আনুশকাহর বয়স নির্ধারণ নিয়ে জটিলতা
jugantor
আনুশকাহর বয়স নির্ধারণ নিয়ে জটিলতা

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

০৮ জানুয়ারি ২০২১, ১৯:৫৬:৫০  |  অনলাইন সংস্করণ

আনুশকাহর বয়স নির্ধারণ নিয়ে জটিলতা

অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে বন্ধুর বাসায় মৃত্যু হওয়া ঢাকার কলাবাগান এলাকায় ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল মাস্টারমাইন্ডের ‘ও’ লেভেল পর্যায়ের শিক্ষার্থী আনুশকাহ নূর আমিনের বয়স নিয়ে কিছু অস্পষ্টতা তৈরি হয়েছে।

পুলিশের সুরতহাল প্রতিবেদনে বয়স উল্লে­খ করা হয়েছে ১৯। আর পরিবারের দাবি ১৭ বছর দুই মাস। পরিবার বয়সের প্রমাণস্বরূপ পাসপোর্টের কপিও দেখিয়েছে। বয়স জটিলতা নিরসনে পুলিশের পক্ষ থেকে ময়নাতদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত বয়সের বিষয়ে মতামত চাওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. সোহেল মাহমুদ বলেন, বয়স নির্ধারণের জন্য আমরা এক্সরে বিভাগে পাঠিয়েছি। শুক্রবার এই বিভাগ বন্ধ থাকে। তাই পুলিশ জানিয়েছে সেটা করতে পারেনি। যেহেতু এক্সরে হয়নি তাই তার বডির (শরীর) গঠন দেখে, দাঁত দেখে এবং তার যে ডকুমেন্ট আছে সেগুলো দেখে আমরা একটা বয়স নির্ধারণ করতে পারব। এখানে একটা ক্যালকুলেশনের ব্যাপার আছে। এখনই আমরা এ বিষয়ে বলব না।

আমাদের দেশে সাধারণত সার্টিফিকেটে বয়স কম থাকে, এক্ষেত্রে বয়স নির্ধারণ কীভাবে হবে- এমন এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমাদের কাজ হলো তার প্রকৃত বয়সটা বের করা। যেহেতু আমরা এক্সরে করতে পারিনি, তাই কিছু মাইলফলক আছে সেগুলো দেখে, তার ডকুমেন্টগুলো নিয়ে আমরা একটা বয়স বলতে পারব।

এদিকে শুক্রবার বিকালে ওই ছাত্রীর ময়নাতদন্ত শেষ হয়। এরপর এ বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. সোহেল মাহমুদ। তিনি বলেন, ময়নাতদন্তকালে আমরা দেখতে পাই তার প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে। আর সেটি হয়েছে মূলত তার ‘ভ্যাজাইনাল’ এবং ‘রেক্টাম’ রক্তক্ষরণ। দুইভাবে রক্তক্ষরণের ফলেই তার মৃত্যু হয়েছে। এটা আপাতদৃষ্টিতে বিকৃত যৌনাচার মনে হয়েছে বলে জানান তিনি।

ধর্ষণ বা জোরাজুরির কোনো চিহ্ন পেয়েছেন কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে ডা. সোহেল বলেন, এখানে জোর-জবরদস্তির কোনো আলামত পাইনি। তবে আমরা দুই পথেই কিছু ‘ইনজুরি’ পেয়েছি। সেই ইনজুরিগুলোর জন্যই রক্তক্ষরণ হয়েছে এবং মারা গেছে।

এটা গণধর্ষণের মতো কোনো ঘটনা কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে এই চিকিৎসক বলেন, আমরা তার দেহ থেকে নমুনা সংগ্রহ করেছি। ডিএনএ প্রোফাইলিংয়ের জন্য পাঠিয়েছি। রিপোর্ট আসলে এ বিষয়ে বলা যাবে।

নিহতের পরিবার ও পুলিশ সূত্র জানায়, আনুশকাহর বাসা ধানমণ্ডির সোবহানবাগে। বন্ধুর সঙ্গে দেখা করার কথা বলে বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে বাসা থেকে বের হয়। পরে ডলফিন গলিতে এক বন্ধুর বাসায় যায়। সেখানে ওই ছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়লে তার বন্ধু অন্য তিন বন্ধুকে ফোন করে আনে।

পরে তারা শিক্ষার্থীকে চিকিৎসার জন্য আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ছাত্রীকে মৃত ঘোষণা করেন।

তবে আনুশকাহর এক আত্মীয় যুগান্তরকে বলেন, ওই বন্ধুর বাসায় গেলে ধর্ষণের ফলে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। এ কারণে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের রমনা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মো. সাজ্জাদুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতাল থেকে আমরা তার লাশ উদ্ধার করেছি।

আনুশকাহর বয়স নির্ধারণ নিয়ে জটিলতা

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
০৮ জানুয়ারি ২০২১, ০৭:৫৬ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
আনুশকাহর বয়স নির্ধারণ নিয়ে জটিলতা
স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যা মামলায় গ্রেফতার একমাত্র আসামি ছাত্রীর বন্ধু ইফতেখার ফারদিন দিহান পুলিশ বেষ্টনীতে আদালতে। ছবি: যুগান্তর

অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে বন্ধুর বাসায় মৃত্যু হওয়া ঢাকার কলাবাগান এলাকায় ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল মাস্টারমাইন্ডের ‘ও’ লেভেল পর্যায়ের শিক্ষার্থী আনুশকাহ নূর আমিনের বয়স নিয়ে কিছু অস্পষ্টতা তৈরি হয়েছে।

পুলিশের সুরতহাল প্রতিবেদনে বয়স উল্লে­খ করা হয়েছে ১৯। আর পরিবারের দাবি ১৭ বছর দুই মাস। পরিবার বয়সের প্রমাণস্বরূপ পাসপোর্টের কপিও দেখিয়েছে। বয়স জটিলতা নিরসনে পুলিশের পক্ষ থেকে ময়নাতদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত বয়সের বিষয়ে মতামত চাওয়া হয়েছে। 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. সোহেল মাহমুদ বলেন, বয়স নির্ধারণের জন্য আমরা এক্সরে বিভাগে পাঠিয়েছি। শুক্রবার এই বিভাগ বন্ধ থাকে। তাই পুলিশ জানিয়েছে সেটা করতে পারেনি। যেহেতু এক্সরে হয়নি তাই তার বডির (শরীর) গঠন দেখে, দাঁত দেখে এবং তার যে ডকুমেন্ট আছে সেগুলো দেখে আমরা একটা বয়স নির্ধারণ করতে পারব। এখানে একটা ক্যালকুলেশনের ব্যাপার আছে। এখনই আমরা এ বিষয়ে বলব না।

আমাদের দেশে সাধারণত সার্টিফিকেটে বয়স কম থাকে, এক্ষেত্রে বয়স নির্ধারণ কীভাবে হবে- এমন এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমাদের কাজ হলো তার প্রকৃত বয়সটা বের করা। যেহেতু আমরা এক্সরে করতে পারিনি, তাই কিছু মাইলফলক আছে সেগুলো দেখে, তার ডকুমেন্টগুলো নিয়ে আমরা একটা বয়স বলতে পারব।

এদিকে শুক্রবার বিকালে ওই ছাত্রীর ময়নাতদন্ত শেষ হয়। এরপর এ বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. সোহেল মাহমুদ। তিনি বলেন, ময়নাতদন্তকালে আমরা দেখতে পাই তার প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে। আর সেটি হয়েছে মূলত তার ‘ভ্যাজাইনাল’ এবং ‘রেক্টাম’ রক্তক্ষরণ। দুইভাবে রক্তক্ষরণের ফলেই তার মৃত্যু হয়েছে। এটা আপাতদৃষ্টিতে বিকৃত যৌনাচার মনে হয়েছে বলে জানান তিনি।

ধর্ষণ বা জোরাজুরির কোনো চিহ্ন পেয়েছেন কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে ডা. সোহেল বলেন, এখানে জোর-জবরদস্তির কোনো আলামত পাইনি। তবে আমরা দুই পথেই কিছু ‘ইনজুরি’ পেয়েছি। সেই ইনজুরিগুলোর জন্যই রক্তক্ষরণ হয়েছে এবং মারা গেছে। 

এটা গণধর্ষণের মতো কোনো ঘটনা কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে এই চিকিৎসক বলেন, আমরা তার দেহ থেকে নমুনা সংগ্রহ করেছি। ডিএনএ প্রোফাইলিংয়ের জন্য পাঠিয়েছি। রিপোর্ট আসলে এ বিষয়ে বলা যাবে।

নিহতের পরিবার ও পুলিশ সূত্র জানায়, আনুশকাহর বাসা ধানমণ্ডির সোবহানবাগে। বন্ধুর সঙ্গে দেখা করার কথা বলে বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে বাসা থেকে বের হয়। পরে ডলফিন গলিতে এক বন্ধুর বাসায় যায়। সেখানে ওই ছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়লে তার বন্ধু অন্য তিন বন্ধুকে ফোন করে আনে।

পরে তারা শিক্ষার্থীকে চিকিৎসার জন্য আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ছাত্রীকে মৃত ঘোষণা করেন।

তবে আনুশকাহর এক আত্মীয় যুগান্তরকে বলেন, ওই বন্ধুর বাসায় গেলে ধর্ষণের ফলে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। এ কারণে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের রমনা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মো. সাজ্জাদুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতাল থেকে আমরা তার লাশ উদ্ধার করেছি।

 

ঘটনাপ্রবাহ : আনুশকাহর মৃত্যু