পাঁচ ভাই গাড়িচাপায় নিহত, চালক গ্রেফতারের পর যা জানা গেল
jugantor
পাঁচ ভাই গাড়িচাপায় নিহত, চালক গ্রেফতারের পর যা জানা গেল

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

১২ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ২২:০০:৩৮  |  অনলাইন সংস্করণ

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায় পিকআপ ভ্যানের চাপায় পাঁচ ভাই নিহত হওয়ার ঘটনায় জড়িত চালক সাইফুল ইসলামকে ঢাকায় গ্রেফতার করা হয়েছে। শুক্রবার রাতে ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। পিকআপ ভ্যানচালক সাইফুলের ড্রাইভিং লাইসেন্স ও গাড়ির কাগজপত্রও ছিল না।

শনিবার রাজধানীর কাওরান বাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, চকরিয়ার বিভিন্ন স্থান থেকে সবজি সংগ্রহের পর পিকআপ ভ্যানটি দিয়ে সেসব অন্যত্র সরবরাহ করা হতো। কক্সবাজার ও মহেশখালীতেও সবজি সরবরাহ করা হতো। গাড়িটির মালিক চকরিয়ার মাহমুদুল। দুর্ঘটনার সময় গাড়িতে মালিকের ছেলে তারেক ও ভাগনে ছিলেন। গাড়িটির কোনো কাগজপত্র নেই। ২০১৮ সালের পর গাড়িটির নথিপত্র হালনাগাদ করা হয়নি। ২০১৬ সালে মাহমুদুল ট্রাকটি কেনেন।

চালক সাইফুলের জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে র‌্যাব কর্মকর্তা কমান্ডার মঈন বলেন, দুর্ঘটনার সময় ঘন কুয়াশা ছিল। গাড়িটি ঘণ্টায় ৬৫ থেকে ৭০ কিলোমিটার গতিতে চলছিল। কুয়াশার কারণে চালক কাউকে দেখতে পাননি। এ কারণে রাস্তা পার হতে যাওয়া ব্যক্তিদের ওপর গাড়িটি ওঠে যায়। শেষ মুহূর্তে চালক ব্রেক চেপেছিলেন। দুর্ঘটনাস্থলের ৫০ থেকে ১০০ ফুট দূরে গিয়ে গাড়িটি থেমে যায়। দুর্ঘটনার পর চালক সাইফুল গাড়ি থেকে নেমে ঘটনাস্থলে যান। কিন্তু মালিকের ছেলে তারেক বলেন, এখান থেকে তাদের এখন পালানো উচিত। এরপর তারা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। একটি বাজারে গিয়ে তিনি মোবাইল ফোনে মালিক মাহমুদুলকে বিষয়টি জানান। বাজারের পাশে গাড়িটি রেখে তিনি চকরিয়ায় মালিকের সঙ্গে দেখা করেন।

‘তখন গাড়ির মালিক মাহমুদুল তাকে বলেন, এ ঘটনায় মামলা হবে। এক বছর লুকিয়ে থাকতে হবে। মালিকের নির্দেশনায় সাইফুল আত্মগোপনে যান। প্রথমে তিনি লামা এলাকায় একটি রাবার বাগানে কাজ নেওয়ার চেষ্টা করেন। সেখানে তিনি একদিন ছিলেন। দুর্ঘটনা নিয়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হওয়ায় ভয় পেয়ে সাইফুল ঢাকায় চলে আসেন। সাইফুলের দাবি, দুর্ঘটনার শিকার পরিবারের কাউকে তিনি চিনতেন না।’

খন্দকার মঈন বলেন, দুবছর ধরে সাইফুল বিভিন্ন ধরনের গাড়ি চালালেও তার কোনো ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই। দৈনিক ৫০০ টাকা মজুরিতে তিনি সাত দিন ধরে পিকআপ ভ্যানটি চালাচ্ছিলেন। দুর্ঘটনার পর থেকে গাড়ির মালিক মাহমুদুল ও তার ছেলে তারেক পলাতক।

মঙ্গলবার বাবার শ্রাদ্ধক্রিয়া শেষে বাড়ি ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় পাঁচ ভাইয়ের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। ভোর সাড়ে ৫টার দিকে ঘনকুয়াশার মধ্যে চকরিয়ায় রাস্তা পার হওয়ার সময় দ্রুতগামী পিকআপ ভ্যানের চাপায় চার ভাই ঘটনাস্থলে নিহত হন। হাসপাতালে নেওয়ার পর আরেক ভাইয়ের মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনায় তাদের আরও দুই ভাই ও এক বোন আহত হন। গুরুতর আহত রক্তিম শীল (৩২) চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে ভর্তি রয়েছেন। বোন হীরা শীল (২৮) চকরিয়ার মালুমঘাট খ্রিষ্টান মেমোরিয়াল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এছাড়া প্লাবন শীল (২৫) চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন।

পাঁচ ভাই গাড়িচাপায় নিহত, চালক গ্রেফতারের পর যা জানা গেল

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
১২ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ১০:০০ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায় পিকআপ ভ্যানের চাপায় পাঁচ ভাই নিহত হওয়ার ঘটনায় জড়িত চালক সাইফুল ইসলামকে ঢাকায় গ্রেফতার করা হয়েছে। শুক্রবার রাতে ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। পিকআপ ভ্যানচালক সাইফুলের ড্রাইভিং লাইসেন্স ও গাড়ির কাগজপত্রও ছিল না। 

শনিবার রাজধানীর কাওরান বাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, চকরিয়ার বিভিন্ন স্থান থেকে সবজি সংগ্রহের পর পিকআপ ভ্যানটি দিয়ে সেসব অন্যত্র সরবরাহ করা হতো। কক্সবাজার ও মহেশখালীতেও সবজি সরবরাহ করা হতো। গাড়িটির মালিক চকরিয়ার মাহমুদুল। দুর্ঘটনার সময় গাড়িতে মালিকের ছেলে তারেক ও ভাগনে ছিলেন। গাড়িটির কোনো কাগজপত্র নেই। ২০১৮ সালের পর গাড়িটির নথিপত্র হালনাগাদ করা হয়নি। ২০১৬ সালে মাহমুদুল ট্রাকটি কেনেন।

চালক সাইফুলের জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে র‌্যাব কর্মকর্তা কমান্ডার মঈন বলেন, দুর্ঘটনার সময় ঘন কুয়াশা ছিল। গাড়িটি ঘণ্টায় ৬৫ থেকে ৭০ কিলোমিটার গতিতে চলছিল। কুয়াশার কারণে চালক কাউকে দেখতে পাননি। এ কারণে রাস্তা পার হতে যাওয়া ব্যক্তিদের ওপর গাড়িটি ওঠে যায়। শেষ মুহূর্তে চালক ব্রেক চেপেছিলেন। দুর্ঘটনাস্থলের ৫০ থেকে ১০০ ফুট দূরে গিয়ে গাড়িটি থেমে যায়। দুর্ঘটনার পর চালক সাইফুল গাড়ি থেকে নেমে ঘটনাস্থলে যান। কিন্তু মালিকের ছেলে তারেক বলেন, এখান থেকে তাদের এখন পালানো উচিত। এরপর তারা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। একটি বাজারে গিয়ে তিনি মোবাইল ফোনে মালিক মাহমুদুলকে বিষয়টি জানান। বাজারের পাশে গাড়িটি রেখে তিনি চকরিয়ায় মালিকের সঙ্গে দেখা করেন। 

‘তখন গাড়ির মালিক মাহমুদুল তাকে বলেন, এ ঘটনায় মামলা হবে। এক বছর লুকিয়ে থাকতে হবে। মালিকের নির্দেশনায় সাইফুল আত্মগোপনে যান। প্রথমে তিনি লামা এলাকায় একটি রাবার বাগানে কাজ নেওয়ার চেষ্টা করেন। সেখানে তিনি একদিন ছিলেন। দুর্ঘটনা নিয়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হওয়ায় ভয় পেয়ে সাইফুল ঢাকায় চলে আসেন। সাইফুলের দাবি, দুর্ঘটনার শিকার পরিবারের কাউকে তিনি চিনতেন না।’

খন্দকার মঈন বলেন, দুবছর ধরে সাইফুল বিভিন্ন ধরনের গাড়ি চালালেও তার কোনো ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই। দৈনিক ৫০০ টাকা মজুরিতে তিনি সাত দিন ধরে পিকআপ ভ্যানটি চালাচ্ছিলেন। দুর্ঘটনার পর থেকে গাড়ির মালিক মাহমুদুল ও তার ছেলে তারেক পলাতক।

মঙ্গলবার বাবার শ্রাদ্ধক্রিয়া শেষে বাড়ি ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় পাঁচ ভাইয়ের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। ভোর সাড়ে ৫টার দিকে ঘনকুয়াশার মধ্যে চকরিয়ায় রাস্তা পার হওয়ার সময় দ্রুতগামী পিকআপ ভ্যানের চাপায় চার ভাই ঘটনাস্থলে নিহত হন। হাসপাতালে নেওয়ার পর আরেক ভাইয়ের মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনায় তাদের আরও দুই ভাই ও এক বোন আহত হন। গুরুতর আহত রক্তিম শীল (৩২) চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে ভর্তি রয়েছেন। বোন হীরা শীল (২৮) চকরিয়ার মালুমঘাট খ্রিষ্টান মেমোরিয়াল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এছাড়া প্লাবন শীল (২৫) চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন