ্চপর্যায়ের মনিটরিং সেল গঠন করে তাদের মাধ্যমে আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার ও সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে মহাসড়কের যাবতীয় বিষয়গুলো মনিটরিং করতে হবে।  করোনা নিয়ে সরকারিভাবে যেরকম প্রচার-প্রচারণা চালানো হচ্ছে একইভাবে সড়ক দুর্ঘটনা নিরসনে প্রচার-প্রচারণা চালাতে হবে।বিভিন্ন মিডিয়া মাধ্যমে সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান প্রচারের যে ধারাবাহিকতা শুরু হয়েছে ব্যাপকভাবে তার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে। স্কুলের পাঠ্যক্রমে সড়ক দুর্ঘটনা রোধের বিষয়সমূহ অন্তর্ভুক্ত করার যে ঘোষণা দেয়া হয়েছে তা অবশ্যই বাস্তবায়ন করতে হবে। ঢাকা রুট ফ্রান্সাইজের যে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে তা দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। ট্রাফিক সিগন্যাল অমান্য করা, যত্র-তত্র গাড়ি পার্কিং করা, নির্দিষ্ট স্থান ব্যতিরেকে যেখানে-সেখানে যাত্রি উঠানো-নামানো, ওভার টেকিং করা, পাল্টা-পাল্টি ও বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো, অতিরিক্ত যাত্রী ও মাল বোঝাই করা, গাড়ির ছাদে যাত্রী বহন করা, ওভার ব্রিজ কিংবা আন্ডারপাস বা জেব্রা ক্রসিং থাকা সত্বেও সেগুলো ব্যবহার না করার প্রবনতাকে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মাধ্যমে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। 

সুপারিশে আরও বলা হয়, সরকার কর্তৃক গৃহীত ‘সেইফ’ প্রকল্পের মাধ্যমে ১ হাজার ৪১০ জন গাড়ি চালক প্রশিক্ষক তৈরি ও ৩ লাখ গাড়ি চালকদের আপগ্রেডিংয়ের জন্য ১২ ও ২৪ দিনের প্রশিক্ষণ কর্মশালার পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে তা দ্রুত বাস্তবায়ন করা হলে লাইসেন্সবিহীন চালকরা ২৪ দিনের প্রশিক্ষণ গ্রহণের মাধ্যমে বৈধ লাইসেন্সের আওতায় আসবে এবং হালকা ও মধ্যম গাড়ির চালকরা ১২ দিনের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এ ভারী গাড়ির লাইসেন্স পাবে, যা দেশে দক্ষ চালক সমস্যার সমাধানে সহায়ক হবে।

নিসচার সুপারিশে আরও রয়েছে, ঢাকা-চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল মহাসড়কের মতো সব মহাসড়ক এবং প্রধান সড়কে একমুখী চলাচলের সিদ্ধান্ত নিয়ে দীর্ঘ এবং উচ্চতা সম্পন্ন সড়ক বিভাজন তথা রোড ডিভাইডারের ব্যবস্থা করতে হবে। সব মহাসড়ক এবং প্রধান সড়ককে অবশ্যই ন্যূনতম চারলেনে উন্নীত করতে হবে। পথচারীদের নিবিঘ্নে চলাচলের জন্য ফুটপাতগুলো দখলমুক্ত করে যেখানে ফুটপাত নেই সেখানে ফুটপাত তৈরির ব্যবস্থা করতে হবে এবং নিয়মিত মনিটরিংয়ের মাধ্যমে পুনরায় যেন ফুটপাত দখল না হয় এ বিষয়ে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। সড়কের ত্রুটিগুলো অচিরেই দূর করতে হবে।

সংগঠনটির যুগ্ম মহাসচিব লিটন এরশাদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মহাসচিব সৈয়দ এহসানুল হক কামাল, সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম আজাদ ও সদস্য আজাদ প্রমুখ।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন