গ্রেফতার মানিক আর সেই মানিক একই ব্যক্তি নন, হাইকোর্টে প্রতিবেদন
jugantor
গ্রেফতার মানিক আর সেই মানিক একই ব্যক্তি নন, হাইকোর্টে প্রতিবেদন

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

১৫ জুন ২০২১, ২১:১৪:৩০  |  অনলাইন সংস্করণ

গ্রেফতার মানিক আর সেই মানিক একই ব্যক্তি নন, হাইকোর্টে প্রতিবেদন

শরীয়তপুরে মাদকের মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মানিক মিয়ার বদলে কারাগারে আছেন মানিক হাওলাদার। উচ্চ আদালতের নির্দেশে গঠিত এক তদন্ত প্রতিবেদনে এ তথ্য ওঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গ্রেফতারকৃত মানিক হাওলাদারের বাবার নাম নজরুল ইসলাম হাওলাদার। আর মানিক মিয়া মূলত মানিক মৃধা, যার বাবার নাম ইব্রাহীম মৃধা। তবে মামলার নথিপত্রে মানিক মিয়ার বাবার নাম উল্লে­খ আছে নজরুল হাওলাদার।

শরীয়তপুরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. শামছুল আলম স্বাক্ষরিত চার পৃষ্ঠার এ প্রতিবেদনটি মঙ্গলবার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চে জমা দেওয়া হয়েছে। রিটকারী আইনজীবী পার্থ সারথী রায় যুগান্তরকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, এ বিষয়ে শুনানির জন্য আগামী রোববার হাইকোর্ট বেঞ্চে উপস্থাপন করা হবে।

২০০৯ সালের ২ জুন র‌্যাব অভিযান চালিয়ে সিরাজগঞ্জ থেকে ফেনসিডিলসহ চার ব্যক্তিকে আটক করে। র‌্যাবের পক্ষ থেকে ওই দিন সলঙ্গা থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে চার ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা করা হয়। আসামিদের একজন শরীয়তপুরের ব্যাপারী কান্দি গ্রামের মানিক মিয়া। গ্রেফতারের কিছুদিন পর তিনি জামিনে মুক্তি পান। এরপর থেকে তিনি পলাতক।

২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে এ মামলার রায়ে চার আসামিকে চার বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। মামলার সূত্রে নামের আংশিক মিল থাকায় গত বছরের ২৮ নভেম্বর মানিক হাওলাদারকে গ্রেফতার করা হয়। সেই থেকে তিনি সিরাজগঞ্জ জেলা কারাগারে আছেন। প্রকৃত নাম ও ঠিকানা যাচাই না করে নামের মিলে মানিক হাওলাদারকে কারাগারে পাঠানোর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে তার স্ত্রী সালমা বেগম ২ মার্চ রিট দায়ের করেন।

শুনানি শেষে গত ৮ মার্চ আসামি মানিক মিয়ার বদলে মানিক হাওলাদারের কারাভোগের অভিযোগের বিচারিক তদন্তের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। প্রকৃত অপরাধীকে চিহ্নিত করতে শরীয়তপুরের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে এই অনুসন্ধানের নির্দেশ দেওয়া হয়। একইসঙ্গে ৩০ দিনের মধ্যে অনুসন্ধান করে হাইকোর্টে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়। সিরাজগঞ্জের বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-১ ও জেল সুপারকে এই অনুসন্ধান কাজে সহযোগিতা করতে বলা হয়। বিচারপতি জেবিএম হাসান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এক রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে রুলসহ এই আদেশ দেন।

সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. শামছুল আলম স্বাক্ষরিত চার পৃষ্ঠার ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুলিশ এক মানিকের স্থলে আরেক মানিককে গ্রেফতার করে এবং আসল মানিকের বাড়ি মালতকান্দি গ্রামে। কারাগারের সংশ্লিষ্ট রেজিস্ট্রারে সংরক্ষিত মানিক মিয়ার ছবি ই-মেইলে সংগ্রহ করে তা প্রিন্ট করে সাক্ষী ইব্রাহিম মৃধাকে দেখালে তিনি এই ছবি দেখে তার ছেলে মানিকের বলে শনাক্ত করেন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, অভিযোগপত্রে তিন এবং রায়ের চার নম্বর আসামি মানিক মিয়া গ্রেফতারকৃত মানিক হাওলাদার একই ব্যক্তি নন। তারা সম্পূর্ণ ভিন্ন ব্যক্তি। পরোয়ানা জারির ব্যক্তি মানিক মিয়া মূলত মানিক মৃধা, যার বাবার নাম ইব্রাহিম মৃধা। তাদের গ্রামের বাড়ি ভেদরগঞ্জ উপজেলার মালতকান্দি গ্রামে। আর গ্রেফতারকৃত মানিক হাওলাদারের বাবা মৃত নজরুল ইসলাম হাওলাদার। তার বাড়ি ভেদরগঞ্জ উপজেলার আলমচান বেপারিকান্দি গ্রামে।

গ্রেফতার মানিক আর সেই মানিক একই ব্যক্তি নন, হাইকোর্টে প্রতিবেদন

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
১৫ জুন ২০২১, ০৯:১৪ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
গ্রেফতার মানিক আর সেই মানিক একই ব্যক্তি নন, হাইকোর্টে প্রতিবেদন
মানিক হাওলাদার (বামে) ও মানিক মিয়া ওরফে মানিক মৃধা। ছবি: সংগৃহীত

শরীয়তপুরে মাদকের মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মানিক মিয়ার বদলে কারাগারে আছেন মানিক হাওলাদার। উচ্চ আদালতের নির্দেশে গঠিত এক তদন্ত প্রতিবেদনে এ তথ্য ওঠে এসেছে। 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গ্রেফতারকৃত মানিক হাওলাদারের বাবার নাম নজরুল ইসলাম হাওলাদার। আর মানিক মিয়া মূলত মানিক মৃধা, যার বাবার নাম ইব্রাহীম মৃধা। তবে মামলার নথিপত্রে মানিক মিয়ার বাবার নাম উল্লে­খ আছে নজরুল হাওলাদার। 

শরীয়তপুরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. শামছুল আলম স্বাক্ষরিত চার পৃষ্ঠার এ প্রতিবেদনটি মঙ্গলবার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চে জমা দেওয়া হয়েছে। রিটকারী আইনজীবী পার্থ সারথী রায় যুগান্তরকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, এ বিষয়ে শুনানির জন্য আগামী রোববার হাইকোর্ট বেঞ্চে উপস্থাপন করা হবে। 

২০০৯ সালের ২ জুন র‌্যাব অভিযান চালিয়ে সিরাজগঞ্জ থেকে ফেনসিডিলসহ চার ব্যক্তিকে আটক করে। র‌্যাবের পক্ষ থেকে ওই দিন সলঙ্গা থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে চার ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা করা হয়। আসামিদের একজন শরীয়তপুরের ব্যাপারী কান্দি গ্রামের মানিক মিয়া। গ্রেফতারের কিছুদিন পর তিনি জামিনে মুক্তি পান। এরপর থেকে তিনি পলাতক। 

২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে এ মামলার রায়ে চার আসামিকে চার বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। মামলার সূত্রে নামের আংশিক মিল থাকায় গত বছরের ২৮ নভেম্বর মানিক হাওলাদারকে গ্রেফতার করা হয়।  সেই থেকে তিনি সিরাজগঞ্জ জেলা কারাগারে আছেন। প্রকৃত নাম ও ঠিকানা যাচাই না করে নামের মিলে মানিক হাওলাদারকে কারাগারে পাঠানোর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে তার স্ত্রী সালমা বেগম ২ মার্চ রিট দায়ের করেন।

শুনানি শেষে গত ৮ মার্চ আসামি মানিক মিয়ার বদলে মানিক হাওলাদারের কারাভোগের অভিযোগের বিচারিক তদন্তের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। প্রকৃত অপরাধীকে চিহ্নিত করতে শরীয়তপুরের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে এই অনুসন্ধানের নির্দেশ দেওয়া হয়। একইসঙ্গে ৩০ দিনের মধ্যে অনুসন্ধান করে হাইকোর্টে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়। সিরাজগঞ্জের বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-১ ও জেল সুপারকে এই অনুসন্ধান কাজে সহযোগিতা করতে বলা হয়। বিচারপতি জেবিএম হাসান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এক রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে রুলসহ এই আদেশ দেন। 

সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. শামছুল আলম স্বাক্ষরিত চার পৃষ্ঠার ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুলিশ এক মানিকের স্থলে আরেক মানিককে গ্রেফতার করে এবং আসল মানিকের বাড়ি মালতকান্দি গ্রামে। কারাগারের সংশ্লিষ্ট রেজিস্ট্রারে সংরক্ষিত মানিক মিয়ার ছবি ই-মেইলে সংগ্রহ করে তা প্রিন্ট করে সাক্ষী ইব্রাহিম মৃধাকে দেখালে তিনি এই ছবি দেখে তার ছেলে মানিকের বলে শনাক্ত করেন। 

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, অভিযোগপত্রে তিন এবং রায়ের চার নম্বর আসামি মানিক মিয়া গ্রেফতারকৃত মানিক হাওলাদার একই ব্যক্তি নন। তারা সম্পূর্ণ ভিন্ন ব্যক্তি। পরোয়ানা জারির ব্যক্তি মানিক মিয়া মূলত মানিক মৃধা, যার বাবার নাম ইব্রাহিম মৃধা। তাদের গ্রামের বাড়ি ভেদরগঞ্জ উপজেলার মালতকান্দি গ্রামে। আর গ্রেফতারকৃত মানিক হাওলাদারের বাবা মৃত নজরুল ইসলাম হাওলাদার। তার বাড়ি ভেদরগঞ্জ উপজেলার আলমচান বেপারিকান্দি গ্রামে। 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন