আগে টাকা দিন পরে কথা বলুন, নইলে ভেতরে ঢুকানো হবে
jugantor
আগে টাকা দিন পরে কথা বলুন, নইলে ভেতরে ঢুকানো হবে

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১৯:৫৭:৫৫  |  অনলাইন সংস্করণ

আর্থিক প্রতিষ্ঠান পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস থেকে ৫ লাখ টাকা এবং তার ওপরে ঋণ খেলাপি ১৩৭ জন আদালতে হাজিরা দিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার হাইকোর্টের কোম্পানি বেঞ্চের বিচারক মোহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকারের একক বেঞ্চে হাজিরা দেন পিপলস লিজিংয়ের ঋণ খেলাপিরা।

এ সময় ঋণ খেলাপি ও তাদের আইনজীবীদের উদ্দেশে ক্ষোভ প্রকাশ করে আদালত বলেন, আপনারা টাকা তুলে নিয়ে চলে গেছেন। আর যারা পিপলস লিজিংয়ে টাকা জমা রেখেছিল, তারা না খেয়ে রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। পিপলস লিজিংয়ের টাকা জনগণের টাকা, চোর-বাটপারদের টাকা না। আগে টাকা দিন, পরে কথা বলুন। তা না হলে ভেতরে (কারাগারে) ঢুকানো হবে।

এ সময় শুনানি করছিলেন আইনজীবী ড. সাঈদা নাসরিন। তার মক্কেল আদালতকে বলেন, তার কাছে ৩৮৪ কোটি টাকা পাওনা পিপলস লিজিংয়ের। এ সময় আদালত বলেন, আগে টাকা দেবেন, তারপর ইনস্টলমেন্টের আবেদন করবেন। না হলে কারাগারে ঢুকাব। এটা জনগণের জমানো টাকা। পিপলস লিজিংয়ের চোর-বাটপারদের টাকা না।

আদালত আরও বলেন, আমরা দেখছি হাজার হাজার কোটি টাকা নিয়ে এ কোম্পানিকে বাঁচিয়ে রেখে টাকা উদ্ধার করা যায় কি না। আমানতকারীরা আজকে খেয়ে না খেয়ে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরছেন। আমরা চেষ্টা করছি ঋণগ্রহীতাদের কাছ থেকে টাকা উদ্ধারের।

অবসায়ন প্রক্রিয়ার মধ্যে থাকা পিপলস লিজিংয়ের সাময়িক অবসায়ক (প্রবেশনাল লিকুইডেটর) মো. আসাদুজ্জামান খানের দেওয়া এ সংক্রান্ত তালিকা দেখে আদালত গত ২১ জানুয়ারি মোট ২৮০ জনকে তলব করেছিলেন। তাদের মধ্যে আদালত দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে হাইকোর্টে উপস্থিত হতে বলেন। তারই আলোকে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত দিনে আদালতে ১৪৩ জনের উপস্থিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ওইদিন পিপলস লিজিংয়ের ঋণখেলাপির তালিকায় থাকা ১৪৩ জনের মধ্যে ৫১ জন আদালতে হাজির ছিলেন। অন্যান্যরা কেউ কেউ আইনজীবীর মাধ্যমে সময় চেয়েছেন।

এদিন ১৪৩ জনের মধ্যে ৫১ জনের বাইরে যারা হাজির হননি তাদের বিষয়ে হাইকোর্ট বলেছেন, বাকিরা আদালতে উপস্থিত হওয়ার জন্য আরও একবার সুযোগ পাবেন। এর মধ্যে তারা উপস্থিত না হলে তাদের গ্রেফতার করে আনা হবে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন হাইকোর্ট।

১৯৯৭ সালের ২৪ নভেম্বর আর্থিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে পিপলস লিজিংকে অনুমোদন দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এরপর থেকে প্রতিষ্ঠানটি গ্রাহকের কাছ থেকে মেয়াদি আমানত ও বিভিন্ন ব্যাংক-আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে টাকা ধার করে ঋণ কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল।

২০১৮ সালের ডিসেম্বরে প্রতিষ্ঠানটির আমানত ছিল দুই হাজার ৩৬ কোটি টাকা। আর ঋণের পরিমাণ এক হাজার ১৩১ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপিই ৭৪৮ কোটি টাকা। অর্থাৎ খেলাপি ঋণের হার ৬৬ শতাংশ।

২০১৫ সাল থেকে ধারাবাহিক লোকসানের মধ্যে পড়ে প্রতিষ্ঠানটি। খেলাপিদের কাছ থেকে আদায় করতে না পারায় আমানতকারীদের টাকাও ফেরত দিতে পারছে না তারা। ২০১৯ সালের ১৪ জুলাই পিপলস লিজিং অবসায়নের জন্য আদালতে মামলা করে বাংলাদেশ ব্যাংক। পরে সাময়িক অবসায়ক (প্রবেশনাল লিকুইডেটর) হিসেবে মো. আসাদুজ্জামান খানকে নিয়োগ দেওয়া হয়।

আগে টাকা দিন পরে কথা বলুন, নইলে ভেতরে ঢুকানো হবে

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ০৭:৫৭ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

আর্থিক প্রতিষ্ঠান পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস থেকে ৫ লাখ টাকা এবং তার ওপরে ঋণ খেলাপি ১৩৭ জন আদালতে হাজিরা দিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার হাইকোর্টের কোম্পানি বেঞ্চের বিচারক মোহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকারের একক বেঞ্চে হাজিরা দেন পিপলস লিজিংয়ের ঋণ খেলাপিরা।

এ সময় ঋণ খেলাপি ও তাদের আইনজীবীদের উদ্দেশে ক্ষোভ প্রকাশ করে আদালত বলেন, আপনারা টাকা তুলে নিয়ে চলে গেছেন। আর যারা পিপলস লিজিংয়ে টাকা জমা রেখেছিল, তারা না খেয়ে রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। পিপলস লিজিংয়ের টাকা জনগণের টাকা, চোর-বাটপারদের টাকা না। আগে টাকা দিন, পরে কথা বলুন। তা না হলে ভেতরে (কারাগারে) ঢুকানো হবে।

এ সময় শুনানি করছিলেন আইনজীবী ড. সাঈদা নাসরিন। তার মক্কেল আদালতকে বলেন, তার কাছে ৩৮৪ কোটি টাকা পাওনা পিপলস লিজিংয়ের। এ সময় আদালত বলেন, আগে টাকা দেবেন, তারপর ইনস্টলমেন্টের আবেদন করবেন। না হলে কারাগারে ঢুকাব। এটা জনগণের জমানো টাকা। পিপলস লিজিংয়ের চোর-বাটপারদের টাকা না।

আদালত আরও বলেন, আমরা দেখছি হাজার হাজার কোটি টাকা নিয়ে এ কোম্পানিকে বাঁচিয়ে রেখে টাকা উদ্ধার করা যায় কি না। আমানতকারীরা আজকে খেয়ে না খেয়ে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরছেন। আমরা চেষ্টা করছি ঋণগ্রহীতাদের কাছ থেকে টাকা উদ্ধারের।

অবসায়ন প্রক্রিয়ার মধ্যে থাকা পিপলস লিজিংয়ের সাময়িক অবসায়ক (প্রবেশনাল লিকুইডেটর) মো. আসাদুজ্জামান খানের দেওয়া এ সংক্রান্ত তালিকা দেখে আদালত গত ২১ জানুয়ারি মোট ২৮০ জনকে তলব করেছিলেন। তাদের মধ্যে আদালত দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে হাইকোর্টে উপস্থিত হতে বলেন। তারই আলোকে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত দিনে আদালতে ১৪৩ জনের উপস্থিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ওইদিন পিপলস লিজিংয়ের ঋণখেলাপির তালিকায় থাকা ১৪৩ জনের মধ্যে ৫১ জন আদালতে হাজির ছিলেন। অন্যান্যরা কেউ কেউ আইনজীবীর মাধ্যমে সময় চেয়েছেন।

এদিন ১৪৩ জনের মধ্যে ৫১ জনের বাইরে যারা হাজির হননি তাদের বিষয়ে হাইকোর্ট বলেছেন, বাকিরা আদালতে উপস্থিত হওয়ার জন্য আরও একবার সুযোগ পাবেন। এর মধ্যে তারা উপস্থিত না হলে তাদের গ্রেফতার করে আনা হবে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন হাইকোর্ট।

১৯৯৭ সালের ২৪ নভেম্বর আর্থিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে পিপলস লিজিংকে অনুমোদন দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এরপর থেকে প্রতিষ্ঠানটি গ্রাহকের কাছ থেকে মেয়াদি আমানত ও বিভিন্ন ব্যাংক-আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে টাকা ধার করে ঋণ কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল।

২০১৮ সালের ডিসেম্বরে প্রতিষ্ঠানটির আমানত ছিল দুই হাজার ৩৬ কোটি টাকা। আর ঋণের পরিমাণ এক হাজার ১৩১ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপিই ৭৪৮ কোটি টাকা। অর্থাৎ খেলাপি ঋণের হার ৬৬ শতাংশ।

২০১৫ সাল থেকে ধারাবাহিক লোকসানের মধ্যে পড়ে প্রতিষ্ঠানটি। খেলাপিদের কাছ থেকে আদায় করতে না পারায় আমানতকারীদের টাকাও ফেরত দিতে পারছে না তারা। ২০১৯ সালের ১৪ জুলাই পিপলস লিজিং অবসায়নের জন্য আদালতে মামলা করে বাংলাদেশ ব্যাংক। পরে সাময়িক অবসায়ক (প্রবেশনাল লিকুইডেটর) হিসেবে মো. আসাদুজ্জামান খানকে নিয়োগ দেওয়া হয়।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন