কক্সবাজার থেকে নতুন যে কৌশলে ইয়াবার চালান আসে ঢাকায়
jugantor
কক্সবাজার থেকে নতুন যে কৌশলে ইয়াবার চালান আসে ঢাকায়

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

০৫ মে ২০২১, ১৭:০৩:০২  |  অনলাইন সংস্করণ

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বসিলা ব্রীজ এলাকা থেকে বেদের ছদ্মবেশে মাদক পাচারকালে ৭৭ হাজার পিস ইয়াবাসহ মাদক কারবারী চক্রের ৫ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব।

র‌্যাব-২ থেকে বুধবার এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়েছে।

গ্রেফতারকৃতরা হলো- মুন্সিগঞ্জের মো. আরকান মালেখের মো. তারিকুল ইসলাম (২৩), মো. শাহাদৎ হোসেনের ছেলে মো. সিনবাদ (২৩), মো. আজগর আলীর ছেলে মো. মিম মিয়া (২২), মৃত আল আমিনের ছেলে মো. ইমন (১৯) এবং সাভারের মো. মানিকের ছেলে মো. মনির (২৮)।
কায় হস্তান্তরের উদ্দেশ্যে আসছে। এর প্রেক্ষিতে র‌্যাব-২ এর আভিযানিক দল গেল মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১১টা ২০ মিনিটের দিকে মোহাম্মদপুর থানাধীন বসিলা মধ্যপাড়া এলাকায় অবস্থান নেয় এবং সেখান থেকে বেদের ছদ্মবেশ ধারণ করা পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়।

র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদ ও তল্লাশিকালে গ্রেফতার ব্যক্তিরা জানায়, তারা বেদে দলের ছদ্মবেশ ধারণ করে মাদক পাচার করে থাকে। এ সময় তারা সঙ্গে থাকা বহনযোগ্য রান্না করার টিনের চুলার ভেতরে বিশেষ কায়দায় লুকিয়ে আনা ইয়াবার কথা স্বীকার করে এবং রান্না করার চুলার নিচের অংশ কেটে তার ভেতর থেকে ৭৭ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ছদ্মবেশ ধারণের সরঞ্জামাদি, রান্নার হাড়ি-পাতিল, বালতি, বহনযোগ্য ডিসপ্লে র‌্যাক এবং নানান ধরনের ইমিটেশন অলংকার উদ্ধার করা হয়।

র‌্যাব জানায়, প্রাথমিক অনুসন্ধান ও জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, আসামিরা পারস্পরিক যোগসাজশে নিয়মিত কক্সবাজারের সীমান্ত এলাকা ও সমুদ্রপথে বাংলাদেশে আসা ইয়াবা ট্যাবলেট রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করে আসছিল। গ্রেফতারকৃত মাদক কারবারীরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়াতে অভিনব কায়দা হিসেবে বেদের ছদ্মবেশ ধারণ করে মাদক বহন করে নিয়ে আসত। মাদক পরিবহনের জন্য টিনের তৈরি সহজে বহনযোগ্য রান্না করার চুলার মধ্যে বিশেষ কায়দায় ইয়াবা লুকিয়ে তা আবার ঝালাই করে জোড়া লাগিয়ে দিত। তারা মাদকের চালান কক্সবাজার এলাকা থেকে রাজধানী ঢাকায় নিয়ে আসার ক্ষেত্রে কখনই মহাসড়ক ব্যবহার করত না।

জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার ব্যক্তিরা র‌্যাবকে আরও জানায়, কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত আসার ক্ষেত্রে তারা মহাসড়ক ব্যবহার না করে বিকল্প হিসেবে গ্রামের ভেতরের রাস্তা দিয়ে বিভিন্ন ইজি বাইক/সিএনজি/টেম্পু ব্যবহার করে পথ পাড়ি দিত। চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা আসার ক্ষেত্রে তারা চট্টগ্রাম সিটি গেটসহ বিভিন্ন স্থানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চেকপোস্ট এড়াতে ১ম ধাপে চট্টগ্রামের আনোয়ারা থেকে হাটহাজারী-মানিকছড়ি-গুইমারা-রামগড় হয়ে ফেনী আসত। সেখান থেকে তারা নোয়াখালীর-চৌমুহনী-সোনাইমুরী এবং চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ হয়ে মতলব লঞ্চঘাট পর্যন্ত আসত। ২য় ধাপে তারা সেখান থেকে ইঞ্জিনচালিত নৌকায় চড়ে মুন্সিগঞ্জ হয়ে বুড়িগঙ্গা নদী দিয়ে ঢাকার প্রবেশ করত। এতে করে তাদের ৪/৫ দিন অথবা কোনো কোনো সময় এক সপ্তাহ পর্যন্ত লেগে যেত বলে জানায়। এই দীর্ঘ সময় তারা বেদেদের মতোই জীবন-যাপন করত এবং সাধারণ মানুষের সন্দেহ দূর করতে পথের মাঝে বিভিন্ন মনিহারী দ্রব্য যেমন-চুড়ি, কড়ি, চুল বাধার ফিতা, শিশুদের কোমড়ে বাধার ঘণ্টা, চেইন, সেফটি পিন, বাতের ব্যথার রাবার রিং ইত্যাদি বিক্রি করত।

র‌্যাবের ভাষ্য, মাদক পরিবহনের ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এই ধরনের কৌশলের মুখোমুখি ইতোপূর্বে কখনো হয়নি এবং তারা যে রুটটি ব্যবহার করছে তাও একেবারে নতুন বলা চলে।

গ্রেফতারদের জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য যাচাই-বাছাই করে ভবিষ্যতে র‌্যাব-২ এ ধরনের মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত রাখবে বলেও জানানো হয়।

কক্সবাজার থেকে নতুন যে কৌশলে ইয়াবার চালান আসে ঢাকায়

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
০৫ মে ২০২১, ০৫:০৩ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বসিলা ব্রীজ এলাকা থেকে বেদের ছদ্মবেশে মাদক পাচারকালে ৭৭ হাজার পিস ইয়াবাসহ মাদক কারবারী চক্রের ৫ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব।

র‌্যাব-২ থেকে বুধবার এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়েছে।

গ্রেফতারকৃতরা হলো- মুন্সিগঞ্জের মো. আরকান মালেখের মো. তারিকুল ইসলাম (২৩), মো. শাহাদৎ হোসেনের ছেলে মো. সিনবাদ (২৩), মো. আজগর আলীর ছেলে মো. মিম মিয়া (২২), মৃত আল আমিনের ছেলে মো. ইমন (১৯) এবং সাভারের মো. মানিকের ছেলে মো. মনির (২৮)।
কায় হস্তান্তরের উদ্দেশ্যে আসছে। এর প্রেক্ষিতে র‌্যাব-২ এর আভিযানিক দল গেল মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১১টা ২০ মিনিটের দিকে মোহাম্মদপুর থানাধীন বসিলা মধ্যপাড়া এলাকায় অবস্থান নেয় এবং সেখান থেকে বেদের ছদ্মবেশ ধারণ করা পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়।

র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদ ও তল্লাশিকালে গ্রেফতার ব্যক্তিরা জানায়, তারা বেদে দলের ছদ্মবেশ ধারণ করে মাদক পাচার করে থাকে। এ সময় তারা সঙ্গে থাকা বহনযোগ্য রান্না করার টিনের চুলার ভেতরে বিশেষ কায়দায় লুকিয়ে আনা ইয়াবার কথা স্বীকার করে এবং রান্না করার চুলার নিচের অংশ কেটে তার ভেতর থেকে ৭৭ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ছদ্মবেশ ধারণের সরঞ্জামাদি, রান্নার হাড়ি-পাতিল, বালতি, বহনযোগ্য ডিসপ্লে র‌্যাক এবং নানান ধরনের ইমিটেশন অলংকার উদ্ধার করা হয়। 

র‌্যাব জানায়, প্রাথমিক অনুসন্ধান ও জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, আসামিরা পারস্পরিক যোগসাজশে নিয়মিত কক্সবাজারের সীমান্ত এলাকা ও সমুদ্রপথে বাংলাদেশে আসা ইয়াবা ট্যাবলেট রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করে আসছিল। গ্রেফতারকৃত মাদক কারবারীরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়াতে অভিনব কায়দা হিসেবে বেদের ছদ্মবেশ ধারণ করে মাদক বহন করে নিয়ে আসত। মাদক পরিবহনের জন্য টিনের তৈরি সহজে বহনযোগ্য রান্না করার চুলার মধ্যে বিশেষ কায়দায় ইয়াবা লুকিয়ে তা আবার ঝালাই করে জোড়া লাগিয়ে দিত। তারা মাদকের চালান কক্সবাজার এলাকা থেকে রাজধানী ঢাকায় নিয়ে আসার ক্ষেত্রে কখনই মহাসড়ক ব্যবহার করত না। 

জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার ব্যক্তিরা র‌্যাবকে আরও জানায়, কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত আসার ক্ষেত্রে তারা মহাসড়ক ব্যবহার না করে বিকল্প হিসেবে গ্রামের ভেতরের রাস্তা দিয়ে বিভিন্ন ইজি বাইক/সিএনজি/টেম্পু ব্যবহার করে পথ পাড়ি দিত। চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা আসার ক্ষেত্রে তারা চট্টগ্রাম সিটি গেটসহ বিভিন্ন স্থানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চেকপোস্ট এড়াতে ১ম ধাপে চট্টগ্রামের আনোয়ারা থেকে হাটহাজারী-মানিকছড়ি-গুইমারা-রামগড় হয়ে ফেনী আসত। সেখান থেকে তারা নোয়াখালীর-চৌমুহনী-সোনাইমুরী এবং চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ হয়ে মতলব লঞ্চঘাট পর্যন্ত আসত। ২য় ধাপে তারা সেখান থেকে ইঞ্জিনচালিত নৌকায় চড়ে মুন্সিগঞ্জ হয়ে বুড়িগঙ্গা নদী দিয়ে ঢাকার প্রবেশ করত। এতে করে তাদের ৪/৫ দিন অথবা কোনো কোনো সময় এক সপ্তাহ পর্যন্ত লেগে যেত বলে জানায়। এই দীর্ঘ সময় তারা বেদেদের মতোই জীবন-যাপন করত এবং সাধারণ মানুষের সন্দেহ দূর করতে পথের মাঝে বিভিন্ন মনিহারী দ্রব্য যেমন-চুড়ি, কড়ি, চুল বাধার ফিতা, শিশুদের কোমড়ে বাধার ঘণ্টা, চেইন, সেফটি পিন, বাতের ব্যথার রাবার রিং ইত্যাদি বিক্রি করত। 

র‌্যাবের ভাষ্য, মাদক পরিবহনের ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এই ধরনের কৌশলের মুখোমুখি ইতোপূর্বে কখনো হয়নি এবং তারা যে রুটটি ব্যবহার করছে তাও একেবারে নতুন বলা চলে।

গ্রেফতারদের জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য যাচাই-বাছাই করে ভবিষ্যতে র‌্যাব-২ এ ধরনের মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত রাখবে বলেও জানানো হয়।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন