পরকীয়ার জেরে স্ত্রী-সন্তানকে হত্যার পর বাউল বেশে একযুগ আত্মগোপনে...
jugantor
পরকীয়ার জেরে স্ত্রী-সন্তানকে হত্যার পর বাউল বেশে একযুগ আত্মগোপনে...

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

০৫ আগস্ট ২০২২, ২১:৩৫:৩১  |  অনলাইন সংস্করণ

ভাবির সঙ্গে পরকীয়ার জেরে স্ত্রী ও কন্যাসন্তানকে হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি জাকির হোসেনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। বৃহস্পতিবার রাতে সাভারের শাহীবাগ থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। সে বাউল ছদ্মবেশে ১২ বছর আত্মগোপনে ছিলেন।

শুক্রবার রাজধানীর কাওরান বাজারে মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-৪ এর অধিনায়ক মোজাম্মেল হক বলেন, ২০০০ সালের ফেব্রুয়ারিতে জাকির হোসেনের সঙ্গে বিয়ে হয় নিপা আক্তারের। বিয়ের পর তাকে যৌতুকের দাবিতে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতে থাকেন। এরই মধ্যে তাদের ঘরে এক কন্যাসন্তানের জন্ম হয়। পরে নিপা আবার অন্তঃসত্ত্বা হন। এ সময় জাকিরের সঙ্গে তার ভাবির প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

২০০৫ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি রাতে বড় ভাই বাড়িতে না থাকার সুযোগে জাকির ভাবির ঘরে গেলে তাদের আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ফেলেন নিপা। নিপা বড় ভাইকে সব বলে দেওয়ার হুমকি দিলে জাকির ক্ষুব্ধ হন। এ সময় দুজনের মধ্যে ঝগড়া হয়।

জাকিরের স্ত্রী নিপা আক্তার।এর জেরে পরদিন রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় নিপাকে গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন জাকির। এ সময় তিনি তার তিন বছর বয়সি শিশুকন্যাকেও হত্যা করেন। এ ঘটনায় নিপা আক্তারের বাবা আবু হানিফ বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় মামলা করেন।

মামলার পর জাকির গ্রেফতারও হন। তবে পাঁচ বছর কারাভোগের পর ২০১০ সালে জামিনে ছাড়া পেয়ে আত্মগোপনে চলে যান তিনি। ২০২১ সালের ১২ জানুয়ারি আদালতের রায়ে জাকিরের মৃত্যুদণ্ড হয়। এ ছাড়া হত্যাকাণ্ডে জড়িত আরও কয়েকজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, জাকির প্রথমে পালিয়ে সাভারে যান। পরে তিনি বাউলের ছদ্মবেশ ধারণ করেন। ২০১৩ সালে আবার বিয়ে করে জিনজিরায় থাকা শুরু করেন। তবে এক জায়গায় বেশিদিন থাকতেন না তিনি। গ্রেফতার এড়াতে চট্টগ্রাম, ঢাকার আরামবাগ, ফকিরাপুল, হাজারীবাগ ও খিলগাঁওয়েও ছিলেন। গ্রেফতারের আগ পর্যন্ত বাউল ছদ্মবেশেই বিভিন্ন গানের দলের সঙ্গে ঘুরে বেড়িয়েছেন।

পরকীয়ার জেরে স্ত্রী-সন্তানকে হত্যার পর বাউল বেশে একযুগ আত্মগোপনে...

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
০৫ আগস্ট ২০২২, ০৯:৩৫ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

ভাবির সঙ্গে পরকীয়ার জেরে স্ত্রী ও কন্যাসন্তানকে হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি জাকির হোসেনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। বৃহস্পতিবার রাতে সাভারের শাহীবাগ থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। সে বাউল ছদ্মবেশে ১২ বছর আত্মগোপনে ছিলেন।

শুক্রবার রাজধানীর কাওরান বাজারে মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-৪ এর অধিনায়ক মোজাম্মেল হক বলেন, ২০০০ সালের ফেব্রুয়ারিতে জাকির হোসেনের সঙ্গে বিয়ে হয় নিপা আক্তারের। বিয়ের পর তাকে যৌতুকের দাবিতে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতে থাকেন। এরই মধ্যে তাদের ঘরে এক কন্যাসন্তানের জন্ম হয়। পরে নিপা আবার অন্তঃসত্ত্বা হন। এ সময় জাকিরের সঙ্গে তার ভাবির প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। 

২০০৫ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি রাতে বড় ভাই বাড়িতে না থাকার সুযোগে জাকির ভাবির ঘরে গেলে তাদের আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ফেলেন নিপা। নিপা বড় ভাইকে সব বলে দেওয়ার হুমকি দিলে জাকির ক্ষুব্ধ হন। এ সময় দুজনের মধ্যে ঝগড়া হয়। 

জাকিরের স্ত্রী নিপা আক্তার।এর জেরে পরদিন রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় নিপাকে গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন জাকির। এ সময় তিনি তার তিন বছর বয়সি শিশুকন্যাকেও হত্যা করেন। এ ঘটনায় নিপা আক্তারের বাবা আবু হানিফ বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় মামলা করেন। 

মামলার পর জাকির গ্রেফতারও হন। তবে পাঁচ বছর কারাভোগের পর ২০১০ সালে জামিনে ছাড়া পেয়ে আত্মগোপনে চলে যান তিনি। ২০২১ সালের ১২ জানুয়ারি আদালতের রায়ে জাকিরের মৃত্যুদণ্ড হয়। এ ছাড়া হত্যাকাণ্ডে জড়িত আরও কয়েকজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়। 

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, জাকির প্রথমে পালিয়ে সাভারে যান। পরে তিনি বাউলের ছদ্মবেশ ধারণ করেন। ২০১৩ সালে আবার বিয়ে করে জিনজিরায় থাকা শুরু করেন। তবে এক জায়গায় বেশিদিন থাকতেন না তিনি। গ্রেফতার এড়াতে চট্টগ্রাম, ঢাকার আরামবাগ, ফকিরাপুল, হাজারীবাগ ও খিলগাঁওয়েও ছিলেন। গ্রেফতারের আগ পর্যন্ত বাউল ছদ্মবেশেই বিভিন্ন গানের দলের সঙ্গে ঘুরে বেড়িয়েছেন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও খবর