শ্বশুরবাড়িতে মার্কিন নাগরিকের লাশ, স্ত্রীর ‘পরকীয়া প্রেমিক’ গ্রেফতার
jugantor
শ্বশুরবাড়িতে মার্কিন নাগরিকের লাশ, স্ত্রীর ‘পরকীয়া প্রেমিক’ গ্রেফতার

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

০৭ মে ২০২২, ২১:১৩:১৫  |  অনলাইন সংস্করণ

শ্বশুরবাড়িতে মার্কিন নাগরিকের লাশ, স্ত্রীর ‘পরকীয়া প্রেমিক’ গ্রেফতার

রাজধানীর বনানীতে শ্বশুরবাড়ি থেকে এক মার্কিন নাগরিকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তার নাম শেখ শোয়েব সাজ্জাদ (৪৪)। জনপ্রিয় অনলাইন মার্কেটপ্লেস অ্যামাজনে চাকরি করতেন তিনি। সাজ্জাদের লাশ উদ্ধারের ঘটনায় স্ত্রী সাবরিনা শারমিন ও শারমিনের ‘পরকীয়া প্রেমিক’ কাজী ফাহাদের বিরুদ্ধে ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলা হয়েছে। সাজ্জাদের পরিবারের পক্ষ থেকে পুরো ঘটনাটি ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসকে অবগত করা হয়েছে।

শারমিনের বন্ধুকে শুক্রবার গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শনিবার তাকে আদালতে হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন জানায় পুলিশ। রিমান্ড আবেদনের শুনানি শেষে আদালত একদিনের জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছেন।

এদিকে সাজ্জাদের স্ত্রী শারমীন এখনো পলাতক। গত ৩০ এপ্রিল বিকালে রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানার বনানী ডিওএইচএস’র মসজিদ গলির ১০৫ নম্বর বাসা থেকে শেখ শোয়েব সাজ্জাদের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। বাসাটি তার শ্বশুরের। গত ১৬ মার্চ তিনি ঢাকায় আসেন। ঢাকায় এসে তিনি স্ত্রী সাবরিনা শারমিনকে (৩০) নিয়ে ওই বাড়ির তৃতীয় তলার একটি ফ্ল্যাটে বসবাস শুরু করেন।

মামলার বাদী ও সাজ্জাদের বড়ভাই শেখ সোহেল সায়াদ আহমেদ শনিবার গণমাধ্যমেকে বলেন, আত্মহত্যা প্ররোচনার অভিযোগ এনে ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলা করেছি।

তিনি বলেন, সাজ্জাদের সঙ্গে ২০১৭ সালে সাবরিনার বিয়ে হয়। তারা দুজনই আমেরিকাতে ছিলেন। ২০১৮ সালের দিকে সাবরিনা ঢাকায় চলে আসেন। ঢাকায় এসে তিনি পুরান ঢাকার ওয়ারীর ১৯১নং বাসার পঞ্চম তলার একটি ফ্ল্যাটে থাকা শুরু করেন। এই বাসাটি সাজ্জাদের পরিবারের। এই বাসায় থাকাকালীন পাশের বাসার কাজী ফাহাদ নামের এক তরুণের সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান সাবরিনা। ফাহাদ নিয়মিত বাসায় আসতেন। যা পরিবারের অন্য সদস্যদের কাছে ধরা পড়ে।

মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে, সাবরিনার বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক নিয়ে সাজ্জাদের সঙ্গে ফোনে প্রায়ই ঝগড়া হতো। পারিবারিকভাবে ফাহাদকেও সতর্ক করা হয়। তারপরও তারা অনৈতিক সম্পর্ক অব্যাহত রাখে। বিভিন্ন অজুহাতে ফাহাদ সাবরিনার ফ্ল্যাটে আসত। আমেরিকাতে বসে এসব খবর শুনে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন সাজ্জাদ। প্রতিবেশী তরুণের সঙ্গে স্ত্রীর অনৈতিক সম্পর্কের কথা মহল্লায় ছড়িয়ে পড়লে তিনি সামাজিকভাবেও হেয় হন।

মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়, গত ১৬ মার্চ দেশে আসেন সাজ্জাদ। দেশে এসেই সাজ্জাদ তার স্ত্রী সাবরিনাকে নিয়ে শ্বশুর শাখাওয়াত হোসেনের বনানীর ডিওএইচএস’র বাসায় বসবাস শুরু করেন। এ সময় সাজ্জাদের মোবাইল ফোন ও পাসপোর্ট সরিয়ে নিজের কাছে নিয়ে রাখেন সাবরিনা। সাজ্জাদকে মানসিকভাবে চাপে রাখেন। মোবাইল ও পাসপোর্ট ফেরত না দিয়ে সাবরিনা গত ১৫ এপ্রিল বাসা থেকে না বলে চলে যান। এ সময় তিনি ফাহাদের সঙ্গে ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সাবরিনাকে সাজ্জাদের মোবাইল ও পাসপোর্ট ফেরত দেওয়ার জন্য তার বাবাও মোবাইল ফোনে অনুরোধ করেন। তবে কিছুই ফেরত দেওয়া হয়নি।মানসিকভাবে এভাবে চাপে রাখায় সাজ্জাদ আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছেন বলেও মামলায় উল্লে­খ করা হয়েছে।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে সাজ্জাদের বড়ভাই শেখ সোহেল সায়াদ আহমেদকে তার (সাজ্জাদ) শ্বশুর সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ৩০ এপ্রিল বাসায় দুজন গৃহপরিচারিকা ও একজন গৃহপরিচারক ছিলেন। গাড়িচালক নিচে ছিলেন। ইফতারের দশ মিনিট আগে গৃহপরিচারিকা সাজ্জাদকে ইফতারের জন্য ডাকতে থাকেন। তবে কোনো সাড়া-শব্দ পাওয়া যাচ্ছিল না। এরপর ওই কক্ষের ডুপলিকেট চাবি দিয়ে দরজা খুলে সাজ্জাদকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। তখন তিনি সাজ্জাদের পরিবার ও পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ এসে নিহতের লাশ নামিয়ে সুরতহাল করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠান।

সাবরিনা ও সাজ্জাদ দুজনেরই এটি দ্বিতীয় বিয়ে। প্রথম বিবাহবিচ্ছেদের পর দুজনই দুজনকে পছন্দ করে বিয়ে করেন। দশ বছর ধরে সাজ্জাদ আমেরিকাতে রয়েছেন। সাবরিনা শিক্ষার্থী ভিসায় আমেরিকাতে গেলেও তিনি ২০১৮ সালের মে মাসে ঢাকায় আসেন। এরপর আর আমেরিকাতে যাননি। তার আগের সংসারের এক কন্যা সন্তান রয়েছে।

সাজ্জাদের বড়ভাই শেখ সোহেল সায়াদ আহমেদ বলেন, কাজী ফাহাদের বাড়ি কুমিল্লাতে। সে আগে কলাবাগান থাকত। সাবরিনার খালাতো ভাইয়ের পরিচয়ে আমাদের বাসায় আসত, আমরা তাই মনে করতাম। আবার সাবরিনা তার বাবার বাসায় যখন ফাহাদকে নিয়ে যেত তখন বলত, ফাহাদ আমাদের খালাতো ভাই। এভাবে দুই বাসায় ফাহাদকে নিয়ে যেত।

তিনি বলেন, একসময় দেখলাম ফাহাদ কলাবাগান থেকে শিফট হয়ে আমাদের পাশের বাসায় বাসা ভাড়া নেয়। তখন তার বাসায় আসা বেড়ে যায়। আমাদের বাড়ির পঞ্চম তলার ফ্ল্যাটে সাবরিনা তার আগের সংসারের মেয়ে নিয়ে একা থাকত। তার ছেলে বন্ধু-বান্ধব আসায় মুরব্বিরা বিরক্ত হতো। বিষয়টি সবার চোখে লাগত।

