টিকা এখন ‘অস্ত্র’ হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে
jugantor
টিকা এখন ‘অস্ত্র’ হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

২২ জুন ২০২১, ১৯:৪৮:০২  |  অনলাইন সংস্করণ

টিকা এখন ‘অস্ত্র’ হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে

টিকা এখন ‘অস্ত্র’ হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে ইঙ্গিত দিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন বলেছেন, অনেকে বলে যে দেব (টিকা) কিন্তু কেউ দেয় না। আবার টিকা দেওয়ার সময় জিজ্ঞাসা করেন অমুক জিনিসে আপনারা আমাদের সাপোর্ট (সমর্থন) দেবেন কি না।

যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

কোভিড সম্পর্কে আমরা সব জায়গায় বলেছি, আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন- টিকা সব নাগরিকদের পাওয়া উচিত। আমাদের দেশের সব নাগরিককে ভ্যাকসিন দেওয়া হবে। এবং এটাতে কোনো বৈষম্য উচিত না। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত ধনী দেশগুলো সব কোভিডের ভ্যাকসিন নিয়ে বসে আছে, তাদের নিজেদের লোকের ব্যবহারের থেকে বেশি। আমি কয়েকটি দেশের উদাহরণ দেখিয়েছি। ওই দেশগুলো তাদের লোকসংখ্যার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি ভ্যাকসিন নিয়ে বসে আছে। এবং অনেক দেশের ভ্যাকসিনের এক্সপায়ার্ড (মেয়াদোত্তীর্ণ) হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু খালি মুখে বলে আমরা এগুলো আপনাদের দেব। এ রকম মজার মজার কথা শুনি যে, আপনারা কোনো চিন্তা করবেন না। আমরা আপনাদের এগুলো দেব। কিন্তু কেউ দেয় না। কেউ দেয় না। এটা ঠিক না। আর দেওয়ার আগে জিজ্ঞাসা করে অমুক জিনিসে আপনারা আমাদের সাপোর্ট দেবেন কি না।

কোন কোন দেশ সমর্থনের বিষয়ে জিজ্ঞাসা করে- এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাংবাদিকদের আবদুল মোমেন বলেন, আছে অনেকগুলো দেশই। তারা বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমাদের বলেন যে আমরা অমুক ইলেকশনে দাঁড়িয়েছি, আপনারা আমাদের সমর্থন দেবেন কি না। এখন দেখা যাচ্ছে, এটিকে (টিকা) একটি ‘অস্ত্র’ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

ড. মোমেন বলেন, আমরা আমাদের বক্তব্য তুলে ধরেছি। আমরা জাতিসংঘের মহাসচিবকে বলেছি আপনি এই ব্যাপারে আরও শক্ত হোন। সবার অধিকার এই ভ্যাকসিন পাওয়া। এখন দেখা যাক কি হয়।

রাশিয়ার সঙ্গে চুক্তির বিষয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এটা ফাইনাল স্টেজে আছে। তবে কখন, কত টাকায়, কী পরিমাণ কিনবে সেটি হেলথ মিনিস্ট্রি জানে। আমি সেই হিসাব-নিকাশের মধ্যে নেই।

এ সময় মন্ত্রী বলেন, একটা মজার কাহিনী বলি। আমেরিকাতে বহু ব্যক্তিবিশেষ, তারা আমাদের কাছে প্রস্তাব দেন যে অমুকে অনেক দিতে (টিকা) পারবে। সবচেয়ে মজার বিষয় হচ্ছে, আমেরিকার লোক। তারা রাশিয়ান কোম্পানির টিকার ডিলারশিপ আছে তারা। কিন্তু রাশিয়া সরকার আমাদের জানিয়েছে তাদের কোনো ডিলারই নাই। এ রকম অনেক মজার মজার কথা শুনি।

তিনি বলেন, টিকা এখন মজার জিনিস। সবাই এখন ভ্যাকসিন ব্যবসায়ী। সবাই আমাদের কাছে বিক্রি করার জন্য আসছে। ভ্যাকসিন একটা মজার জিনিস। এখন সাংবাদিক, সাহিত্যিক, গায়ক, ব্যবসায়ী সবাই এখন ভ্যাকসিন ব্যবসায়ী।

টিকা কবে নাগাদ পাওয়া যেতে পারে জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, টিকা নিয়ে সুখবর পাব কিন্তু কবে পাব সেটি এখন বলতে পারছি না। পৃথিবীর ধনী সাতটি দেশ অর্থাৎ জি-৭ ১০০ কোটি টিকা দেবে বলে আমাদের জানিয়েছে। খালি শুনছি দেবে কিন্তু দেওয়ার কথা কেউ বলছে না, শুধু আশ্বাস দিচ্ছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আশ্বাস দিয়ে যাচ্ছে সবাই। আমি বলি মুলা দেখাচ্ছে সবাই। সবচেয়ে বড় সমাধান হবে যখন আমরা নিজেরাই টিকা তৈরি করব। নিজেরা টিকা তৈরি করলে আর অন্যের দিকে চেয়ে থাকতে হবে না।

