পেঁয়াজ রফতানি বন্ধের ১ মাস আগে জানান
jugantor
ভারতীয় হাইকমিশনারকে বাণিজ্যমন্ত্রী
পেঁয়াজ রফতানি বন্ধের ১ মাস আগে জানান

  যুগান্তর রিপোর্ট  

২২ অক্টোবর ২০২০, ২১:২৪:১৪  |  অনলাইন সংস্করণ

পেঁয়াজ রফতানি বন্ধের অন্তত ১ মাস আগে বাংলাদেশকে নোটিশ দিতে ভারতকে অনুরোধ জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। বৃহস্পতিবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার বিক্রম কুমার দোরাইস্বামীর সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে মন্ত্রী সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

আলোচনার বিষয়ে জানতে চাইলে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, পেঁয়াজ নিয়ে তেমন কোনো কথা হয়নি। আমাদের ও ভারতের একই সময়ে পেঁয়াজ উৎপাদন হয়। প্রতি বছর আমাদের ঘাটতি থাকে ৮ থেকে ৯ লাখ টন। ভারত গত বছর পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দিয়েছিল, এবারও বন্ধ করেছে। গত বছর আমাদের এখানে পেঁয়াজের দাম ২৫০ টাকা তখন ভারতে ১৫০ রুপি। যেটা ভারতের জন্য বিরল ঘটনা। এতে করে আমাদের শিক্ষা হয়েছে যে, ভারত যে কোনো সময় পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দিতে পারে। আমরা এটা শিখেছি যে আমাদের স্বনির্ভর হতে হবে। নিত্যপণ্যের জন্য ভারত বা কোনো দেশের ওপরে যাতে নির্ভরশীল হতে না হয়; সে চেষ্টা চালাতে হবে।

টিপু মুনশি বলেন, আমাদের একটাই উদ্দেশ্য, আগামী ৩ বছরের মধ্যে যেন পেঁয়াজে স্বয়ংসম্পূর্ণ হই। ভারত তাদের লোককে না খাইয়ে আমাদের দেবে না। তারপরও ভারতের কাছে আমাদের যেটা দাবি, রফতানি বন্ধের নোটিশ যদি আমরা ১ মাস আগে পাই, তাহলে আমরা অন্যান্য দেশ থেকে আমদানি করার সুযোগটা পাই। হঠাৎ বন্ধ করে দেয়াটা সমস্যা তৈরি করে। তাই আমি রাষ্ট্রদূতের কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি, রফতানি বন্ধের ১ মাস আগে যেন আমাদের নোটিশ দেয়া হয়।

পেঁয়াজের দামবৃদ্ধি নিয়ে মন্ত্রী বলেন, আমাদের বছরে ৮ থেকে ৯ লাখ টন ঘাটতি থাকে। সেটা সেপ্টেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আসে। ভারতের পেঁয়াজের বড় অংশ এ সময় আসে। ভারত রফতানি বন্ধ করেছে, তাই আমাদের মিসর, তুরস্ক, ইরান, চীন, মিয়ানমার থেকে আমদানি করতে হচ্ছে। এতে করে আমদানি খরচ পড়ে ৪৫ টাকা কেজি। এরপর ৫ থেকে ৬ টাকা ভ্যাট রয়েছে। ফলে পাইকারিতে ৫০ টাকা পড়ে। তাই ৬০ থেকে ৬৫ টাকার নিচে আমদানি করা পেঁয়াজ বাজারজাত করা যায় না। আমরা চেষ্টা করছি ৬০ টাকার নিচে রাখতে, যাতে ন্যূনতম লাভ করা যায়। আমদানি করা পেঁয়াজ কোনো অবস্থাতে ৫৫ টাকার নিচে খরচ ফেলা যাবে না। এর ওপরেই আমাদের বাঁচতে হবে আগামী বছর পর্যন্ত।

এক প্রশ্নের উত্তরে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এতে মানুষের কষ্ট হচ্ছে, এটা খারাপ দিক। তবে ভালো দিক হল, আমাদের কৃষকরা কিন্তু টাকা পাচ্ছে। তারা ৩০ থেকে ৩৫ টাকা পাচ্ছে, এতে সামনে আরও বেশি করে উৎপাদন করতে উৎসাহী হবে। এভাবেই আগামী ৩ বছরের মধ্যে পেঁয়াজে স্বনির্ভরতা অর্জন করতে পারব আমরা। আমরা গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ কিভাবে উৎপাদন করা যায়, সেটা নিয়ে কাজ করছে কৃষি মন্ত্রণালয়। আশা করছি বছরের মাঝামাঝি যদি আমরা নতুন এ পেঁয়াজটা আনতে পারি, তাহলে আমাদের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে তেমন কোনো সমস্যা হবে না।

ভারতে কিছু মিডিয়ায় বাংলাদেশকে ‘তিরস্কার’ করে সংবাদ প্রকাশ হয়েছে, সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, কোনো মিডিয়া কী করল কী বলল তাতে আমাদের কিছু যায় আসে না। আমাদের দেশে যত পজিটিভ নিউজ হয় তার থেকে বেশি হয় নেগেটিভ নিউজ। ভারতের সঙ্গে আমাদের বাজার খোলা আছে। আরও কিছু সুযোগ রয়েছে, সে বিষয়ে আলোচনা হল। ঝগড়াঝাটি করে এগিয়ে যাওয়া যাবে না। বন্ধুত্বপূর্ণ মনোভাব নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।

ভারতীয় হাইকমিশনারকে বাণিজ্যমন্ত্রী

পেঁয়াজ রফতানি বন্ধের ১ মাস আগে জানান

 যুগান্তর রিপোর্ট 
২২ অক্টোবর ২০২০, ০৯:২৪ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

পেঁয়াজ রফতানি বন্ধের অন্তত ১ মাস আগে বাংলাদেশকে নোটিশ দিতে ভারতকে অনুরোধ জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। বৃহস্পতিবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার বিক্রম কুমার দোরাইস্বামীর সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে মন্ত্রী সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

আলোচনার বিষয়ে জানতে চাইলে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, পেঁয়াজ নিয়ে তেমন কোনো কথা হয়নি। আমাদের ও ভারতের একই সময়ে পেঁয়াজ উৎপাদন হয়। প্রতি বছর আমাদের ঘাটতি থাকে ৮ থেকে ৯ লাখ টন। ভারত গত বছর পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দিয়েছিল, এবারও বন্ধ করেছে। গত বছর আমাদের এখানে পেঁয়াজের দাম ২৫০ টাকা তখন ভারতে ১৫০ রুপি। যেটা ভারতের জন্য বিরল ঘটনা। এতে করে আমাদের শিক্ষা হয়েছে যে, ভারত যে কোনো সময় পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দিতে পারে। আমরা এটা শিখেছি যে আমাদের স্বনির্ভর হতে হবে। নিত্যপণ্যের জন্য ভারত বা কোনো দেশের ওপরে যাতে নির্ভরশীল হতে না হয়; সে চেষ্টা চালাতে হবে।

টিপু মুনশি বলেন, আমাদের একটাই উদ্দেশ্য, আগামী ৩ বছরের মধ্যে যেন পেঁয়াজে স্বয়ংসম্পূর্ণ হই। ভারত তাদের লোককে না খাইয়ে আমাদের দেবে না। তারপরও ভারতের কাছে আমাদের যেটা দাবি, রফতানি বন্ধের নোটিশ যদি আমরা ১ মাস আগে পাই, তাহলে আমরা অন্যান্য দেশ থেকে আমদানি করার সুযোগটা পাই। হঠাৎ বন্ধ করে দেয়াটা সমস্যা তৈরি করে। তাই আমি রাষ্ট্রদূতের কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি, রফতানি বন্ধের ১ মাস আগে যেন আমাদের নোটিশ দেয়া হয়।

পেঁয়াজের দামবৃদ্ধি নিয়ে মন্ত্রী বলেন, আমাদের বছরে ৮ থেকে ৯ লাখ টন ঘাটতি থাকে। সেটা সেপ্টেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আসে। ভারতের পেঁয়াজের বড় অংশ এ সময় আসে। ভারত রফতানি বন্ধ করেছে, তাই আমাদের মিসর, তুরস্ক, ইরান, চীন, মিয়ানমার থেকে আমদানি করতে হচ্ছে। এতে করে আমদানি খরচ পড়ে ৪৫ টাকা কেজি। এরপর ৫ থেকে ৬ টাকা ভ্যাট রয়েছে। ফলে পাইকারিতে ৫০ টাকা পড়ে। তাই ৬০ থেকে ৬৫ টাকার নিচে আমদানি করা পেঁয়াজ বাজারজাত করা যায় না। আমরা চেষ্টা করছি ৬০ টাকার নিচে রাখতে, যাতে ন্যূনতম লাভ করা যায়। আমদানি করা পেঁয়াজ কোনো অবস্থাতে ৫৫ টাকার নিচে খরচ ফেলা যাবে না। এর ওপরেই আমাদের বাঁচতে হবে আগামী বছর পর্যন্ত।

এক প্রশ্নের উত্তরে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এতে মানুষের কষ্ট হচ্ছে, এটা খারাপ দিক। তবে ভালো দিক হল, আমাদের কৃষকরা কিন্তু টাকা পাচ্ছে। তারা ৩০ থেকে ৩৫ টাকা পাচ্ছে, এতে সামনে আরও বেশি করে উৎপাদন করতে উৎসাহী হবে। এভাবেই আগামী ৩ বছরের মধ্যে পেঁয়াজে স্বনির্ভরতা অর্জন করতে পারব আমরা। আমরা গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ কিভাবে উৎপাদন করা যায়, সেটা নিয়ে কাজ করছে কৃষি মন্ত্রণালয়। আশা করছি বছরের মাঝামাঝি যদি আমরা নতুন এ পেঁয়াজটা আনতে পারি, তাহলে আমাদের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে তেমন কোনো সমস্যা হবে না।

ভারতে কিছু মিডিয়ায় বাংলাদেশকে ‘তিরস্কার’ করে সংবাদ প্রকাশ হয়েছে, সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, কোনো মিডিয়া কী করল কী বলল তাতে আমাদের কিছু যায় আসে না। আমাদের দেশে যত পজিটিভ নিউজ হয় তার থেকে বেশি হয় নেগেটিভ নিউজ। ভারতের সঙ্গে আমাদের বাজার খোলা আছে। আরও কিছু সুযোগ রয়েছে, সে বিষয়ে আলোচনা হল। ঝগড়াঝাটি করে এগিয়ে যাওয়া যাবে না। বন্ধুত্বপূর্ণ মনোভাব নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।