সাবরিনার স্বজনরা জানিয়েছেন, সাবরিনার অভিযোগ ছিল শোয়েব তাকে সময় দিত না, বন্ধু-বান্ধবকে বেশি সময় দিত। এ নিয়েও তাদের মধ্যে ঝগড়া হতো।

পুলিশের গুলশান বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার ইফতেখায়রুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, আমরা আসামি কাজী ফাহাদকে গ্রেফতার করেছি। তবে এখনো এক নম্বর আসামি সাবরিনা পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। শোয়েব আত্মহত্যা করেছেন, নাকি তাকে হত্যা করা হয়েছে- ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পরই নিশ্চিত করে বলা যাবে।

সাজ্জাদের পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, সাজ্জাদকে যে সাবরিনা অত্যাচার করতেন তার প্রমাণ বেশ কয়েকটি কথোপকথনের স্ক্রিন শর্ট রয়েছে। কথোপকথন অনুযায়ী, সাবরিনা সবসময় টাকা দাবি করছেন সাজ্জাদের কাছে। এমনকি কেমনে টাকা আদায় করতে হয়- তা জানা আছে বলে হুমকি দেন সাজ্জাদকে। ‘ঢাকায় তোর ফ্ল্যাট দখল করে নেব, কে বাঁচাতে আসে তাই দেখব। জাস্ট ওয়েট অ্যান্ড ওয়াচ’ বলে হুমকি দেন সাবরিনা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সাজ্জাদের মৃত্যুর পর থানা পুলিশ মামলা নিতে গড়িমসি করে। একপর্যায়ে ১ মে মামলা হলেও তদন্তের তেমন কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি চোখে পড়েনি। গত ৫ মে মার্কিন দূতাবাসে পুরো বিষয়টি জানানো হয়। পরে আসামি কাজী ফাহাদকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

শ্বশুরবাড়িতে মার্কিন নাগরিকের লাশ, স্ত্রীর ‘পরকীয়া প্রেমিক’ গ্রেফতার

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
০৭ মে ২০২২, ০৯:১৩ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
শ্বশুরবাড়িতে মার্কিন নাগরিকের লাশ, স্ত্রীর ‘পরকীয়া প্রেমিক’ গ্রেফতার
স্ত্রী সাবরিনার সঙ্গে সাজ্জাদ। ফাইল ছবি

রাজধানীর বনানীতে শ্বশুরবাড়ি থেকে এক মার্কিন নাগরিকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তার নাম শেখ শোয়েব সাজ্জাদ (৪৪)। জনপ্রিয় অনলাইন মার্কেটপ্লেস অ্যামাজনে চাকরি করতেন তিনি। সাজ্জাদের লাশ উদ্ধারের ঘটনায় স্ত্রী সাবরিনা শারমিন ও শারমিনের ‘পরকীয়া প্রেমিক’ কাজী ফাহাদের বিরুদ্ধে ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলা হয়েছে। সাজ্জাদের পরিবারের পক্ষ থেকে পুরো ঘটনাটি ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসকে অবগত করা হয়েছে। 

শারমিনের বন্ধুকে শুক্রবার গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শনিবার তাকে আদালতে হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন জানায় পুলিশ। রিমান্ড আবেদনের শুনানি শেষে আদালত একদিনের জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছেন। 

এদিকে সাজ্জাদের স্ত্রী শারমীন এখনো পলাতক। গত ৩০ এপ্রিল বিকালে রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানার বনানী ডিওএইচএস’র মসজিদ গলির ১০৫ নম্বর বাসা থেকে শেখ শোয়েব সাজ্জাদের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। বাসাটি তার শ্বশুরের। গত ১৬ মার্চ তিনি ঢাকায় আসেন। ঢাকায় এসে তিনি স্ত্রী সাবরিনা শারমিনকে (৩০) নিয়ে ওই বাড়ির তৃতীয় তলার একটি ফ্ল্যাটে বসবাস শুরু করেন।

