বিদেশি নাগরিক ও প্রবাসীদের নিশানা করে তারা
jugantor
বিদেশি নাগরিক ও প্রবাসীদের নিশানা করে তারা

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

১৭ অক্টোবর ২০২১, ১৮:০০:২২  |  অনলাইন সংস্করণ

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখা (ডিবি-উত্তর) একটি সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের সন্ধান পেয়েছে।চক্রটি বাংলাদেশে ঘুরতে আসা বিদেশি নাগরিক এবং বাংলাদেশি প্রবাসীদের নিশানা করে।দেশি-বিদেশি লোকজন ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামার পর তাদের গাড়িভাড়া দেওয়ার প্রস্তাব দেয় তারা।পরে গাড়িতে তুলে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে সব ছিনিয়ে নিয়ে যায় চক্রটি।এভাবে তারা ছিনতাই ও ডাকাতি করে আসছে বহুদিন ধরে।

শাহজালাল বিমানবন্দর এলাকায় ছিনতাই ও ডাকাতির দুটি ঘটনা তদন্ত করতে গিয়ে চক্রটির সন্ধান পায় গোয়েন্দারা।শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে রাজধানীর হাতিরঝিল থানার মীরবাগ এলাকায় অভিযান চালিয়ে এই চক্রটির তিন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ডিবি পুলিশ।এরা হলো- মো. মাসুদুল হক ওরফে আপেল, আমির হোসেন হাওলাদার ও মো. শামীম।এদের মধ্যে মূলহোতা মাসুদুল।তার বিরুদ্ধে সাতটি মামলা রয়েছে।

গ্রেফতারের সময় তাদের কাছ থেকে ৫৫ হাজার টাকা, একটি স্টিলের চাকু, ৫টি পাসপোর্ট, ২টি জাতীয় পরিচয়পত্র, ২টি এটিএম কার্ড, ১টি আইপ্যাড, ১টি ওয়ার্ক পারমিট কার্ড, ১টি বিএমইটি কার্ড ও ১টি অফিস আইডি কার্ড উদ্ধার করা হয়েছে।

ডিবি বলছে, চক্রটি কখনো কখনো প্রবাসীদের সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলে। পরে তাদের চেতনানাশক ওষুধ দিয়ে অজ্ঞান করে সঙ্গে থাকা নগদ অর্থ, মোবাইল, পাসপোর্টসহ দামি জিনিস ছিনিয়ে নেয় এই চক্র।

চক্রটির বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে রোববার দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে ডিবি।এতে ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার একেএম হাফিজ আক্তার এসব তথ্য তুলে ধরেন।চক্রটির সন্ধান পাওয়ার পেছনে দুটি ঘটনার কথা উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি জানান, বিমানবন্দরকেন্দ্রিক এই চক্রটি এক বছরে অর্ধশতাধিক ছিনতাই, ডাকাতি ও অপহরণের ঘটনা ঘটিয়ে লোকজনের মালামাল লুণ্ঠন করেছে। তবে এসব ঘটনায় মাত্র ৭টি মামলা হয়েছে।অনেক প্রবাসীর কর্মক্ষেত্রে ফিরে যাওয়ার তাড়া থাকায় তারা ঝামেলা এড়াতে মামলা করেন না।তাছাড়া বিদেশিরাও ১০-১৫ দিনের জন্য ঘুরতে এসে আইনি ঝামেলায় জড়াতে চান না। আর এ সুযোগটিকেই কাজে লাগিয়ে এসব ঘটনা ঘটায় চক্রটি।

একেএম হাফিজ আক্তার বলেন, গত ৭ সেপ্টেম্বর মো. লিটন সরকার নামের এক প্রবাসী মিসর থেকে ঢাকায় আসেন। তিনি বিমানবন্দরে নেমে গোলচত্বর এলাকায় গিয়ে ফুটওভার ব্রিজের নিচে দাঁড়িয়ে গাড়ির জন্য অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় লিটনকে অজ্ঞাতনামা ৫-৬ জন ব্যক্তি ধারাল অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তার কাছে থেকে হ্যান্ডব্যাগ এবং লাগেজ ছিনিয়ে নেয়। তার ব্যাগে একটি পাসপোর্ট, মিসরের ভিসা, বিমানের টিকিট, ৮ আনা ওজনের স্বর্ণালঙ্কার, ২টি মোবাইল, একটি স্মার্ট কার্ড এবং প্রয়োজনীয় কাপড়চোপড়সহ অর্থ ছিল।পরে চক্রটির লিটনকে একটি বাসে তুলে দেয়।

ডিবি কর্মকর্তা বলেন, এ ঘটনার বিষয়ে লিটন যেন কাউকে কিছু না বলেন- সে জন্য হুমকি দেন চক্রের সদস্যরা।১৫ অক্টোবর বিমানবন্দর থানায় একটি মামলা হয়।

ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার জানান, গত ৫ অক্টোবর যুক্তরাজ্য থেকে ঢাকায় এসেছিলেন নাটোরের বড়াইগ্রামের ওমর শরিফ নামের এক ব্যক্তি।তাকে শাহজালাল বিমানবন্দর এলাকা থেকে অপহরণ করা হয়। পরে তার পাসপোর্টসহ সব মালামাল লুটে নিয়ে তাকে ঢাকার বাইরে গাড়ি থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়।

বিদেশি নাগরিক ও প্রবাসীদের নিশানা করে তারা

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
১৭ অক্টোবর ২০২১, ০৬:০০ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখা (ডিবি-উত্তর) একটি সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের সন্ধান পেয়েছে।চক্রটি বাংলাদেশে ঘুরতে আসা বিদেশি নাগরিক এবং বাংলাদেশি প্রবাসীদের নিশানা করে।দেশি-বিদেশি লোকজন ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামার পর তাদের গাড়িভাড়া দেওয়ার প্রস্তাব দেয় তারা।পরে গাড়িতে তুলে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে সব ছিনিয়ে নিয়ে যায় চক্রটি।এভাবে তারা ছিনতাই ও ডাকাতি করে আসছে বহুদিন ধরে।

শাহজালাল বিমানবন্দর এলাকায় ছিনতাই ও ডাকাতির দুটি ঘটনা তদন্ত করতে গিয়ে চক্রটির সন্ধান পায় গোয়েন্দারা।শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে রাজধানীর হাতিরঝিল থানার মীরবাগ এলাকায় অভিযান চালিয়ে এই চক্রটির তিন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ডিবি পুলিশ।এরা হলো- মো. মাসুদুল হক ওরফে আপেল, আমির হোসেন হাওলাদার ও মো. শামীম।এদের মধ্যে মূলহোতা মাসুদুল।তার বিরুদ্ধে সাতটি মামলা রয়েছে।

গ্রেফতারের সময় তাদের কাছ থেকে ৫৫ হাজার টাকা, একটি স্টিলের চাকু, ৫টি পাসপোর্ট, ২টি জাতীয় পরিচয়পত্র, ২টি এটিএম কার্ড, ১টি আইপ্যাড, ১টি ওয়ার্ক পারমিট কার্ড, ১টি বিএমইটি কার্ড ও ১টি অফিস আইডি কার্ড উদ্ধার করা হয়েছে।

ডিবি বলছে, চক্রটি কখনো কখনো প্রবাসীদের সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলে। পরে তাদের চেতনানাশক ওষুধ দিয়ে অজ্ঞান করে সঙ্গে থাকা নগদ অর্থ, মোবাইল, পাসপোর্টসহ দামি জিনিস ছিনিয়ে নেয় এই চক্র।

চক্রটির বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে রোববার দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে ডিবি।এতে ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার একেএম হাফিজ আক্তার এসব তথ্য তুলে ধরেন।চক্রটির সন্ধান পাওয়ার পেছনে দুটি ঘটনার কথা উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি জানান, বিমানবন্দরকেন্দ্রিক এই চক্রটি এক বছরে অর্ধশতাধিক ছিনতাই, ডাকাতি ও অপহরণের ঘটনা ঘটিয়ে লোকজনের মালামাল লুণ্ঠন করেছে। তবে এসব ঘটনায় মাত্র ৭টি মামলা হয়েছে।অনেক প্রবাসীর কর্মক্ষেত্রে ফিরে যাওয়ার তাড়া থাকায় তারা ঝামেলা এড়াতে মামলা করেন না।তাছাড়া বিদেশিরাও ১০-১৫ দিনের জন্য ঘুরতে এসে আইনি ঝামেলায় জড়াতে চান না। আর এ সুযোগটিকেই কাজে লাগিয়ে এসব ঘটনা ঘটায় চক্রটি।

একেএম হাফিজ আক্তার বলেন, গত ৭ সেপ্টেম্বর মো. লিটন সরকার নামের এক প্রবাসী মিসর থেকে ঢাকায় আসেন। তিনি বিমানবন্দরে নেমে গোলচত্বর এলাকায় গিয়ে ফুটওভার ব্রিজের নিচে দাঁড়িয়ে গাড়ির জন্য অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় লিটনকে অজ্ঞাতনামা ৫-৬ জন ব্যক্তি ধারাল অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তার কাছে থেকে হ্যান্ডব্যাগ এবং লাগেজ ছিনিয়ে নেয়। তার ব্যাগে একটি পাসপোর্ট, মিসরের ভিসা, বিমানের টিকিট, ৮ আনা ওজনের স্বর্ণালঙ্কার, ২টি মোবাইল, একটি স্মার্ট কার্ড এবং প্রয়োজনীয় কাপড়চোপড়সহ অর্থ ছিল।পরে চক্রটির লিটনকে একটি বাসে তুলে দেয়।

ডিবি কর্মকর্তা বলেন, এ ঘটনার বিষয়ে লিটন যেন কাউকে কিছু না বলেন- সে জন্য হুমকি দেন চক্রের সদস্যরা।১৫ অক্টোবর বিমানবন্দর থানায় একটি মামলা হয়।

ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার জানান, গত ৫ অক্টোবর যুক্তরাজ্য থেকে ঢাকায় এসেছিলেন নাটোরের বড়াইগ্রামের ওমর শরিফ নামের এক ব্যক্তি।তাকে শাহজালাল বিমানবন্দর এলাকা থেকে অপহরণ করা হয়। পরে তার পাসপোর্টসহ সব মালামাল লুটে নিয়ে তাকে ঢাকার বাইরে গাড়ি থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও খবর