পিকে হালদারের দুই সহযোগী ৩ দিনের রিমান্ডে
jugantor
পিকে হালদারের দুই সহযোগী ৩ দিনের রিমান্ডে

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

২১ জানুয়ারি ২০২১, ২১:২৫:০৭  |  অনলাইন সংস্করণ

প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগের মুখে বিদেশে পালিয়ে যাওয়া এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রশান্ত কুমার হালদারের (পিকে হালদার) দুই সহযোগীকে তিন দিন করে রিমান্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার বিকালে শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ কেএম ইমরুল কায়েশ এ আদেশ দেন।

রিমান্ডে যাওয়া আসামিরা হলেন- পিরোজপুরের সুকুমার নাথ মৃধা ও তার মেয়ে অনিন্দিতা মৃধা।

এর আগে এদিন দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটের দিকে পিকে হালদারের সহযোগী সুকুমার নাথ মৃধাকে রাজধানীর সেগুনবাগিচা থেকে গ্রেফতার করে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) টিম। এর পাঁচ মিনিট পর একই এলাকা থেকে অনিন্দিতা মৃধাকে গ্রেফতার করা হয়।

এদিন পিকে হালদারের অবৈধ সম্পদ অর্জন ও মানিলন্ডারিংয়ের মামলায় পিকে হালদারের ওই দুই সহযোগীকে আদালতে হাজির করে তিন দিন করে রিমান্ডের আবেদন করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপ-পরিচালক মো. সালাহউদ্দিন রিমান্ডের এ আবেদন করেন।

সুকুমার নাথ মৃধার রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, পিকে হালদার তার অবৈধ অর্জিত অর্থ হস্তান্তর, স্থানান্তর ও রূপান্তরের মাধ্যমে গোপন করার উদ্দেশ্যে তার সহযোগী সুকুমার মৃধার নামে-বেনামে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ করেন। পিকে হালদারের সহযোগিতায় তা মা লীলাবতী হালদার চতুরতার সঙ্গে বেআইনিভাবে প্রায় ৮০ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ গঠন করে তার আয়কর রিটার্ন প্রদর্শন করেছেন। প্রকৃতপক্ষে ওই অর্থের বৈধ কোনো উৎস নেই। এ ছাড়া পিকে হালদার ও তার সহযোগীরা ২০১৫ সাল থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে লীলাবতী হালদারের বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে প্রায় ১৬০ কোটি টাকা স্থানান্তর করেন।

পরবর্তীতে লীলাবতী হালদারের ব্যাংক হিসাব থেকে বিভিন্ন সময় চেক ও নগদে আসামি পিকে হালদার, সহযোগী অবন্তিকা বড়াল, সুকুমার মৃধাকে দেওয়ার মাধ্যমে হস্তান্তর ও স্থানান্তর করেন। এর মধ্যে সুকুমার মৃধার কাছে দেড় কোটি টাকা হস্তান্তর করা হয়েছে। সুকুমার মৃধা রাজধানীর শান্তিনগরের টুইন টাওয়ারে কোটি টাকা মূল্যের ফ্ল্যাট (ফ্ল্যাট নম্বর এফ-৫) কিনেছেন। এ ছাড়া তিনি পিরোজপুর, বাগেরহাট ও নারায়ণগঞ্জে তিন হাজার একর জমি কিনে তা ভোগদখল করছেন। আনুমানিক এর মূল্য ১০ কোটি টাকা। তিনি তার মেয়ে অনিন্দিতা মৃধার অ্যাকাউন্টে দেড় কোটি টাকার সম্পদ স্থানান্তর বা হস্তান্তর করেছেন। এসব অর্থের বৈধ কোনো উৎস দেখাতে পারেননি সুকুমার মৃধা। তিনি বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। আসামিকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে মামলাসংক্রান্ত আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে।

অপর দিকে অনিন্দিতা মৃধার রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, অনিন্দিতা মৃধা মাত্র ২০ বছর বয়সী শিক্ষার্থী থাকাকালীন ২০১৪-১৫ করবর্ষে আয়কর রিটার্নে এক কোটি চার লাখ ৮৭ হাজার ৫০০ টাকা সম্পদ অর্জনের ঘোষণা দেন। মাছ চাষের মূলধন হিসাবে ওই করবর্ষে তিনি এক কোটি দুুই লাখ ৮৭ হাজার ৫০০ টাকা বিনিয়োগ করেছেন বলে উল্লে­খ করা হয়। কিন্তু ওই অর্থ উপার্জনের স্বপক্ষে কোনো বৈধ দলিলাদি দাখিল করতে পারেননি। ওই করবর্ষে তার নিজ নামে কোনো জমি বা পুকুর ছিল না। তার বাবার সঙ্গে একটি চুক্তিনামা করে চতুরতার সঙ্গে তা বৈধ দেখানোর চেষ্টা করেন। তিনি বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। আসামিকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে মামলাসংক্রান্ত আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে।