মামলার বাদী ও সাজ্জাদের বড়ভাই শেখ সোহেল সায়াদ আহমেদ শনিবার গণমাধ্যমেকে বলেন, আত্মহত্যা প্ররোচনার অভিযোগ এনে ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলা করেছি। 

তিনি বলেন, সাজ্জাদের সঙ্গে ২০১৭ সালে সাবরিনার বিয়ে হয়। তারা দুজনই আমেরিকাতে ছিলেন। ২০১৮ সালের দিকে সাবরিনা ঢাকায় চলে আসেন। ঢাকায় এসে তিনি পুরান ঢাকার ওয়ারীর ১৯১নং বাসার পঞ্চম তলার একটি ফ্ল্যাটে থাকা শুরু করেন। এই বাসাটি সাজ্জাদের পরিবারের। এই বাসায় থাকাকালীন পাশের বাসার কাজী ফাহাদ নামের এক তরুণের সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান সাবরিনা। ফাহাদ নিয়মিত বাসায় আসতেন। যা পরিবারের অন্য সদস্যদের কাছে ধরা পড়ে।

মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে, সাবরিনার বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক নিয়ে সাজ্জাদের সঙ্গে ফোনে প্রায়ই ঝগড়া হতো। পারিবারিকভাবে ফাহাদকেও সতর্ক করা হয়। তারপরও তারা অনৈতিক সম্পর্ক অব্যাহত রাখে। বিভিন্ন অজুহাতে ফাহাদ সাবরিনার ফ্ল্যাটে আসত। আমেরিকাতে বসে এসব খবর শুনে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন সাজ্জাদ। প্রতিবেশী তরুণের সঙ্গে স্ত্রীর অনৈতিক সম্পর্কের কথা মহল্লায় ছড়িয়ে পড়লে তিনি সামাজিকভাবেও হেয় হন।

মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়, গত ১৬ মার্চ দেশে আসেন সাজ্জাদ। দেশে এসেই সাজ্জাদ তার স্ত্রী সাবরিনাকে নিয়ে শ্বশুর শাখাওয়াত হোসেনের বনানীর ডিওএইচএস’র বাসায় বসবাস শুরু করেন। এ সময় সাজ্জাদের মোবাইল ফোন ও পাসপোর্ট সরিয়ে নিজের কাছে নিয়ে রাখেন সাবরিনা। সাজ্জাদকে মানসিকভাবে চাপে রাখেন। মোবাইল ও পাসপোর্ট ফেরত না দিয়ে সাবরিনা গত ১৫ এপ্রিল বাসা থেকে না বলে চলে যান। এ সময় তিনি ফাহাদের সঙ্গে ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সাবরিনাকে সাজ্জাদের মোবাইল ও পাসপোর্ট ফেরত দেওয়ার জন্য তার বাবাও মোবাইল ফোনে অনুরোধ করেন। তবে কিছুই ফেরত দেওয়া হয়নি।মানসিকভাবে এভাবে চাপে রাখায় সাজ্জাদ আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছেন বলেও মামলায় উল্লে­খ করা হয়েছে।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে সাজ্জাদের বড়ভাই শেখ সোহেল সায়াদ আহমেদকে তার (সাজ্জাদ) শ্বশুর সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ৩০ এপ্রিল বাসায় দুজন গৃহপরিচারিকা ও একজন গৃহপরিচারক ছিলেন। গাড়িচালক নিচে ছিলেন। ইফতারের দশ মিনিট আগে গৃহপরিচারিকা সাজ্জাদকে ইফতারের জন্য ডাকতে থাকেন। তবে কোনো সাড়া-শব্দ পাওয়া যাচ্ছিল না। এরপর ওই কক্ষের ডুপলিকেট চাবি দিয়ে দরজা খুলে সাজ্জাদকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। তখন তিনি সাজ্জাদের পরিবার ও পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ এসে নিহতের লাশ নামিয়ে সুরতহাল করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠান।

সাবরিনা ও সাজ্জাদ দুজনেরই এটি দ্বিতীয় বিয়ে। প্রথম বিবাহবিচ্ছেদের পর দুজনই দুজনকে পছন্দ করে বিয়ে করেন। দশ বছর ধরে সাজ্জাদ আমেরিকাতে রয়েছেন। সাবরিনা শিক্ষার্থী ভিসায় আমেরিকাতে গেলেও তিনি ২০১৮ সালের মে মাসে ঢাকায় আসেন। এরপর আর আমেরিকাতে যাননি। তার আগের সংসারের এক কন্যা সন্তান রয়েছে। 

সাজ্জাদের বড়ভাই শেখ সোহেল সায়াদ আহমেদ বলেন, কাজী ফাহাদের বাড়ি কুমিল্লাতে। সে আগে কলাবাগান থাকত। সাবরিনার খালাতো ভাইয়ের পরিচয়ে আমাদের বাসায় আসত, আমরা তাই মনে করতাম। আবার সাবরিনা তার বাবার বাসায় যখন ফাহাদকে নিয়ে যেত তখন বলত, ফাহাদ আমাদের খালাতো ভাই। এভাবে দুই বাসায় ফাহাদকে নিয়ে যেত।

তিনি বলেন, একসময় দেখলাম ফাহাদ কলাবাগান থেকে শিফট হয়ে আমাদের পাশের বাসায় বাসা ভাড়া নেয়। তখন তার বাসায় আসা বেড়ে যায়। আমাদের বাড়ির পঞ্চম তলার ফ্ল্যাটে সাবরিনা তার আগের সংসারের মেয়ে নিয়ে একা থাকত। তার ছেলে বন্ধু-বান্ধব আসায় মুরব্বিরা বিরক্ত হতো। বিষয়টি সবার চোখে লাগত।

সাবরিনার স্বজনরা জানিয়েছেন, সাবরিনার অভিযোগ ছিল শোয়েব তাকে সময় দিত না, বন্ধু-বান্ধবকে বেশি সময় দিত। এ নিয়েও তাদের মধ্যে ঝগড়া হতো।

পুলিশের গুলশান বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার ইফতেখায়রুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, আমরা আসামি কাজী ফাহাদকে গ্রেফতার করেছি। তবে এখনো এক নম্বর আসামি সাবরিনা পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। শোয়েব আত্মহত্যা করেছেন, নাকি তাকে হত্যা করা হয়েছে- ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পরই নিশ্চিত করে বলা যাবে।

সাজ্জাদের পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, সাজ্জাদকে যে সাবরিনা অত্যাচার করতেন তার প্রমাণ বেশ কয়েকটি কথোপকথনের স্ক্রিন শর্ট রয়েছে। কথোপকথন অনুযায়ী, সাবরিনা সবসময় টাকা দাবি করছেন সাজ্জাদের কাছে। এমনকি কেমনে টাকা আদায় করতে হয়- তা জানা আছে বলে হুমকি দেন সাজ্জাদকে। ‘ঢাকায় তোর ফ্ল্যাট দখল করে নেব, কে বাঁচাতে আসে তাই দেখব। জাস্ট ওয়েট অ্যান্ড ওয়াচ’ বলে হুমকি দেন সাবরিনা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সাজ্জাদের মৃত্যুর পর থানা পুলিশ মামলা নিতে গড়িমসি করে। একপর্যায়ে ১ মে মামলা হলেও তদন্তের তেমন কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি চোখে পড়েনি। গত ৫ মে মার্কিন দূতাবাসে পুরো বিষয়টি জানানো হয়। পরে আসামি কাজী ফাহাদকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন