ঢাবি ছাত্রী ধর্ষণ মামলায় সাক্ষ্য শুরু
jugantor
ঢাবি ছাত্রী ধর্ষণ মামলায় সাক্ষ্য শুরু

  যুগান্তর রিপোর্ট  

২০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২১:২২:১৫  |  অনলাইন সংস্করণ

রাজধানীর কুর্মিটোলায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ছাত্রী ধর্ষণ মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছে। রোববার ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭ এর বিচারক মোসাম্মৎ কামরুন্নাহারের আদালতে মামলার বাদী ওই ছাত্রীর বাবা সাক্ষ্য দেন। এরপর আদালত পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য সোমবার দিন ধার্য করেন।

এর আগে গত ২৬ অক্টোবর একমাত্র আসামির মজনুর বিরুদ্ধে চার্জ গঠনের মাধ্যমে এ মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়। গত ১৬ আগস্ট এ মামলার চার্জশিট আমলে নেন আদালত। গত ১৬ মার্চ ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ চার্জশিট দাখিল করা হয়।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক আবু সিদ্দিক এ চার্জশিট দাখিল করেন।

চার্জশিটে বলা হয়, ২১ বছর বয়সী ওই ভিকটিম ঢাবির সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি ঢাবির রোকেয়া হলে থাকেন। গত ৫ জানুয়ারি বিকাল ৫টা ৪০ মিনিটের দিকে তার বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে রওনা হন। সন্ধ্যা ৭টার দিকে বাসটি ক্যান্টনমেন্ট থানাধীন কুর্মিটোলা বাসস্ট্যান্ডে থামে। তখন ওই শিক্ষার্থী বাস থেকে নেমে ফুটপাত দিয়ে ৪০ থেকে ৫০ গজ শেওড়ার দিকে হেঁটে আর্মি গলফক্লাব মাঠ সংলগ্ন স্থানে পৌঁছালে পেছন দিক থেকে আসামি মজনু আসে। মজনু মেয়েটিকে ফুটপাতের পাশে মাটিতে ফেলে দিয়ে তার গলা চেপে ধরে। মেয়েটি অজ্ঞান হয়ে পড়লে আসামি তাকে ধর্ষণ করে।

পরে মেয়েটি কিছুটা সুস্থ হলে ওই যুবক তাকে মারধর করে এবং বিভিন্ন ভয়ভীতি দেখায়। পরবর্তীতে মেয়েটির কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোন, হাতঘড়ি, ব্যাগ ও নগদ হাজার টাকা নিয়ে নেয় মজনু। একপর্যায়ে মেয়েটি দৌঁড়ে রিকশা করে তার বান্ধবীর বাসায় যায়। এরপর তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়। চার্জশিটে মোট ১৬ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে। এ ছাড়া চার্জশিটে ধর্ষণের ২০টি আলামত দেখানো হয়েছে।

আদালত সূত্র জানায়, ঢাবি ছাত্রী ধর্ষণের ঘটনায় গত ৬ জানুয়ারি ওই ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলাটি করেন। এরপর চিকিৎসা নিয়ে ভিকটিম গত ৯ জানুয়ারি হাসপাতাল ছাড়েন। পরদিন ১০ জানুয়ারি ভিকটিম ফৌজদারী কার্যবিধির ২২ ধারায় আদালতে জবানবন্দি দেন।

এদিকে গত ৮ জানুয়ারি ক্যান্টনমেন্ট থানাধীন শেওড়া বাস স্ট্যান্ডে র‌্যাব আসামি মজনুকে গ্রেফতার করে। এরপর আসামির স্বীকারোক্তি অনুসারে ওই ছাত্রীর ব্যাগ, মোবাইল ও পাওয়ার ব্যাংক এবং আসামির ব্যবহৃত একটি জিন্সের প্যান্ট ও একটি জ্যাকেট উদ্ধার করা হয়। এ মামলায় গত ৯ জানুয়ারি আসামি মজনুর সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। সাত দিনের রিমান্ড চলাকালীন ষষ্ঠ দিন গত ১৬ জানুয়ারি আসামি আদালতে দোষ স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।

ঢাবি ছাত্রী ধর্ষণ মামলায় সাক্ষ্য শুরু

 যুগান্তর রিপোর্ট 
২০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৯:২২ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

রাজধানীর কুর্মিটোলায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ছাত্রী ধর্ষণ মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছে। রোববার ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭ এর বিচারক মোসাম্মৎ কামরুন্নাহারের আদালতে মামলার বাদী ওই ছাত্রীর বাবা সাক্ষ্য দেন। এরপর আদালত পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য সোমবার দিন ধার্য করেন।

এর আগে গত ২৬ অক্টোবর একমাত্র আসামির মজনুর বিরুদ্ধে চার্জ গঠনের মাধ্যমে এ মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়। গত ১৬ আগস্ট এ মামলার চার্জশিট আমলে নেন আদালত। গত ১৬ মার্চ ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ চার্জশিট দাখিল করা হয়।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক আবু সিদ্দিক এ চার্জশিট দাখিল করেন। 

চার্জশিটে বলা হয়, ২১ বছর বয়সী ওই ভিকটিম ঢাবির সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি ঢাবির রোকেয়া হলে থাকেন। গত ৫ জানুয়ারি বিকাল ৫টা ৪০ মিনিটের দিকে তার বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে রওনা হন। সন্ধ্যা ৭টার দিকে বাসটি ক্যান্টনমেন্ট থানাধীন কুর্মিটোলা বাসস্ট্যান্ডে থামে। তখন ওই শিক্ষার্থী বাস থেকে নেমে ফুটপাত দিয়ে ৪০ থেকে ৫০ গজ শেওড়ার দিকে হেঁটে আর্মি গলফক্লাব মাঠ সংলগ্ন স্থানে পৌঁছালে পেছন দিক থেকে আসামি মজনু আসে। মজনু মেয়েটিকে ফুটপাতের পাশে মাটিতে ফেলে দিয়ে তার গলা চেপে ধরে। মেয়েটি অজ্ঞান হয়ে পড়লে আসামি তাকে ধর্ষণ করে। 

পরে মেয়েটি কিছুটা সুস্থ হলে ওই যুবক তাকে মারধর করে এবং বিভিন্ন ভয়ভীতি দেখায়। পরবর্তীতে মেয়েটির কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোন, হাতঘড়ি, ব্যাগ ও নগদ হাজার টাকা নিয়ে নেয় মজনু। একপর্যায়ে মেয়েটি দৌঁড়ে রিকশা করে তার বান্ধবীর বাসায় যায়। এরপর তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়। চার্জশিটে মোট ১৬ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে। এ ছাড়া চার্জশিটে ধর্ষণের ২০টি আলামত দেখানো হয়েছে।

আদালত সূত্র জানায়, ঢাবি ছাত্রী ধর্ষণের ঘটনায় গত ৬ জানুয়ারি ওই ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলাটি করেন। এরপর চিকিৎসা নিয়ে ভিকটিম গত ৯ জানুয়ারি হাসপাতাল ছাড়েন। পরদিন ১০ জানুয়ারি ভিকটিম ফৌজদারী কার্যবিধির ২২ ধারায় আদালতে জবানবন্দি দেন। 

এদিকে গত ৮ জানুয়ারি ক্যান্টনমেন্ট থানাধীন শেওড়া বাস স্ট্যান্ডে র‌্যাব আসামি মজনুকে গ্রেফতার করে। এরপর আসামির স্বীকারোক্তি অনুসারে ওই ছাত্রীর ব্যাগ, মোবাইল ও পাওয়ার ব্যাংক এবং আসামির ব্যবহৃত একটি জিন্সের প্যান্ট ও একটি জ্যাকেট উদ্ধার করা হয়। এ মামলায় গত ৯ জানুয়ারি আসামি মজনুর সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। সাত দিনের রিমান্ড চলাকালীন ষষ্ঠ দিন গত ১৬ জানুয়ারি আসামি আদালতে দোষ স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।

 

ঘটনাপ্রবাহ : ঢাবি ছাত্রীকে ধর্ষণ