খালেদা জিয়াকে বিদেশে নেওয়ার বিষয়ে সরকারের ‘সিদ্ধান্ত’ আসছে
jugantor
খালেদা জিয়াকে বিদেশে নেওয়ার বিষয়ে সরকারের ‘সিদ্ধান্ত’ আসছে

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

০৮ ডিসেম্বর ২০২১, ১৯:৫০:৫৬  |  অনলাইন সংস্করণ

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর আবেদন বিবেচনা করতে উপমহাদেশের কোনো আদালতে এমন নজির আছে কিনা- তা খতিয়ে দেখছি।

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বুধবার বিকালে তার গুলশানের বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে একথা জানিয়েছেন।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসা বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী আবারও জানান, খালেদা জিয়াকে বাইরে পাঠিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করার আইনি কোনো সুযোগ নেই। তারপরও বিএনপিপন্থী ১৫ জন আইনজীবীর দেওয়া প্রস্তাব খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ৪০১ ধারায় যে দরখাস্ত একবার নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়- তা আর পুনর্বিবেচনার সুযোগ নাই।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আমি যে বক্তব্য দিয়েছি যে, ৪০১ ধারায় যে দরখাস্ত একবার নিষ্পত্তি হয়ে গেছে সেই দরখাস্তটি পুনরুজ্জীবিত করার কোনো স্কোপ নাই। আমি সেই আইনি যে ব্যাখ্যা দিয়েছিলাম সেই আইনি ব্যাখ্যাই সঠিক।কিন্তু তারপরেও আমি বলেছি যে, ১৫ জন আইনজীবী আমার সঙ্গে দেখা করেছেন। তারা একটা বক্তব্য দিয়েছেন। তাদের এই বক্তব্য কোনো দেশে কোনো সময় বিশেষ করে আমাদের উপমহাদেশের কোনো আদালতে নজির আছে কিনা- আমি সেটা খতিয়ে দেখছি।

উপস্থিত সাংবাদিকদের আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা দেখা এখনো শেষ হয়নি। প্রায় শেষ প্রান্তে এসেছি। আপনারা কিছুদিনের মধ্যেই এই সিদ্ধান্ত পেয়ে যাবেন।’

৭৬ বছর বয়সী সাবেক এ প্রধানমন্ত্রী বহু বছর ধরে আর্থ্রারাইটিস, ডায়াবেটিস, কিডনি, ফুসফুস, চোখের সমস্যাসহ নানা জটিলতায় ভুগছেন। অসুস্থতার জন্য টানা ২৬ দিন ওই হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে ৭ নভেম্বর বাসায় ফেরেন তিনি। এর ছয়দিনের ব্যবধানে খালেদা জিয়াকে আবার ঢাকায় একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তির পর ১৪ নভেম্বর দিবাগত রাত থেকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে সিসিইউতে রাখা হয়েছে।পরে তার ‘পরিপাকতন্ত্রে’ রক্তক্ষরণ এবং লিভার সিরোসিসের কথা জানান চিকিৎসকরা।

এর আগে গত এপ্রিলে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হন খালেদা জিয়া। পরে করোনা পরবর্তী জটিলতায় ২৭ এপ্রিল হাসপাতালে ভর্তি হন। সে সময় এক মাসের বেশি সময় হাসপাতালের সিসিইউতে ভর্তি ছিলেন। শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলে ১৯ জুন বাসায় ফেরেন। পরে করোনার টিকা নিতে তিনি দুই দফায় মহাখালীর শেখ রাসেল ন্যাশনাল গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট অ্যান্ড হাসপাতালে যান।

দুর্নীতির মামলায় দণ্ডিত হয়ে খালেদা জিয়া ২০০৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি কারাগারে যান। করোনা মহামারির প্রেক্ষাপটে গত বছরের ২৫ মার্চ সরকার শর্তসাপেক্ষে তাকে সাময়িক মুক্তি দেয়। এ পর্যন্ত তিন দফায় খালেদা জিয়ার মুক্তির মেয়াদ বাড়ানো হয়। তবে বিএনপির নেতারা খালেদা জিয়ার শর্তসাপেক্ষে এ মুক্তিকে ‘গৃহবন্দি’ বলছেন। উন্নত চিকিৎসার জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে বারবার আবেদন করা হলেও সরকার তা নাকচ করে দেয়। তাকে দেশে থেকেই চিকিৎসা নিতে হবে বলে শর্তও দেওয়া হয়েছে।

খালেদা জিয়াকে বিদেশে নেওয়ার বিষয়ে সরকারের ‘সিদ্ধান্ত’ আসছে

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
০৮ ডিসেম্বর ২০২১, ০৭:৫০ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর আবেদন বিবেচনা করতে উপমহাদেশের কোনো আদালতে এমন নজির আছে কিনা- তা খতিয়ে দেখছি।

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বুধবার বিকালে তার গুলশানের বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে একথা জানিয়েছেন।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসা বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী আবারও জানান, খালেদা জিয়াকে বাইরে পাঠিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করার আইনি কোনো সুযোগ নেই। তারপরও বিএনপিপন্থী ১৫ জন আইনজীবীর দেওয়া প্রস্তাব খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ৪০১ ধারায় যে দরখাস্ত একবার নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়- তা আর পুনর্বিবেচনার সুযোগ নাই।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আমি যে বক্তব্য দিয়েছি যে, ৪০১ ধারায় যে দরখাস্ত একবার নিষ্পত্তি হয়ে গেছে সেই দরখাস্তটি পুনরুজ্জীবিত করার কোনো স্কোপ নাই। আমি সেই আইনি যে ব্যাখ্যা দিয়েছিলাম সেই আইনি ব্যাখ্যাই সঠিক।কিন্তু তারপরেও আমি বলেছি যে, ১৫ জন আইনজীবী আমার সঙ্গে দেখা করেছেন। তারা একটা বক্তব্য দিয়েছেন। তাদের এই বক্তব্য কোনো দেশে কোনো সময় বিশেষ করে আমাদের উপমহাদেশের কোনো আদালতে নজির আছে কিনা- আমি সেটা খতিয়ে দেখছি।

উপস্থিত সাংবাদিকদের আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা দেখা এখনো শেষ হয়নি। প্রায় শেষ প্রান্তে এসেছি। আপনারা কিছুদিনের মধ্যেই এই সিদ্ধান্ত পেয়ে যাবেন।’

৭৬ বছর বয়সী সাবেক এ প্রধানমন্ত্রী বহু বছর ধরে আর্থ্রারাইটিস, ডায়াবেটিস, কিডনি, ফুসফুস, চোখের সমস্যাসহ নানা জটিলতায় ভুগছেন। অসুস্থতার জন্য টানা ২৬ দিন ওই হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে ৭ নভেম্বর বাসায় ফেরেন তিনি। এর ছয়দিনের ব্যবধানে খালেদা জিয়াকে আবার ঢাকায় একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তির পর ১৪ নভেম্বর দিবাগত রাত থেকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে সিসিইউতে রাখা হয়েছে।পরে তার ‘পরিপাকতন্ত্রে’ রক্তক্ষরণ এবং লিভার সিরোসিসের কথা জানান চিকিৎসকরা।

এর আগে গত এপ্রিলে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হন খালেদা জিয়া। পরে করোনা পরবর্তী জটিলতায় ২৭ এপ্রিল হাসপাতালে ভর্তি হন। সে সময় এক মাসের বেশি সময় হাসপাতালের সিসিইউতে ভর্তি ছিলেন। শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলে ১৯ জুন বাসায় ফেরেন। পরে করোনার টিকা নিতে তিনি দুই দফায় মহাখালীর শেখ রাসেল ন্যাশনাল গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট অ্যান্ড হাসপাতালে যান।

দুর্নীতির মামলায় দণ্ডিত হয়ে খালেদা জিয়া ২০০৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি কারাগারে যান। করোনা মহামারির প্রেক্ষাপটে গত বছরের ২৫ মার্চ সরকার শর্তসাপেক্ষে তাকে সাময়িক মুক্তি দেয়। এ পর্যন্ত তিন দফায় খালেদা জিয়ার মুক্তির মেয়াদ বাড়ানো হয়। তবে বিএনপির নেতারা খালেদা জিয়ার শর্তসাপেক্ষে এ মুক্তিকে ‘গৃহবন্দি’ বলছেন। উন্নত চিকিৎসার জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে বারবার আবেদন করা হলেও সরকার তা নাকচ করে দেয়। তাকে দেশে থেকেই চিকিৎসা নিতে হবে বলে শর্তও দেওয়া হয়েছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

ঘটনাপ্রবাহ : খালেদা জিয়ার চিকিৎসা