ছাত্রলীগ নেতাকে হত্যা: ছদ্মবেশে মাদক ব্যবসা করতেন ঘাতক তারেক
jugantor
ছাত্রলীগ নেতাকে হত্যা: ছদ্মবেশে মাদক ব্যবসা করতেন ঘাতক তারেক

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

২৩ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৮:৩৬:২৩  |  অনলাইন সংস্করণ

ছাত্রলীগ নেতাকে হত্যা: ছদ্মবেশে মাদক ব্যবসা করতেন ঘাতক তারেক

রাজধানীর রমনা থানার মগবাজার এলাকার বাটার গলির মুখে ২০১৪ সালে থানা ছাত্রলীগের তৎকালীন সহ-সভাপতি মাহবুবুর রহমান রানাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এরপর ঘাতক ইকবাল হোসেন তারেক (৩৮) গ্রেফতার এড়াতে যশোর, চাঁদপুর ও ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় নাম-পরিচয় বদলে আত্মগোপনে ছিলেন। এই সময় পরিবহণ শ্রমিক ও গার্মেন্টসের পরিত্যক্ত কার্টুন ব্যবসার আড়ালে মাদক ব্যবসা করে আসছিলেন তারেক।

অবশেষে দীর্ঘ ৮ বছর আত্মগোপনে থাকার পর বৃহস্পতিবার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থেকে র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার হন ইকবাল হোসেন তারেক। শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ানবাজারে সংস্থাটির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান র‌্যাব-৩ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আরিফ মহিউদ্দিন আহমেদ।

তিনি জানান, তারেক পরোয়ানাভুক্ত আসামি। তাকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে আরিফ মহিউদ্দিন আহমেদ জানান, রমনার সুইফ ক্যাবল লিমিটেড নামের ডিশ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন তারেক। সেই প্রতিষ্ঠানের মালিক ছিলেন কামরুল ইসলাম ও তানভিরুজ্জামান রনি। তাদের সঙ্গে নিহত মাহবুবুর রহমান রানার ব্যবসায়িক বিরোধ ছিল। এই বিরোধ নিয়ে এক পক্ষ আরেক পক্ষের ডিশের ক্যাবল কেটে দিত। উভয়পক্ষের মধ্যে প্রায়ই মারামারি হতো।

‘এ ঘটনার জের ধরে ২০১৪ সালের ২৩ জানুয়ারি সন্ধ্যায় মাহবুবুর রহমান রানা মোটরসাইকেলে করে মগবাজার বাটার গলির মুখে আসার সঙ্গে সঙ্গে গতিরোধ করে রানার মুখে ও মাথায় এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকেন তারেক ও তার সঙ্গে থাকা ঘাতকেরা। এ সময় স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে তারা বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে এবং গুলি ছুড়ে পালিয়ে যান।’

আরিফ মহিউদ্দিন আহমেদ জানান, স্থানীয়রা রানাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দুটি তাজা বোমা ও রক্তমাখা চাপাতি উদ্ধার করে। এ ঘটনায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে রমনা থানায় হত্যা ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলা হয়। এ ঘটনায় সুইফ ক্যাবলের মালিক কামরুল ইসলাম অস্ত্রসহ গ্রেফতার হন। মামলার তদন্ত শেষে তদন্তকারী কর্মকর্তা ১৪ জনের বিরুদ্ধে ২০১৫ সালের জুন মাসে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। অভিযুক্ত ১৪ জনের মধ্যে ১০ জন গ্রেফতার ও চারজন পলাতক ছিলেন। পলাতক আসামিদের মধ্যে গ্রেফতারকৃত ইকবাল হোসেন তারেক (৩৮) একজন।

র‌্যাব কর্মকর্তা জানান, হত্যাকাণ্ডের পর চাঁদপুরে গিয়ে কৃষিকাজ শুরু করেন তারেক। এতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ না করায় যশোরে গিয়ে মাদক ব্যবসা শুরু করেন। তারপর ২০১৯ সালে ঢাকায় এসে বিভিন্ন গার্মেন্টস থেকে পরিত্যক্ত কার্টুন সংগ্রহ করে বিক্রির আড়ালে মাদক ব্যবসা শুরু করেন। তিনি একাধিকবার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হন। কিন্তু কিন্তু গ্রেফতারের সময় নিজেকে তাহের, বাবা আব্দুর রহিম হিসেবে পরিচয় দেন। ফলে একাধিকবার গ্রেফতার হলেও হত্যা মামলায় গ্রেফতার থেকে পার পেয়ে যেতেন।