টিকা এখন ‘অস্ত্র’ হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
২২ জুন ২০২১, ০৭:৪৮ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
টিকা এখন ‘অস্ত্র’ হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে
ফাইল ছবি

টিকা এখন ‘অস্ত্র’ হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে ইঙ্গিত দিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন বলেছেন, অনেকে বলে যে দেব (টিকা) কিন্তু কেউ দেয় না। আবার টিকা দেওয়ার সময় জিজ্ঞাসা করেন অমুক জিনিসে আপনারা আমাদের সাপোর্ট (সমর্থন) দেবেন কি না। 

যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

কোভিড সম্পর্কে আমরা সব জায়গায় বলেছি, আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন- টিকা সব নাগরিকদের পাওয়া উচিত। আমাদের দেশের সব নাগরিককে ভ্যাকসিন দেওয়া হবে। এবং এটাতে কোনো বৈষম্য উচিত না। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত ধনী দেশগুলো সব কোভিডের ভ্যাকসিন নিয়ে বসে আছে, তাদের নিজেদের লোকের ব্যবহারের থেকে বেশি। আমি কয়েকটি দেশের উদাহরণ দেখিয়েছি। ওই দেশগুলো তাদের লোকসংখ্যার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি ভ্যাকসিন নিয়ে বসে আছে। এবং অনেক দেশের ভ্যাকসিনের এক্সপায়ার্ড (মেয়াদোত্তীর্ণ) হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু খালি মুখে বলে আমরা এগুলো আপনাদের দেব। এ রকম মজার মজার কথা শুনি যে, আপনারা কোনো চিন্তা করবেন না। আমরা আপনাদের এগুলো দেব। কিন্তু কেউ দেয় না। কেউ দেয় না। এটা ঠিক না। আর দেওয়ার আগে জিজ্ঞাসা করে অমুক জিনিসে আপনারা আমাদের সাপোর্ট দেবেন কি না।

কোন কোন দেশ সমর্থনের বিষয়ে জিজ্ঞাসা করে- এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাংবাদিকদের আবদুল মোমেন বলেন, আছে অনেকগুলো দেশই। তারা বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমাদের বলেন যে আমরা অমুক ইলেকশনে দাঁড়িয়েছি, আপনারা আমাদের সমর্থন দেবেন কি না। এখন দেখা যাচ্ছে, এটিকে (টিকা) একটি ‘অস্ত্র’ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। 

ড. মোমেন বলেন, আমরা আমাদের বক্তব্য তুলে ধরেছি। আমরা জাতিসংঘের মহাসচিবকে বলেছি আপনি এই ব্যাপারে আরও শক্ত হোন।  সবার অধিকার এই ভ্যাকসিন পাওয়া। এখন দেখা যাক কি হয়।

রাশিয়ার সঙ্গে চুক্তির বিষয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এটা ফাইনাল স্টেজে আছে। তবে কখন, কত টাকায়, কী পরিমাণ কিনবে সেটি হেলথ মিনিস্ট্রি জানে। আমি সেই হিসাব-নিকাশের মধ্যে নেই।

এ সময় মন্ত্রী বলেন, একটা মজার কাহিনী বলি। আমেরিকাতে বহু ব্যক্তিবিশেষ, তারা আমাদের কাছে প্রস্তাব দেন যে অমুকে অনেক দিতে (টিকা) পারবে। সবচেয়ে মজার বিষয় হচ্ছে, আমেরিকার লোক। তারা রাশিয়ান কোম্পানির টিকার ডিলারশিপ আছে তারা। কিন্তু রাশিয়া সরকার আমাদের জানিয়েছে তাদের কোনো ডিলারই নাই। এ রকম অনেক মজার মজার কথা শুনি।

তিনি বলেন, টিকা এখন মজার জিনিস। সবাই এখন ভ্যাকসিন ব্যবসায়ী। সবাই আমাদের কাছে বিক্রি করার জন্য আসছে। ভ্যাকসিন একটা মজার জিনিস। এখন সাংবাদিক, সাহিত্যিক, গায়ক, ব্যবসায়ী সবাই এখন ভ্যাকসিন ব্যবসায়ী। 

টিকা কবে নাগাদ পাওয়া যেতে পারে জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, টিকা নিয়ে সুখবর পাব কিন্তু কবে পাব সেটি এখন বলতে পারছি না। পৃথিবীর ধনী সাতটি দেশ অর্থাৎ জি-৭ ১০০ কোটি টিকা দেবে বলে আমাদের জানিয়েছে। খালি শুনছি দেবে কিন্তু দেওয়ার কথা কেউ বলছে না, শুধু আশ্বাস দিচ্ছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আশ্বাস দিয়ে যাচ্ছে সবাই। আমি বলি মুলা দেখাচ্ছে সবাই। সবচেয়ে বড় সমাধান হবে যখন আমরা নিজেরাই টিকা তৈরি করব। নিজেরা টিকা তৈরি করলে আর অন্যের দিকে চেয়ে থাকতে হবে না।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

ঘটনাপ্রবাহ : ছড়িয়ে পড়ছে করোনাভাইরাস