আদালতে দুদকের পক্ষে আইনজীবী মাহমুদ হোসেন জাহাঙ্গীর আসামিদের রিমান্ড শুনানি করেন। অপর দিকে দুই আসামির পক্ষে একজন আইনজীবী রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন শুনানি করতে গেলে ওকালতনামায় আসামিদের স্বাক্ষর না থাকায় আদালত তার শুনানি নেননি। এরপর আদালত আসামিদের রিমান্ডের ওই আদেশ দেন।এ বছরের ৮ জানুয়ারি পিকে হালদারের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করেছে ইন্টারপোল।

এর আগে গত ৫ জানুয়ারি পিকে হাদারের মা লীলাবতী হালদারসহ ২৫ ব্যক্তির দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন হাইকোর্ট। গত ২ ডিসেম্বর পিকে হালদারকে ইন্টারপোলের মাধ্যমে গ্রেফতারের জন্য পরোয়ানা জারির আদেশ দেন ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ।

পিকে হালদার পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত আইএলএফএসএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন। গ্রাহকদের অভিযোগের মুখে বছরের শুরুতেই পিকে হালদারের বিদেশ পালান। এরপর এ বছরের ৮ জানুয়ারি ২৭৪ কোটি ৯১ লাখ ৫৫ হাজার ২৫৫ টাকার অবৈধ সম্পদের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। এ মামলায় দুই দফায় পিকে হালদারের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ ক্রোক ও ফ্রিজের আদেশ দেন আদালত।

আর্থিক খাত থেকে আত্মীয়স্বজন চক্রের মাধ্যমে অন্তত ১০ হাজার কোটি টাকা সরিয়ে নেওয়ার কারিগর পিকে হালদারের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত ৪০০ কোটি টাকা বিদেশে পাচারের অফিসিয়াল তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে। দুদক ছাড়াও বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা বিভাগ পিকে হালদার ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান করছে। এ ছাড়া দুদকের ক্যাসিনো দুর্নীতির মামলায় চার্জশিট তালিকায় লিজিং কোম্পানি ও আর্থিক খাত থেকে কয়েক হাজার কোটি টাকা পাচারে জড়িত পিকে হালদারের নামও রয়েছে।

পিকে হালদারের দুই সহযোগী ৩ দিনের রিমান্ডে

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
২১ জানুয়ারি ২০২১, ০৯:২৫ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগের মুখে বিদেশে পালিয়ে যাওয়া এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রশান্ত কুমার হালদারের (পিকে হালদার) দুই সহযোগীকে তিন দিন করে রিমান্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার বিকালে শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ কেএম ইমরুল কায়েশ এ আদেশ দেন। 

রিমান্ডে যাওয়া আসামিরা হলেন- পিরোজপুরের সুকুমার নাথ মৃধা ও তার মেয়ে অনিন্দিতা মৃধা।

এর আগে এদিন দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটের দিকে পিকে হালদারের সহযোগী সুকুমার নাথ মৃধাকে রাজধানীর সেগুনবাগিচা থেকে গ্রেফতার করে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) টিম। এর পাঁচ মিনিট পর একই এলাকা থেকে অনিন্দিতা মৃধাকে গ্রেফতার করা হয়।

এদিন পিকে হালদারের অবৈধ সম্পদ অর্জন ও মানিলন্ডারিংয়ের মামলায় পিকে হালদারের ওই দুই সহযোগীকে আদালতে হাজির করে তিন দিন করে রিমান্ডের আবেদন করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপ-পরিচালক মো. সালাহউদ্দিন রিমান্ডের এ আবেদন করেন। 

সুকুমার নাথ মৃধার রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, পিকে হালদার তার অবৈধ অর্জিত অর্থ হস্তান্তর, স্থানান্তর ও রূপান্তরের মাধ্যমে গোপন করার উদ্দেশ্যে তার সহযোগী সুকুমার মৃধার নামে-বেনামে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ করেন। পিকে হালদারের সহযোগিতায় তা মা লীলাবতী হালদার চতুরতার সঙ্গে বেআইনিভাবে প্রায় ৮০ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ গঠন করে তার আয়কর রিটার্ন প্রদর্শন করেছেন। প্রকৃতপক্ষে ওই অর্থের বৈধ কোনো উৎস নেই। এ ছাড়া পিকে হালদার ও তার সহযোগীরা ২০১৫ সাল থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে লীলাবতী হালদারের বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে প্রায় ১৬০ কোটি টাকা স্থানান্তর করেন। 

পরবর্তীতে লীলাবতী হালদারের ব্যাংক হিসাব থেকে বিভিন্ন সময় চেক ও নগদে আসামি পিকে হালদার, সহযোগী অবন্তিকা বড়াল, সুকুমার মৃধাকে দেওয়ার মাধ্যমে হস্তান্তর ও স্থানান্তর করেন। এর মধ্যে সুকুমার মৃধার কাছে দেড় কোটি টাকা হস্তান্তর করা হয়েছে। সুকুমার মৃধা রাজধানীর শান্তিনগরের টুইন টাওয়ারে কোটি টাকা মূল্যের ফ্ল্যাট (ফ্ল্যাট নম্বর এফ-৫) কিনেছেন। এ ছাড়া তিনি পিরোজপুর, বাগেরহাট ও নারায়ণগঞ্জে তিন হাজার একর জমি কিনে তা ভোগদখল করছেন। আনুমানিক এর মূল্য ১০ কোটি টাকা। তিনি তার মেয়ে অনিন্দিতা মৃধার অ্যাকাউন্টে দেড় কোটি টাকার সম্পদ স্থানান্তর বা হস্তান্তর করেছেন। এসব অর্থের বৈধ কোনো উৎস দেখাতে পারেননি সুকুমার মৃধা। তিনি বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। আসামিকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে মামলাসংক্রান্ত আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে।

অপর দিকে অনিন্দিতা মৃধার রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, অনিন্দিতা মৃধা মাত্র ২০ বছর বয়সী শিক্ষার্থী থাকাকালীন ২০১৪-১৫ করবর্ষে আয়কর রিটার্নে এক কোটি চার লাখ ৮৭ হাজার ৫০০ টাকা সম্পদ অর্জনের ঘোষণা দেন। মাছ চাষের মূলধন হিসাবে ওই করবর্ষে তিনি এক কোটি দুুই লাখ ৮৭ হাজার ৫০০ টাকা বিনিয়োগ করেছেন বলে উল্লে­খ করা হয়। কিন্তু ওই অর্থ উপার্জনের স্বপক্ষে কোনো বৈধ দলিলাদি দাখিল করতে পারেননি। ওই করবর্ষে তার নিজ নামে কোনো জমি বা পুকুর ছিল না। তার বাবার সঙ্গে একটি চুক্তিনামা করে চতুরতার সঙ্গে তা বৈধ দেখানোর চেষ্টা করেন। তিনি বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। আসামিকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে মামলাসংক্রান্ত আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে।

আদালতে দুদকের পক্ষে আইনজীবী মাহমুদ হোসেন জাহাঙ্গীর আসামিদের রিমান্ড শুনানি করেন। অপর দিকে দুই আসামির পক্ষে একজন আইনজীবী রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন শুনানি করতে গেলে ওকালতনামায় আসামিদের স্বাক্ষর না থাকায় আদালত তার শুনানি নেননি। এরপর আদালত আসামিদের রিমান্ডের ওই আদেশ দেন।এ বছরের ৮ জানুয়ারি পিকে হালদারের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করেছে ইন্টারপোল। 

এর আগে গত ৫ জানুয়ারি পিকে হাদারের মা লীলাবতী হালদারসহ ২৫ ব্যক্তির দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন হাইকোর্ট। গত ২ ডিসেম্বর পিকে হালদারকে ইন্টারপোলের মাধ্যমে গ্রেফতারের জন্য পরোয়ানা জারির আদেশ দেন ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ। 

পিকে হালদার পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত আইএলএফএসএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন। গ্রাহকদের অভিযোগের মুখে বছরের শুরুতেই পিকে হালদারের বিদেশ পালান। এরপর এ বছরের ৮ জানুয়ারি ২৭৪ কোটি ৯১ লাখ ৫৫ হাজার ২৫৫ টাকার অবৈধ সম্পদের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। এ মামলায় দুই দফায় পিকে হালদারের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ ক্রোক ও ফ্রিজের আদেশ দেন আদালত।

আর্থিক খাত থেকে আত্মীয়স্বজন চক্রের মাধ্যমে অন্তত ১০ হাজার কোটি টাকা সরিয়ে নেওয়ার কারিগর পিকে হালদারের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত ৪০০ কোটি টাকা বিদেশে পাচারের অফিসিয়াল তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে। দুদক ছাড়াও বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা বিভাগ পিকে হালদার ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান করছে। এ ছাড়া দুদকের ক্যাসিনো দুর্নীতির মামলায় চার্জশিট তালিকায় লিজিং কোম্পানি ও আর্থিক খাত থেকে কয়েক হাজার কোটি টাকা পাচারে জড়িত পিকে হালদারের নামও রয়েছে।