আরিফ মহিউদ্দিন জানান, তারেক ঘন ঘন বাসস্থান পরিবর্তন করতেন। সর্বশেষ দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ এলাকায় মাদক ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে তার প্রকৃত পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর র‌্যাবের গোয়েন্দা দলের জালে তিনি ধরা পড়েন। তার নামে হত্যা ও মাদকসহ চারটি মামলা রয়েছে। তাকে হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

তিনি জানান, ২০০৯ সালে যশোরের একটি স্কুল থেকে এসএসসি পাশ করে ঢাকায় আসেন তারেক। স্কুলজীবন থেকে মাদকে আসক্ত ছিলেন তিনি। বাড়ি চাঁদপুর জেলায়। ২০০৭ সালে বিয়ে করেন। তার একটি ছেলে রয়েছে। ২০১১ সাল থেকে হত্যার আগ পর্যন্ত তিনি তৎকালীন সুইফ ক্যাবলে চাকরি করতেন। এই প্রতিষ্ঠানে চাকরির সময় তিনি গাঁজা ছেড়ে ইয়াবায় আসক্ত হয়ে পড়েন। চাকরির পাশাপাশি মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন। ২০১১ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর তিনি মাদকসহ রমনা থানার পুলিশের হাতে গ্রেফতার হন।

তারেকের বাবার নাম মুলত নুরুল ইসলাম। তাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কর্তৃক ধরিয়ে দেওয়ায় রানা গ্রুপের লোকজনের প্রতি ক্ষোভ তৈরি হয়। এই ক্ষোভ এবং ডিশ মালিকের নির্দেশে রানার হত্যাকাণ্ডে তিনি অংশগ্রহণ করেছিলেন বলে জানান র‌্যাব কর্মকর্তা।

ছাত্রলীগ নেতাকে হত্যা: ছদ্মবেশে মাদক ব্যবসা করতেন ঘাতক তারেক

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
২৩ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৬:৩৬ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
ছাত্রলীগ নেতাকে হত্যা: ছদ্মবেশে মাদক ব্যবসা করতেন ঘাতক তারেক
ফাইল ছবি

রাজধানীর রমনা থানার মগবাজার এলাকার বাটার গলির মুখে ২০১৪ সালে থানা ছাত্রলীগের তৎকালীন সহ-সভাপতি মাহবুবুর রহমান রানাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এরপর ঘাতক ইকবাল হোসেন তারেক (৩৮) গ্রেফতার এড়াতে যশোর, চাঁদপুর ও ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় নাম-পরিচয় বদলে আত্মগোপনে ছিলেন। এই সময় পরিবহণ শ্রমিক ও গার্মেন্টসের পরিত্যক্ত কার্টুন ব্যবসার আড়ালে মাদক ব্যবসা করে আসছিলেন তারেক। 

অবশেষে দীর্ঘ ৮ বছর আত্মগোপনে থাকার পর বৃহস্পতিবার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থেকে র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার হন ইকবাল হোসেন তারেক। শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ানবাজারে সংস্থাটির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান র‌্যাব-৩ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আরিফ মহিউদ্দিন আহমেদ। 

তিনি জানান, তারেক পরোয়ানাভুক্ত আসামি। তাকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে আরিফ মহিউদ্দিন আহমেদ জানান, রমনার সুইফ ক্যাবল লিমিটেড নামের ডিশ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন তারেক। সেই প্রতিষ্ঠানের মালিক ছিলেন কামরুল ইসলাম ও তানভিরুজ্জামান রনি। তাদের সঙ্গে নিহত মাহবুবুর রহমান রানার ব্যবসায়িক বিরোধ ছিল। এই বিরোধ নিয়ে এক পক্ষ আরেক পক্ষের ডিশের ক্যাবল কেটে দিত। উভয়পক্ষের মধ্যে প্রায়ই মারামারি হতো। 

‘এ ঘটনার জের ধরে ২০১৪ সালের ২৩ জানুয়ারি সন্ধ্যায় মাহবুবুর রহমান রানা মোটরসাইকেলে করে মগবাজার বাটার গলির মুখে আসার সঙ্গে সঙ্গে গতিরোধ করে রানার মুখে ও মাথায় এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকেন তারেক ও তার সঙ্গে থাকা ঘাতকেরা। এ সময় স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে তারা বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে এবং গুলি ছুড়ে পালিয়ে যান।’

আরিফ মহিউদ্দিন আহমেদ জানান, স্থানীয়রা রানাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দুটি তাজা বোমা ও রক্তমাখা চাপাতি উদ্ধার করে। এ ঘটনায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে রমনা থানায় হত্যা ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলা হয়। এ ঘটনায় সুইফ ক্যাবলের মালিক কামরুল ইসলাম অস্ত্রসহ গ্রেফতার হন। মামলার তদন্ত শেষে তদন্তকারী কর্মকর্তা ১৪ জনের বিরুদ্ধে ২০১৫ সালের জুন মাসে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। অভিযুক্ত ১৪ জনের মধ্যে ১০ জন গ্রেফতার ও চারজন পলাতক ছিলেন। পলাতক আসামিদের মধ্যে গ্রেফতারকৃত ইকবাল হোসেন তারেক (৩৮) একজন। 

র‌্যাব কর্মকর্তা জানান, হত্যাকাণ্ডের পর চাঁদপুরে গিয়ে কৃষিকাজ শুরু করেন তারেক। এতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ না করায় যশোরে গিয়ে মাদক ব্যবসা শুরু করেন। তারপর ২০১৯ সালে ঢাকায় এসে বিভিন্ন গার্মেন্টস থেকে পরিত্যক্ত কার্টুন সংগ্রহ করে বিক্রির আড়ালে মাদক ব্যবসা শুরু করেন। তিনি একাধিকবার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হন। কিন্তু কিন্তু গ্রেফতারের সময় নিজেকে তাহের, বাবা আব্দুর রহিম হিসেবে পরিচয় দেন। ফলে একাধিকবার গ্রেফতার হলেও হত্যা মামলায় গ্রেফতার থেকে পার পেয়ে যেতেন। 

আরিফ মহিউদ্দিন জানান, তারেক ঘন ঘন বাসস্থান পরিবর্তন করতেন। সর্বশেষ দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ এলাকায় মাদক ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে তার প্রকৃত পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর র‌্যাবের গোয়েন্দা দলের জালে তিনি ধরা পড়েন। তার নামে হত্যা ও মাদকসহ চারটি মামলা রয়েছে। তাকে হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।  

তিনি জানান, ২০০৯ সালে যশোরের একটি স্কুল থেকে এসএসসি পাশ করে ঢাকায় আসেন তারেক। স্কুলজীবন থেকে মাদকে আসক্ত ছিলেন তিনি। বাড়ি চাঁদপুর জেলায়। ২০০৭ সালে বিয়ে করেন। তার একটি ছেলে রয়েছে। ২০১১ সাল থেকে হত্যার আগ পর্যন্ত তিনি তৎকালীন সুইফ ক্যাবলে চাকরি করতেন। এই প্রতিষ্ঠানে চাকরির সময় তিনি গাঁজা ছেড়ে ইয়াবায় আসক্ত হয়ে পড়েন। চাকরির পাশাপাশি মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন। ২০১১ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর তিনি মাদকসহ রমনা থানার পুলিশের হাতে গ্রেফতার হন। 

তারেকের বাবার নাম মুলত নুরুল ইসলাম। তাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কর্তৃক ধরিয়ে দেওয়ায় রানা গ্রুপের লোকজনের প্রতি ক্ষোভ তৈরি হয়। এই ক্ষোভ এবং ডিশ মালিকের নির্দেশে রানার হত্যাকাণ্ডে তিনি অংশগ্রহণ করেছিলেন বলে জানান র‌্যাব কর্মকর্তা।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও খবর