ক্লুলেস হত্যার খুনিদের যে সূত্রে শনাক্ত, অতঃপর...
jugantor
ক্লুলেস হত্যার খুনিদের যে সূত্রে শনাক্ত, অতঃপর...

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

১৫ জুন ২০২১, ১৮:১৯:৫৯  |  অনলাইন সংস্করণ

ক্লুলেস হত্যার খুনিদের যে সূত্রে শনাক্ত, অতঃপর...

রাজধানীর ৩০০ ফিট রাস্তার পাশে পড়ে থাকা অজ্ঞাতনামা লাশের পরিচয় শনাক্ত ও হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

খিলক্ষেত থানাধীন ওই রাস্তায় গত বছর ১৬ জুন রাতে হত্যার শিকার সুমি হাসান নামের ওই নারীর মোবাইল ফোনের তিনটি নম্বরের কল রেকর্ডের সূত্র ধরে তিন খুনিকে গ্রেফতার করেছে সিআইডি।

গ্রেফতারকৃতরা সিআইডির জিজ্ঞাসাবাদে ও আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে পরস্পর যোগসাজশে সুমি হাসানকে শ্বাসরোধে হত্যা ও লাশ গুমের চেষ্টা করেছিল বলে স্বীকার করেছে। গ্রেফতাকৃতরা হলেন- ফারুকুল ইসলাম (৪৩), কাজী ইমরান মাহমুদ (৩২) ও সালাউদ্দিন খলিফা ওরফে সুমন।

মঙ্গলবার রাজধানীর মালিবাগ সিআইডি কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান সিআইডির ঢাকা মেট্রোপলিটনের অতিরিক্ত ডিআইজি শেখ ওমর ফারুক।

তিনি বলেন, গত বছরের ১৯ জুন ঢাকার খিলক্ষেত থানাধীন পূর্বাচল থেকে ঢাকাগামী ৩০০ ফিট রাস্তার দক্ষিণ পাশের ঝোপের ভেতর থেকে অজ্ঞাতনামা নারীর লাশ দেখতে পেয়ে খিলক্ষেত থানা পুলিশ খবর দেয় সিআইডি ক্রাইমসিন টিমকে।

সিআইডি ক্রাইমসিন এবং ঢাকা মেট্রো উত্তর সিআইডির টিম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তদন্ত শুরু করে। সিআইডি ক্রাইমসিন টিম অজ্ঞাতনামা নারীর লাশের ছবি, ফিঙ্গারপ্রিন্ট ও বায়োলজিক্যাল এভিডেন্স সংগ্রহ করে। সিআইডি ক্রাইমসিন টিম কর্তৃক সংগ্রহকৃত ফিঙ্গারপ্রিন্টের মাধ্যমে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে জানা যায় ওই অজ্ঞাতনামা লাশের পরিচয়। তার নাম সুমি হাসান (৩০)। গোপালগঞ্জের কোটালিপাড়ার ছিকটিবাড়ীতে তার বাড়ি। নিহত সুমি হাসানের স্বামীর নাম জাহিদ হাসান। পেশায় তিনি একজন ড্রাইভার এবং তিনি বর্তমানে ঢাকায় থাকেন। জাহিদ হাসানের মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারে জানা যায় ঘটনার সময় তার অবস্থান ছিল জিগাতলা।

জিগাতলা থেকে জাহিদ হাসানকে খুঁজে বের করে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা যায় তিনি সুমি হাসানের প্রাক্তন স্বামী। তিনি সুমি হাসানের পালক বাবা-মার ঠিকানা জানেন। পরে তাকে নিয়ে তার পালক মা আম্বিয়া খাতুনের বাড়িতে গিয়ে সুমি হাসানের ছবি দেখালে তিনি সুমি হাসানকে শনাক্ত করেন। এরপর সুমি হত্যার ঘটনায় খিলক্ষেত থানায় একটি মামলা হয়। পালক মা আম্বিয়া খাতুনের কাছ থেকে সুমি হাসানের মোবাইল নম্বর নিয়ে তা তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে পর্যালোচনা করে দেখা যায় যে, সুমি জীবিত অবস্থায় সর্বশেষ অর্থাৎ গত বছরের ১৮ জুন ৩টি নম্বরে কথা বলেন। সেসব নম্বরের লোকেশন খিলগাঁওয়ের নাগদারপাড়া ও শেখের জায়গা। নম্বর ৩টির রেজিস্ট্রেশন পর্যালোচনা করে গ্রাহকের নাম ফারুকুল ইসলাম (৪৩), কাজী ইমরান মাহমুদ (৩২) ও সালাউদ্দিন খলিফা ওরফে সুমন (৩৮) বলে তথ্য মেলে। ফোনকলের তথ্য সূত্র ধরে ওই তিনজনকে গ্রেফতার করে সিআইডি। জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার তিনজন সুমি হাসানের সঙ্গে অর্থের বিনিময়ে শারীরিক সম্পর্কের কথা স্বীকার করে।

শেখ ওমর ফারুক বলেন, গ্রেফতাররা জানান- সুমি হাসান শারীরিক সম্পর্কের জন্য ৩০ হাজার টাকা দাবি করেন। কিন্তু তিনজনই ৩০ হাজার টাকা নাই বলে অস্বীকৃতি জানান। টাকা না দিলে ভিকটিম সুমি আসামি ফারুকের স্ত্রীকে সব বলে দেবেন বলে হুমকি দেন। এরপরই সুমিকে খুনের পরিকল্পনা করেন তারা। তারা পরস্পর যোগসাজশে সুমি হাসানকে গত ১৮ জুন রাতে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। হত্যার পর লাশ গুম করতে পরদিন সকালে অপরিচিত সিএনজি অটোরিকশা ভাড়া করে পূর্বাচল থেকে ঢাকাগামী ৩০০ ফিট রাস্তার পাশের ঝোপে ফেলে যান।

অতিরিক্ত ডিআইজি বলেন, মামলাটি তদন্তকালে সুমি হাসানের ভ্যাজাইনাল সোয়াবের ডিএনএর সঙ্গে সন্দেহভাজন আসামিদের ডিএনএ পরীক্ষায় শুক্রানুর উপস্থিতি পাওয়া যায়। ডিএনএ পরীক্ষায় সুমি হাসানের ভ্যাজাইনাল সোয়াব থেকে যে ডিএনএ প্রোফাইল পাওয়া গেছে তার সঙ্গে আসামিদের ডিএনএ পাওয়া যায়। তদন্তকালে পাওয়া সাক্ষ্য-প্রমাণ, সুরতহাল প্রতিবেদন, আসামিদের ১৬৪ ধারার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি, আইটি ফরেনসিক রিপোর্ট, ডিএনএ প্রোফাইল রিপোর্ট, ময়নাতদন্ত রিপোর্ট এবং পারিপার্শ্বিক সাক্ষ্য দিয়ে প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয় গ্রেফতার ফারুকুল ইসলাম, কাজী ইমরান মাহমুদ ও সালাউদ্দিন খলিফা অর্থের বিনিময়ে শারীরিক সম্পর্ক, শ্বাসরোধ করে হত্যা ও লাশ গুমের চেষ্টা করেন।

শেখ ওমর ফারুক জানান, মামলাটি তদন্ত সমাপ্ত করে তিন আসামির বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করা হয়েছে।

ক্লুলেস হত্যার খুনিদের যে সূত্রে শনাক্ত, অতঃপর...

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
১৫ জুন ২০২১, ০৬:১৯ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
ক্লুলেস হত্যার খুনিদের যে সূত্রে শনাক্ত, অতঃপর...
প্রতীকী ছবি

রাজধানীর ৩০০ ফিট রাস্তার পাশে পড়ে থাকা অজ্ঞাতনামা লাশের পরিচয় শনাক্ত ও হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। 

খিলক্ষেত থানাধীন ওই রাস্তায় গত বছর ১৬ জুন রাতে হত্যার শিকার সুমি হাসান নামের ওই নারীর মোবাইল ফোনের তিনটি নম্বরের কল রেকর্ডের সূত্র ধরে তিন খুনিকে গ্রেফতার করেছে সিআইডি। 

গ্রেফতারকৃতরা সিআইডির জিজ্ঞাসাবাদে ও আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে পরস্পর যোগসাজশে সুমি হাসানকে শ্বাসরোধে হত্যা ও লাশ গুমের চেষ্টা করেছিল বলে স্বীকার করেছে। গ্রেফতাকৃতরা হলেন- ফারুকুল ইসলাম (৪৩), কাজী ইমরান মাহমুদ (৩২) ও সালাউদ্দিন খলিফা ওরফে সুমন।

মঙ্গলবার রাজধানীর মালিবাগ সিআইডি কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান সিআইডির ঢাকা মেট্রোপলিটনের অতিরিক্ত ডিআইজি শেখ ওমর ফারুক। 

তিনি বলেন, গত বছরের ১৯ জুন ঢাকার খিলক্ষেত থানাধীন পূর্বাচল থেকে ঢাকাগামী ৩০০ ফিট রাস্তার দক্ষিণ পাশের ঝোপের ভেতর থেকে অজ্ঞাতনামা নারীর লাশ দেখতে পেয়ে খিলক্ষেত থানা পুলিশ খবর দেয় সিআইডি ক্রাইমসিন টিমকে।

সিআইডি ক্রাইমসিন এবং ঢাকা মেট্রো উত্তর সিআইডির টিম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তদন্ত শুরু করে। সিআইডি ক্রাইমসিন টিম অজ্ঞাতনামা নারীর লাশের ছবি, ফিঙ্গারপ্রিন্ট ও বায়োলজিক্যাল এভিডেন্স সংগ্রহ করে। সিআইডি ক্রাইমসিন টিম কর্তৃক সংগ্রহকৃত ফিঙ্গারপ্রিন্টের মাধ্যমে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে জানা যায় ওই অজ্ঞাতনামা লাশের পরিচয়। তার নাম সুমি হাসান (৩০)। গোপালগঞ্জের কোটালিপাড়ার ছিকটিবাড়ীতে তার বাড়ি। নিহত সুমি হাসানের স্বামীর নাম জাহিদ হাসান। পেশায় তিনি একজন ড্রাইভার এবং তিনি বর্তমানে ঢাকায় থাকেন। জাহিদ হাসানের মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারে জানা যায় ঘটনার সময় তার অবস্থান ছিল জিগাতলা।

জিগাতলা থেকে জাহিদ হাসানকে খুঁজে বের করে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা যায় তিনি সুমি হাসানের প্রাক্তন স্বামী। তিনি সুমি হাসানের পালক বাবা-মার ঠিকানা জানেন। পরে তাকে নিয়ে তার পালক মা আম্বিয়া খাতুনের বাড়িতে গিয়ে সুমি হাসানের ছবি দেখালে তিনি সুমি হাসানকে শনাক্ত করেন। এরপর সুমি হত্যার ঘটনায় খিলক্ষেত থানায় একটি মামলা হয়। পালক মা আম্বিয়া খাতুনের কাছ থেকে সুমি হাসানের মোবাইল নম্বর নিয়ে তা তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে পর্যালোচনা করে দেখা যায় যে, সুমি জীবিত অবস্থায় সর্বশেষ অর্থাৎ গত বছরের ১৮ জুন ৩টি নম্বরে কথা বলেন। সেসব নম্বরের লোকেশন খিলগাঁওয়ের নাগদারপাড়া ও শেখের জায়গা। নম্বর ৩টির রেজিস্ট্রেশন পর্যালোচনা করে গ্রাহকের নাম ফারুকুল ইসলাম (৪৩), কাজী ইমরান মাহমুদ (৩২) ও সালাউদ্দিন খলিফা ওরফে সুমন (৩৮) বলে তথ্য মেলে। ফোনকলের তথ্য সূত্র ধরে ওই তিনজনকে গ্রেফতার করে সিআইডি। জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার তিনজন সুমি হাসানের সঙ্গে অর্থের বিনিময়ে শারীরিক সম্পর্কের কথা স্বীকার করে।

শেখ ওমর ফারুক বলেন, গ্রেফতাররা জানান- সুমি হাসান শারীরিক সম্পর্কের জন্য ৩০ হাজার টাকা দাবি করেন। কিন্তু তিনজনই ৩০ হাজার টাকা নাই বলে অস্বীকৃতি জানান। টাকা না দিলে ভিকটিম সুমি আসামি ফারুকের স্ত্রীকে সব বলে দেবেন বলে হুমকি দেন। এরপরই সুমিকে খুনের পরিকল্পনা করেন তারা। তারা পরস্পর যোগসাজশে সুমি হাসানকে গত ১৮ জুন রাতে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। হত্যার পর লাশ গুম করতে পরদিন সকালে অপরিচিত সিএনজি অটোরিকশা ভাড়া করে পূর্বাচল থেকে ঢাকাগামী ৩০০ ফিট রাস্তার পাশের ঝোপে ফেলে যান।

অতিরিক্ত ডিআইজি বলেন, মামলাটি তদন্তকালে সুমি হাসানের ভ্যাজাইনাল সোয়াবের ডিএনএর সঙ্গে সন্দেহভাজন আসামিদের ডিএনএ পরীক্ষায় শুক্রানুর উপস্থিতি পাওয়া যায়। ডিএনএ পরীক্ষায় সুমি হাসানের ভ্যাজাইনাল সোয়াব থেকে যে ডিএনএ প্রোফাইল পাওয়া গেছে তার সঙ্গে আসামিদের ডিএনএ পাওয়া যায়। তদন্তকালে পাওয়া সাক্ষ্য-প্রমাণ, সুরতহাল প্রতিবেদন, আসামিদের ১৬৪ ধারার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি, আইটি ফরেনসিক রিপোর্ট, ডিএনএ প্রোফাইল রিপোর্ট, ময়নাতদন্ত রিপোর্ট এবং পারিপার্শ্বিক সাক্ষ্য দিয়ে প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয় গ্রেফতার ফারুকুল ইসলাম, কাজী ইমরান মাহমুদ ও সালাউদ্দিন খলিফা অর্থের বিনিময়ে শারীরিক সম্পর্ক, শ্বাসরোধ করে হত্যা ও লাশ গুমের চেষ্টা করেন। 

শেখ ওমর ফারুক জানান, মামলাটি তদন্ত সমাপ্ত করে তিন আসামির বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করা হয়েছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন