প্রিন্স মুসাকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে যা বললেন ডিবির হারুন
jugantor
প্রিন্স মুসাকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে যা বললেন ডিবির হারুন

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

১২ অক্টোবর ২০২১, ২০:৩১:২৬  |  অনলাইন সংস্করণ

ধনকুবের প্রিন্স মুসাকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে যা বললেন ডিবির হারুন

বহুল আলোচিত ধনকুবের মুসা বিন শমসেরকে কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে তিন ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

মঙ্গলবার বিকাল ৩টা ২৫ মিনিটের দিকে একটি গাড়িতে ডিবি কার্যালয়ে প্রবেশ করেন তিনি। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ডিবি কার্যালয় থেকে বের হন ৬টা ৫৫ মিনিটে। অতিরিক্ত সচিব পরিচয়ে প্রতারণার অভিযোগে গ্রেফতার আবদুল কাদেরের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে তাকে ডেকে নেওয়া হয়।

জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সংবাদ সম্মেলনে আসেন ডিবির যুগ্ম কমিশনার (গুলশান) হারুন অর রশীদ।অতিরিক্ত সচিব পরিচয়দানকারী আবদুল কাদেরের প্রতারণার দায় মুসা বিন শমসের এড়াতে পারবেন না বলে মন্তব্য করেন ডিবির হারুন।

হারুন বলেন, মুসা বিন শমসের প্রতারক কাদেরকে তার আইন উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন।তাকে ২০ কোটি টাকার চেক দিয়েছেন।তাকে ‘বাবা’, ‘সোনা’ বলেও ডাকতেন।জিজ্ঞাসাবাদে মুসা বিন শমসের দাবি করেছেন- তিনি কাদেরের প্রতারণার বিষয়ে কিছু জানেন না। আমরা তাকে বলেছি, একজন নাইন পাস লোককে আপনি না বুঝে কীভাবে নিয়োগ দিলেন, তার থেকে ১০ কোটি টাকা নিয়ে কীভাবে লাভসহ ২০ কোটি টাকার চেক দিলেন?

মুসাকে কী জিজ্ঞাসা করেছেন জানতে চাইলে ডিবির যুগ্ম কমিশনার বলেন, ‘উনাকে আমার কাছে রহস্যময় মানুষ মনে হয়েছে। কাদের নাইন পাস লোক, তাকে উপদেষ্টা বানালেন কেন? ২০ কোটি টাকার চেক দিলেন কেন?

‘উনি (মুসা) বলেছে লাভ দেবে। কিন্তু উদ্দেশ্য আমরা জানি না। মুসা সাহেব দেখেছেন, কাদের মাঝি বড় বড় লোকের সঙ্গে কথা বলেন। কাদেরের সঙ্গে উনার অনেক সম্পর্ক রয়েছে। উনি বাবা সোনা ডাকেন। ছেলের চেয়ের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক।’

ডিবি কর্মকর্তা হারুন বলেন, ‘উনি (মুসা) কী টাইপের মানুষ আমরা বুঝি না। তবে উনার সঙ্গে ভুয়া এডিশনাল সেক্রেটারি কাদের মাঝির যে সম্পর্ক, এর দায় তিনি এড়াতে পারবেন না।’

হারুন আরও বলেন, মুসা সাহেব কাদেরের সম্পর্কে বেশি জানেন না বললেও আমরা তার সঙ্গে কাদেরের অজস্র কথপোকথন পেয়েছি।প্রয়োজনে তাকে (মুসা বিন শমসের) জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আবারও ডাকা হতে পারে।

উল্লেখ্য, গত ৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা থেকে রাত ১টা পর্যন্ত ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) গুলশান বিভাগের সব টিম কাওরানবাজার, মিরপুর এবং গুলশানে ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে প্রতারক আবদুল কাদের মাঝিকে গ্রেফতার করে।ওই সময় তার দ্বিতীয় স্ত্রী শারমিন চৌধুরী ছোঁয়া, অফিস ম্যানেজার শহিদুল আলম এবং অফিস সহকারী আনিসুর রহমানকে।মিরপুর ৬ নম্বরের বাসা থেকে বাইরে যাওয়ার মুহূর্তে নিজের প্রাডো গাড়িসহ গ্রেফতার হয় আব্দুল কাদের। তার স্ত্রীকে বাসা থেকে এবং অন্য দুইজনকে গুলশানের অফিস থেকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের সময় কাদেরের পকেটে পাওয়া যায় অতিরিক্ত সচিবের ভুয়া আইডি কার্ড, ভিজিটিং কার্ড। কাদেরের কোমরে পাওয়া যায় একটি অবৈধ বিদেশি পিস্তল, ম্যাগাজিন ও এক রাউন্ড গুলি।

৯ অক্টোবর সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অতিরিক্ত কমিশনার একেএম হাফিজ আক্তার। তিনি বলেন, আবদুল কাদের মাঝি পড়াশোনা করেছেন দশম শ্রেণি পর্যন্ত। কিন্তু নিজেকে পরিচয় দিতেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব হিসেবে। প্রতারণার মাধ্যমে তিনি বানিয়েছেন পরিচয়পত্র (আইডি কার্ড)। ছাপিয়েছেন ভিজিটিং কার্ড। গাড়িতে ব্যবহার করতেন স্টিকার ও ফ্ল্যাগ স্ট্যান্ড। তিনি নিজেকে ধনকুবের প্রিন্স মুসা বিন শমসেরের নিয়োগ করা লিগ্যাল অ্যাডভাইজার হিসাবে পরিচয় দেন। ৩৩ জন সচিবসহ বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তির সঙ্গে তার কনসোর্টিয়াম, ব্যবসা আছে বলে প্রচার করতেন।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, প্রতারক আবদুল কাদের মাঝির কাছ থেকে মুসা বিন শমসের ও তার স্ত্রীর সঙ্গে করা কিছু চুক্তিপত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া মুসা বিন শমসেরের সঙ্গে তার ২০ কোটি টাকা লেনদেনের কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। কীসের ভিত্তিতে এসব লেনদেন করা হয়েছে- তা জানতেই মূলত মুসা বিন শমসেরকে আজ (মঙ্গলবার) জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।

প্রিন্স মুসাকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে যা বললেন ডিবির হারুন

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
১২ অক্টোবর ২০২১, ০৮:৩১ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
ধনকুবের প্রিন্স মুসাকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে যা বললেন ডিবির হারুন
প্রেস ব্রিফিংয়ে ডিবির যুগ্ম কমিশনার (গুলশান) হারুন অর রশীদ।

বহুল আলোচিত ধনকুবের মুসা বিন শমসেরকে কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে তিন ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

মঙ্গলবার বিকাল ৩টা ২৫ মিনিটের দিকে একটি গাড়িতে ডিবি কার্যালয়ে প্রবেশ করেন তিনি। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ডিবি কার্যালয় থেকে বের হন ৬টা ৫৫ মিনিটে। অতিরিক্ত সচিব পরিচয়ে প্রতারণার অভিযোগে গ্রেফতার আবদুল কাদেরের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে তাকে ডেকে নেওয়া হয়।

জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সংবাদ সম্মেলনে আসেন ডিবির যুগ্ম কমিশনার (গুলশান) হারুন অর রশীদ।অতিরিক্ত সচিব পরিচয়দানকারী আবদুল কাদেরের প্রতারণার দায় মুসা বিন শমসের এড়াতে পারবেন না বলে মন্তব্য করেন ডিবির হারুন।

হারুন বলেন, মুসা বিন শমসের প্রতারক কাদেরকে তার আইন উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন।তাকে ২০ কোটি টাকার চেক দিয়েছেন।তাকে ‘বাবা’, ‘সোনা’ বলেও ডাকতেন।জিজ্ঞাসাবাদে মুসা বিন শমসের দাবি করেছেন- তিনি কাদেরের প্রতারণার বিষয়ে কিছু জানেন না। আমরা তাকে বলেছি, একজন নাইন পাস লোককে আপনি না বুঝে কীভাবে নিয়োগ দিলেন, তার থেকে ১০ কোটি টাকা নিয়ে কীভাবে লাভসহ ২০ কোটি টাকার চেক দিলেন?

মুসাকে কী জিজ্ঞাসা করেছেন জানতে চাইলে ডিবির যুগ্ম কমিশনার বলেন, ‘উনাকে আমার কাছে রহস্যময় মানুষ মনে হয়েছে। কাদের নাইন পাস লোক, তাকে উপদেষ্টা বানালেন কেন? ২০ কোটি টাকার চেক দিলেন কেন?

‘উনি (মুসা) বলেছে লাভ দেবে। কিন্তু উদ্দেশ্য আমরা জানি না। মুসা সাহেব দেখেছেন, কাদের মাঝি বড় বড় লোকের সঙ্গে কথা বলেন। কাদেরের সঙ্গে উনার অনেক সম্পর্ক রয়েছে। উনি বাবা সোনা ডাকেন। ছেলের চেয়ের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক।’

ডিবি কর্মকর্তা হারুন বলেন, ‘উনি (মুসা) কী টাইপের মানুষ আমরা বুঝি না। তবে উনার সঙ্গে ভুয়া এডিশনাল সেক্রেটারি কাদের মাঝির যে সম্পর্ক, এর দায় তিনি এড়াতে পারবেন না।’

হারুন আরও বলেন, মুসা সাহেব কাদেরের সম্পর্কে বেশি জানেন না বললেও আমরা তার সঙ্গে কাদেরের অজস্র কথপোকথন পেয়েছি।প্রয়োজনে তাকে (মুসা বিন শমসের) জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আবারও ডাকা হতে পারে।

উল্লেখ্য, গত ৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা থেকে রাত ১টা পর্যন্ত ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) গুলশান বিভাগের সব টিম কাওরানবাজার, মিরপুর এবং গুলশানে ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে প্রতারক আবদুল কাদের মাঝিকে গ্রেফতার করে।ওই সময় তার দ্বিতীয় স্ত্রী শারমিন চৌধুরী ছোঁয়া, অফিস ম্যানেজার শহিদুল আলম এবং অফিস সহকারী আনিসুর রহমানকে।মিরপুর ৬ নম্বরের বাসা থেকে বাইরে যাওয়ার মুহূর্তে নিজের প্রাডো গাড়িসহ গ্রেফতার হয় আব্দুল কাদের। তার স্ত্রীকে বাসা থেকে এবং অন্য দুইজনকে গুলশানের অফিস থেকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের সময় কাদেরের পকেটে পাওয়া যায় অতিরিক্ত সচিবের ভুয়া আইডি কার্ড, ভিজিটিং কার্ড। কাদেরের কোমরে পাওয়া যায় একটি অবৈধ বিদেশি পিস্তল, ম্যাগাজিন ও এক রাউন্ড গুলি।

৯ অক্টোবর সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অতিরিক্ত কমিশনার একেএম হাফিজ আক্তার। তিনি বলেন, আবদুল কাদের মাঝি পড়াশোনা করেছেন দশম শ্রেণি পর্যন্ত। কিন্তু নিজেকে পরিচয় দিতেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব হিসেবে। প্রতারণার মাধ্যমে তিনি বানিয়েছেন পরিচয়পত্র (আইডি কার্ড)। ছাপিয়েছেন ভিজিটিং কার্ড। গাড়িতে ব্যবহার করতেন স্টিকার ও ফ্ল্যাগ স্ট্যান্ড। তিনি নিজেকে ধনকুবের প্রিন্স মুসা বিন শমসেরের নিয়োগ করা লিগ্যাল অ্যাডভাইজার হিসাবে পরিচয় দেন। ৩৩ জন সচিবসহ বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তির সঙ্গে তার কনসোর্টিয়াম, ব্যবসা আছে বলে প্রচার করতেন।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, প্রতারক আবদুল কাদের মাঝির কাছ থেকে মুসা বিন শমসের ও তার স্ত্রীর সঙ্গে করা কিছু চুক্তিপত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া মুসা বিন শমসেরের সঙ্গে তার ২০ কোটি টাকা লেনদেনের কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। কীসের ভিত্তিতে এসব লেনদেন করা হয়েছে- তা জানতেই মূলত মুসা বিন শমসেরকে আজ (মঙ্গলবার) জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও খবর